সারা দেশে শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় বিজয় দিবস উদযাপন

  • ১৬-Dec-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

আজ ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস বাঙালি জাতির আনন্দ-উৎসবের দিন। পাশাপাশি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পরাজয়ের দিন আজ। যথাযোগ্য মর্যাদা এবং নানা আয়োজন রাজধানীসহ সারা দেশে ব্যাপক শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে।   

মহান বিজয় দিবসের ভোরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। তিন বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল গার্ড অব অনার প্রদান করেন। পাশাপাশি এক মিনিট নিরবতা পালন করে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।

রাষ্ট্রীয়ভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দলের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্বে উপস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি কূটনীতিকবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি-তে বিজয় উৎসব উদযাপন করছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা সহযোগী সংগঠন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ব্যান্ড সোসাইটির আয়োজন করে স্লোগান একাত্তর নামে কনসার্টের।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, বাংলা একাডেমি, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়।

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় রাত ১২টা ১ মিনিটে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে প্রথমে শ্রদ্ধা জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার। এরপর পুলিশ সুপার মুহাম্মদ সাইদুর রহমান খান, জেলা আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

খুলনায় ১২টা ১ মিনিটে নগরীর গল্লামারি শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। পরে একে একে শ্রদ্ধা জানায় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সংস্কৃতি সংগঠন।

রাজশাহী কলেজ শহীদ মিনার চত্ত্বরে নানা বয়সী মানুষের ঢল নামে। এ সময় মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদের স্মরণ করে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তারা। এসময় বিজয়ের আনন্দে ছড়িয়ে পড়ে সবার মাঝে। একে একে বিভিন্ন সামাজিক এবং রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা জানায়।

শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মহান বিজয় দিবসের ৪৭তম পূর্তি উৎসব পালন করা হয়েছে। বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে শহরের ফারুকী পার্কের পাশে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির শুভ সূচনা করা হয়। এরপর শহীদ বেদীতে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর-৩ আসনে আওয়ামী লীগের সাংসদ র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী। পরে বিভিন্ন স্তরের মানুষ শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা জানায়।  

রংপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। সকালে নগরীর প্রবেশদ্বার মডার্ন মোড়ে অবস্থিত স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে দিবসটির কার্যক্রম শুরু হয়। রংপুর বিভাগীয় কমিশনার রমিদুল ইসলাম রংপুর রেঞ্জের পুলিশের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আব্দুল আলীম মাহমু্দ‌, জেলা প্রশাসক এনামুল হাবিব, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এরপর রাজনৈতিক, সামাজিক এবং বিভিন্ন স্কুল কলেজের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

নানা বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে লক্ষ্মীপুরে উদযাপিত হয়েছে ৪৭তম মহান বিজয় দিবস। দিবসটি উপলক্ষে রোববার সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে বিজয় চত্ত্বর স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল । বিজয় চত্ত্বরে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন পর্যায়ক্রমে পুলিশ সুপার আ স ম মাহাতাব উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম সালউদ্দিন টিপু, জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক এবং পেশাজীবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা।

খাগড়াছড়িতে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে মহান বিজয় দিবস। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে চেঙ্গী স্কয়ার সংলগ্ন স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে প্রথমে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর শরণার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান (প্রতিমন্ত্রী) কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি, পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাব, সাংবাদিক ইউনিয়ন শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এরপরে সর্বস্তরের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ।

মেহেরপুরে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। ভোরে শহীদ সামসুজ্জোহা পার্কে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্যে দিয়ে কর্মসূচির শুরু হয়। সাড়ে ৬টায় কলেজ মোড়ে অবস্থিত শহীদ মিনারে জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গনি পুষ্মমাল্য অর্পণ করে। পরে পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমানসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে পুষ্মমাল্য অর্পণ করা হয়।

টাঙ্গাইলে যথাযোগ্য মর্যাদার মধ্যে দিয়ে বিজয় দিবস উদযাপিত হচ্ছে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে বিজয় দিবসের কর্মসূচির উদ্বোধন করেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম এবং পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়। পরে সেখানেই শহীদদের স্মরণে ৩১ বার তোপধ্বনি, শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। এ ছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে একটি বিজয় শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। টাঙ্গাইল জেলা স্টেডিয়ামে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ প্রদর্শন করেন।

দিনাজপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্ত্বরে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম। পরে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এসময় জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্ত্বরে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য।

ঝালকাঠিতে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে মহান বিজয় দিবস পালন করা হয়েছে। সকালে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে স্বাধীনতার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক। এরপরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয় শহীদদের প্রতি।   

নড়াইলে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে সূচনা হয় বিজয় দিবসের নানা কর্মসূচি। জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শহীদের স্মৃতিস্তম্ভ, গণ কবর, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

শেরপুরে সদর থানা প্রাঙ্গনে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান বিজয় দিবসের কর্মসূচি শুরু করা হয়। রোববার ভোর সাড়ে ৬টায় জেলা মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিউর রহমান আতিক।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সকাল ৯টা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলন শেষে ভাইস-চ্যান্সেলর ড. রাশিদ আসকারীর নেতৃত্বে এক আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্ত বাংলায় সমবেত হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়ক দ্বীপসমূহ জাতীয় পতাকা ও অন্যান্য পতাকার সাজে সজ্জিত করা হয়েছে। সকল সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্ত্বশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাসমূহ আলোক সজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে সংবাদপত্রসমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে আজ। এ উপলক্ষে ইলেকট্রনিক মিডিয়াসমূহ দিনব্যাপী মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছে।

Ads
Ads