যুদ্ধাপরাধী ও জঙ্গি মদদদাতারাই ধানের শীষের প্রার্থী

  • ১০-Dec-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

উৎপল দাস
স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ৭৫ এর ১৫ আগস্ট সপরিবারে হত্যার পর থেকেই এদেশে যুদ্ধাপরাধীদের পৃষ্ঠপোষকতা করা হয়েছে। এমনকি এরশাদের স্বৈরশাসনের পর বিএনপি দুইধাপে ক্ষমতায় এসে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রিত্ব দিয়ে গাড়িতে জাতীয় পতাকা উড়ানোর ব্যবস্থাও করেছিল। আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও দলটি যুদ্ধাপরাধীদের প্রতি বিশেষ প্রেম দেখিয়েছে। দলটি কয়েকজন যুদ্ধাপরাধীদের ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন দিয়েছে। 

তাদের মধ্যে  মওলানা আব্দুল হাকিম (ঠাকুরগাঁও-২) এ ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী। তার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রয়েছে। ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি এলাকায় আলবদর বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসাবে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সহায়তা করেন। সে সময়ে তিনি ছাত্রসংঘের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। 

গাজী নজরুল ইসলাম (সাতক্ষীরা-৪) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী। তিনি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত। মুক্তি যুদ্ধের সময় তিনি ছাত্রসংঘের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন এবং আলবদর বাহিনীর সদস্য হিসাবে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছিলেন।

আ .ন. ম শামসুল আলম (চট্টগ্রাম-১৫)আসনে ধানের শীষ প্রতীকে জামায়াতের প্রার্থী। তিনি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি আল বদরের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ছাত্রসংঘের সাবেক নেতা ও জামায়াতের ডোনার।

বগুড়া-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মাসুদা মোমিন তালুকদার। তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আব্দুল মোমিন তালুকদারের স্ত্রী। আব্দুল মোমিন তালুকদার মুক্তিযুদ্ধের সময় এলাকায় রাজাকার কমান্ডার ছিলেন।

পিরোজপুর-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী যুদ্ধাপরাধের অপরাধে যাবজ্জীবন দণ্ডিত আসামি জামাত নেতা, চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর পুত্র শামীম বিন সাঈদী।

জঙ্গি মদদ দাতা হিসাবে পরিচিত যারাঃ আলমগীর কবির (নওগাঁ-৬)-উত্তরবঙ্গে জঙ্গিবাদ বিস্তারে প্রত্যক্ষ মদদ দেন।নাদিম মোস্তফা (রাজশাহী-৫)- রাজশাহীতে জঙ্গিবাদের বিস্তারে অগ্রণী ভুমিকা পালন করেন।  রুহুল কুদ্দুস দুলু (নাটোর-১)- নাটোরসহ উত্তরবঙ্গে জঙ্গিবাদ বিস্তারে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ব্যরিস্টার আমিনুল হক (রাজশাহী-১)- তার প্রত্যক্ষ মদদে রাজশাহীসহ উত্তরবঙ্গে জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটে। মিজানুর রহমান মিনু (রাজশাহী-২)-তার প্রত্যক্ষ মদদে রাজশাহীতে জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটে।সুলতান সালাউদ্দীন টুকু (টাঙ্গাইল-২)। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আব্দুস সালাম পিন্টু এর ছোট ভাই। সে নিজেও জঙ্গি মদদ দাতা।

বিতর্কিত ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের সাথে সম্পর্কিত প্রার্থীঃ ইসহাক চৌধুরী (চট্টগ্রাম-৪) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী। তিনি দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে ভারতে বসে মোসাদের সাথে গোপন বৈঠক করা বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর বড় ভাই। রিটা রহমান (রংপুর-৩) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী। তিনি বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় ৪ নেতার হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত মেজর (অবঃ) খায়রুজ্জামানের স্ত্রী। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি লুৎফরুজ্জামান বাবরের স্ত্রী তাহমিনা জামান নেত্রকোনা-৪ থেকে ধানের শীষের প্রার্থী।

Ads
Ads