নির্বাচন করতে পারবেন না আমান-জাহিদসহ বিএনপির ৫ নেতা

  • ২৭-Nov-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার সাজা স্থগিত চেয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় ৫ নেতার করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ কারণে তারা নির্বাচন করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন আদালত।

বিএনপির সেই পাঁচ নেতা হলেন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উলাহ আমান, বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসকদের নেতা ডাঃ এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন, খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি ওয়াদুদ ভূঁইয়া, ঝিনাইদহ-২ এর সাবেক সাংসদ ও ঝিনাইদহ বিএনপির সভাপতি  আলহাজ্ব মো. মশিউর রহমান এবং ঝিনাইদহ-১ আসনের সাবেক ও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. আব্দুল ওহাব।

মঙ্গলবার (২৭ নভেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আবেদন খারিজ করার সঙ্গে সঙ্গে ফৌজদারি কার্যবিধির বিধান অনুসারে দণ্ড (কনভিকশন) স্থগিতের সুযোগ নেই বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছেন, যদি আপিল বিভাগে সাজা স্থগিত না করা হয়, তাহলে দুই বছরের বেশি সাজাপ্রাপ্ত কারোরই নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করার সুযোগ নেই। সে ক্ষেত্রে আপিল বিভাগই তাদের একমাত্র ভরসা। হাইকোর্টে আপিল পেন্ডিং অবস্থায় সাজা স্থগিতের বিধান নেই বলেও পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

ফলে, আপিলকারীরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না এবং খালেদা জিয়াসহ অন্য দণ্ডিতদের নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ থাকছে না বলে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

আদালতে সাবেক প্রতিমন্ত্রী আমান উল্লাহ আমানের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জাহিদুল ইসলাম। ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, আহসানুল করীম ও খায়রুল আলম চৌধুরী। ওয়াদুদ ভুঁইয়া ও আব্দুল ওহাবের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রফিক-উল-হক ও ব্যারিস্টার এ কে এম ফখরুল ইসলাম।

মশিউর রহমানের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার আমিনুল হক ও ব্যারিস্টার মাহবুব শফিক। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশিদ আলম খান ও রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

এ প্রেক্ষাপটে দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত ও সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে থাকা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ অন্য দণ্ডিতরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না?-এ বিষয়ে দুদকের আইনজীবী মো. খুরশিদ আলম খান বলেছেন, হাইকোর্টের এই আদেশে অন্য দণ্ডিত ও সাজাপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। ফলে খালেদা জিয়াসহ অন্য দণ্ডিতদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকছে না।

আদালতের পর্যবেক্ষণের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘নিম্ন আদালতে দুই বছরের বেশি দণ্ড হলে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। তবে, আপিল বিভাগে দণ্ড স্থগিত ও জামিন হলেই কেবল অংশ নিতে পারবেন।

এর আগে সোমবার (২৬ নভেম্বর) এই পাঁচ নেতার ফৌজদারি কাযর্বিধির ৪২৬ ধারা অনুসারে দণ্ড স্থগিত চেয়ে করা আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হয়।

দুদকের আেইনজীবী খুরশীদ আলম খান আরও বলেন, ‘পাঁচজনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এক্ষেত্রে আদালত সুনিদিষ্টভাবে বলেছেন, সংবিধানের ৬৬(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ফৌজদারি মামলায় দুই বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত হলে আপিল বিভাগে তা স্থগিত না হওয়া পর্ন্ত কেউ নিবাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধিতে যা কিছুই থাকুক না কেন, সংবিধানই এখানে প্রাধান্য পাবে।’

মামলার বিবরণে জানা যায়, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, তথ্য গোপন ও দুর্নীতির মাধ্যমে ৬ কোটি ৩৬ লাখ ২৯ হাজার ৩৫৪ টাকার সম্পদ অর্জন করায় ওয়াদুদ ভুঁইয়াকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্পেশাল জজ মোট ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানার রায় দেন। তিনি এ বিষয়ে আপিল করে ২০০৯ সালের ২৮ এপ্রিল ২০০৯ সালে জামিন লাভ করেন।

এ ছাড়া জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৯৩ লাখ ৩৬৯ টাকার সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপন করায় মো. আবদুল ওহাবকে যশোর স্পেশাল জজ গত বছরের ৩০ অক্টোবর ৮ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ত্রিশ হাজার টাকার জরিমানা করে রায় দিয়েছেন। তিনি এ বিষয়ে আপিল করে ৬ ডিসেম্বর জামিন নিয়েছেন।

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত প্রায় ১০ কোটি ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৩০০ টাকা অবৈধভাবে অর্জনের অভিযোগে ২০০৮ সালের ১৪ ডিসেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় কুষ্টিয়ার তৎকালীন সহকারী পরিচালক মোশারফ হোসেন মৃধা মামলা করেন।

এ মামলায় ২০১৭ সালের ২৫ অক্টোবর ঝিনাইদহ-২ (সদর ও হরিণাকুন্ডু) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মশিউর রহমানকে পৃথক ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। একই সঙ্গে, ৭০ হাজার টাকা জরিমানা ও ১০ কোটি ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৩৩০ টাকার সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেয়া হয়। পরবর্তীতে তিনি আপিল করে হাইকোর্ট থেকে জামিন নেন।

আমান উল্লাহ আমানকে দুর্নীতির মামলায় ২০০৭ সালের ২১ জুন বিচারিক আদালত ১৩ বছরের সাজ দেন। পরে তিনি আপিল করে হাইকোর্ট থেকে জামিন নেন বলে জানান আমিন উদ্দিন মানিক।

/ই

Ads
Ads