যে কারণে খালেদা জিয়ার মনোনয়নের পক্ষে ছিলেন ইসি মাহবুব

  • ৮-Dec-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মনোনয়ন প্রশ্নে নির্বাচন কমিশন (ইসি) বিভক্ত আদেশ দিয়েছে। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিবেচনায় আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিন আসনেই তার মনোনয়ন অবৈধ বলে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেয়া আদেশ বহাল রাখা হয়েছে।

খালেদা জিয়া এবার ফেনী-১ এবং বগুড়া-৬ ও ৭ আসনে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু, দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হওয়ায় তার তিনটি মনোনয়নপত্র বাতিল করেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা।

শনিবার (০৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে খালেদা জিয়ার আপিল নিষ্পত্তি করে নির্বাচন কমিশন।

সেখানে খালেদা জিয়ার আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী মনোনয়ন বৈধতার বিষয়ে যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন।

সেখানে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘আইনি দিক বিবেচনায় আমি খালেদা জিয়ার মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করে রিটার্নিং কর্মকর্তার দেয়া সিদ্ধান্ত সঠিক হয়নি বলে মনে করছি। তিন আসনেই তার প্রার্থিতা আমি বৈধ বলে ঘোষণা করছি।’

জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার খালেদা জিয়ার আপিল মঞ্জুর করলেও সিইসি কেএম নূরুল হুদা এবং বাকি তিন কমিশনার শাহাদাত হোসেন, রফিকুল ইসলাম ও কবিতা খানম খালেদা জিয়ার আপিল নামঞ্জুর করেছেন।

পরে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার খালেদা জিয়ার আপিল মঞ্জুর করে তিন আসনেই তাকে বৈধ প্রার্থী বলে ঘোষণা করেন। কিন্তু, নির্বাচন কমিশনে আসা নিষ্পত্তি তিনি একা করেছেন না। সিইসিসহ বাকি কমিশনাররা খালেদা জিয়ার বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছেন। ৪-১ ভোটে আপিল নামঞ্জুর করা হয়েছে। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিচারে খালেদা জিয়া তিন আসনেই নির্বাচন করার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।’

এর আগে সকালে এক দফা শুনানি করে খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বৈধ হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সন্ধ্যায় দ্বিতীয় দফা শুনানি করে চূড়ান্ত রায় দেয়া হয়।

নির্বাচন ভবনের ১১তলায় অবস্থিত অস্থায়ী এজলাসে শুনানিতে অংশ নেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী। তার সঙ্গে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।

শুনানিতে আইনজীবীরা বলেন, ‘যে গ্রাউন্ডে তার (খালেদা) মনোনয়ন রিটার্নিং কর্মকর্তারা বাতিল করেছেন, তা সঠিক হয়নি।’

প্রথম দফা শুনানি শেষে জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন আরপিও ১২ ডিএ আইন অনুযায়ী রিটার্নিং কর্মকর্তা যে গ্রাউন্ডে খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বাতিল করেছেন, তা নির্বাচন কমিশনের আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আমরা কমিশনের কাছে আইনের বিষয়গুলো তুলে ধরেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আইনগতভাবে নির্বাচন করার অধিকার খালেদা জিয়ার আছে। আমরা চাই, নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। তাকে নির্বাচনে যাওয়ার অনুমতি দেবে।’

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। তবে আপিল বিভাগে তার সাজা বেড়ে ১০ বছর হয়। পরে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিচারিক আদালতে খালেদা জিয়ার ৭ বছরের কারাদণ্ড হয়।

Ads
Ads