বাংলাদেশ ব্যাংকে জামায়াত-বিএনপির প্রেতাত্না!

  • ১৯-Sep-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: উৎপল দাস ::

দেশের অর্থ ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু বাংলাদেশ ব্যাংকে সরকার বিরোধী জামায়াত-বিএনপির প্রেতাত্মারা ভর করেছে। তাদের আছর থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে মুক্ত করতে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির নিজেই বিএনপিপন্থী। তার আদর্শ বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এমনটা বরাবরই প্রমাণ হয়েছে। 

সর্বশেষ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত “বাংলাদেশ ব্যাং কের ইতিহাস” নামক বইয়ের কোথাও স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি স্থান পায়নি। অথচ বইটিতে পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খান এবং পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খানের মোট চারটি ছবি ছাপা হয়েছে। ভোরের পাতায় এ ঘটনা নিয়ে খবর প্রকাশের পর তার জের ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরকে ডেকে তিরস্কার করেছেন। সোমবার  বিকালে প্রধানমন্ত্রী তাকে এমন হীন কাজের জন্য তিরস্কারের পাশাপাশি দোষীদের শাস্তির নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের জন্য নতুন গভর্নর খোঁজার কাজও শুরু করেছেন সরকার। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও নির্ভরযোগ্য সূত্র বিষয়টি ভোরের পাতাকে নিশ্চিত করেছে। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ব্যক্তিগতভাবে বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের সঙ্গে সখ্যতা রেখে চলেছেন নিয়মিত। এমনকি মির্জা আব্বাসের ব্যাংক ঢাকা ব্যাংক লিমিটেডের নানা অনিয়ম ধামাচাপা দিতেও অনৈতিকভাবে হস্তক্ষেপ করেছেন গভর্নর। এছাড়া বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদ, সাবেক অর্থ সম্পাদক আব্দুস সালাম, দপ্তর সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনির সঙ্গেও ব্যবসায়িক লেনদেন করেছেন। 

একই সঙ্গে জামায়াতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখে চলেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামান। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় সক্রিয় শিবির ক্যাডার ছিলেন এই মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন ব্যাংকে জামায়াতের লোকজনের ঋণ গ্রহণের বিষয়ে সুপারিশ করারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া ডেপুটি গভর্নর আল রাজ্বী হাসানের বিরুদ্ধেও সরকার বিরোধী মনোভাব পোষণের অভিযোগ রয়েছে। খোদ বাংলাদেশ ব্যাংকের অনেক কর্মকর্তাই বলেছেন, এই তিনজন বাংলাদেশ ব্যাংকে সরকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরতে খুব একটা আগ্রহী নন। তাদের আদর্শিক সমস্যা থাকার কারণেই প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি প্রায় সময়ই তারা নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সোনা কেলেঙ্কারি ফাঁস হয়ে যাওয়া এবং তা নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য পরিবেশন করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার পাঁয়তারাও করেছিলেন গভর্নর ফজলে কবিরের নেতৃত্ব ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামান এবং আল রাজ্বী হাসান। ভবিষ্যতেও তারা সরকারকে আবারো ঝামেলায় ফেলতে পারেন বলে আশংকা করছেন অনেকে।

Ads
Ads