টেকনাফের ইয়াবা রাজ্যের নতুন সম্রাট মনির

  • ২৯-Sep-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

সিনিয়র প্রতিবেদক

আবদুল্লাহ মনির টেকনাফের যুবদল নেতা।  টেকনাফ পৌরসভার বিনাপ্রতিদন্ধিতায় নির্বাচিত কাউন্সিলার। তার সাথে প্রতিদ্ধিতা করার সাহস টেকনাফে কারো নেই।  কোন প্রতিদ্ধিতা ছাড়াই হয়েছেন টেকনাফ পৌরসভা  প্যানেল মেয়র। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর পরথেকে যেখানে টেকনাফের সব জনপ্রতিনিধি পালিয়ে গেছে সেই সময় টেকনাফ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন এই আবদুল্লাহ মনির। সুশীল সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে বিচরণ করছেন র‍্যাব, বিজিবি, পুলিশ সহ প্রতিটি দপ্তরে। অথচ এই আবদুল্লাহ মনিরের হাতেই এখন টেকনাফের ইয়াবা ব্যাবসার নিয়ন্ত্রন। দেশের ইয়াবা জগতের নতুন রাজা এই টেকনাফের কাউন্সিলার আবদুল্লাহ মনির। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে টেকনাফে আন্ডারওয়াল্ডের ডন আবদুল্লাহ মনিরের নান অজানা তথ্য।

টেকনাফের কাউন্সিলার আবদুল্লাহ মনির ১২ বছর আগে পরিচয় ছিলো টেকনাফ পৌর বিএনপির সভাপতি আবুল কালামের পুত্র হিসেবে। বিএনপি সভাপতির পুত্র পরিচয়ে করতেন ছাত্রদলের রাজনীতি। ২০০৯ সালে বিয়ে করেন দেশের শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী সাইফুল করিমের বোন সাফা করিমকে। এর পরথেকে খূলে যেতে থাকে আবদুল্লাহ মনিরের ভাগ্যের চাকা। জড়িয়ে পড়েন ইয়াবা পাচারে। পাশাপাশি শুরু করেন হুন্ডিব্যবসা, টেকনাফ বন্দর দিয়ে কাঠের ব্যবসা, টেকনাফ করিডোর দিয়ে গরুর ব্যবসা। অার বিনাপ্রতিদন্ধিতায়  পৌর কাউন্সিলার হয়েতো এখন সে জনপ্রতিনিধি।

টেকনাফের ইয়াবা অধ্যুসিত কুলালপাড়ার  আবদুল্লাহ মনিরের গত ৮-৯ বছরে শূন্য থেকে এখন কোটি কোটি টাকার মালিক। তার এই উর্থানের পুরোটাই ছিলো ইয়াবা ও অবৈধ হুন্ডি ব্যাবসা। মনিরের শ্বশুর বাড়ি ১৫ জন সদস্য তালিকাভূক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী। দেশের ইয়াবা পাচারের শীর্ষে রয়েছে আবদুল্লাহ মনিরের বউএর সেঝভাই সাইফুল করিম ও তার ভাইরা।  পাশাপাশি তার পরিবারের আরো ১৪ জনের নাম আছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের ইয়াবা ব্যবসার তালিকায়। কিছুদিন আগে আবদুল্লাহ মনিরের বোনের জামাই নুরুল আমিন বিপুল পরিমান ইয়াবা সহ বান্দরবনের নাইক্ষংছড়িতে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। 

 দেশের শীর্ষ ইয়াবা পরিবার টেকনাফের শিলবনিয়া পাড়ার ডাক্তার হানিফের ৭ ছেলে তালিকাভূক্ত ইয়াবা ব্যাবসায়ী শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী সাইফুল করিম, রেজাউল করিম, রফিকূর করিম, জিয়াউল করিম, মাহাবুবুল করিম, আরশাদুল করিম মিলে সারাদেশে সবচেয়ে বড় ইয়াবা সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এই সিন্ডিকেটের আরেক সদস্য হলো তাদের একমাত্র বোনের জামাই কাউন্সিলার আবদুল্লাহ মনির। 
সাইফুল করিমদের ৭ ভাইয়ের একবোন হলো সাফা করিম। ইয়াবা ব্যবসায়ী ৭ ভাই মিলেই ছোট বেনের জামাইকে নিজেদের দলে টেনে নেন। বোনের জামাই আবদুল্লাহ মনিরকে নিয়ে ভিন্ন কৌশল তৈরি করেন। এক সময় ইয়াবা পাচারকারীদের তালিকায় নাম থাকলেও বিভিন্ন সরকারী সংস্থার লোকজনের সাথে সখ্যতা তৈরি করে নিজের নাম ইয়াবা ব্যবসায়ীর তালিকা থেকে কাটিয়ে নেন।

অনুসন্ধানে জানাগেছে, মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনের অভিযান শুরুর পর সাইফুল করিম ও তার ৬ ভাই পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের অনুপস্থিতে এখন দেশের সবচেয়ে বড় এই ইয়াবার সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আবদুল্লাহ মনির। মিয়ানমার থেকে কাঠ, গরু ও চাল বোঝাই ট্রলারে করে ইয়াবা এনে তা সারা দেশে পাচার করছে কাউন্সিলার মনির। এই জন্য তিনি নতুন করে তৈরি করেছেন একটি বিশাল সিন্ডিকেট। নতুন এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা চিহ্নীত নাহওয়ায় তাদেরকে ধরতে পারছে আইন শৃঙ্খলা  রক্ষাকারী বাহিনী। 

কাউন্সিলার আবদুল্লাহ মনির স্বীকার করেছেন হাজী সাইফুল করিম তার বউএর বড় ভাই। সাইফুল করিমরা ৭ ভাই তালিকাভূক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী। তবে কাউন্সিলার মনির জান তার বউএর ভাইদের সাথে তার পরিবারের কোন যোগাযোগ নেই। শুধুমাত্র সামাজিক অনুস্ঠানেই তাদের দেখা হয়। নিজের ইয়াবা ব্যবসার জড়িত থাকার কথা অস্বিকার করেন কাউন্সিলার মনির। তার পিতা বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও তিনি কোন রাজনৈতিক দল করেননা বলে তিনি দাবি করেন। 

টেকনাফ থানার ওসি রন্জিত বড়ুয়া জানান, কাউন্সিলার মনির বিএনপি পরিবারের সন্তান।  ইয়াবা ব্যবসায়ী সাইফুলের বোনের জামাই পৌর কাউন্সিলার আবদুল্লাহ মনির। তাদের ভেতরে পারিবারিক সুসম্পর্ক আছে। কাউন্সিলার  মনির মিয়ানমার থেকে গরু ও কাঠের ব্যবসা করে। তবে সে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের যেই তালিকা আছে তাতে কোথাও কাউন্সিলার আবদুল্লাহ মনিরের নাম নেই।

Ads
Ads