নিরাশায় নিস্তব্ধ ফরিদপুর-১ আসনের মানুষ

  • ২৬-Nov-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফরিদপুর-১ (আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালী) আসনের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী, সাধারণ মানুষ ও ভোটাররা নিরাশায় দুলছে। এই আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনজুর হোসেনকে মনোনয়ন দেওয়ার পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনী উন্মাদনা থেমে গেছে। নিস্তব্ধ হয়ে গেছে আশাবুক বাঁধা মানুষেরা। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমান সংসদ সদস্য আব্দুর রহমানের বাদ পরাটা সাধারণ ভোটারদের কাছে খুবই প্রত্যাশিত ছিল। গত প্রায় দশ বছরে বিভিন্ন কারণে তিনি বিতর্কিত হয়ে পড়েছিলেন। এলাকার তার নেতিবাচক ভাবমূর্তির কারণে মানুষ তাকে চাইছিল না। 

তবে তারা প্রত্যাশা করেছিলেন, এবার নৌকার প্রার্থী হবেন কর্মীবান্ধব ও জনবান্ধব কেউ। তৃণমূলে যার পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা রয়েছে। কিন্তু মনোনয়ন ঘোষণার পর তাদের প্রত্যাশার আংশিকপূরণ হয়েছে। তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বলেন, এই আসনে গত কয়েক বছর ধরে সরকারের উন্নয়ন কাজের প্রচার করে সাধারণ মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন এমন কয়েকজন প্রার্থী ছিলেন। সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য কাজী সিরাজুল ইসলাম, কৃষক লীগের কেন্দ্রীয়-সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আরিফুর রহমান দোলন ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত সিকদারের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ-সম্পর্ক রয়েছে। 

এদের মধ্যে কাউকে প্রার্থী করা হলে ভোটারদের মধ্যে উচ্ছ্বাস থাকতো। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা সহজে মাঠে নামতো। সাধারণ মানুষের মধ্যেও ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হতো। এখন সেটা নেই। বোয়ালমারী উপজেলার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, মনজুর হোসেন সরকারের একাধিক মন্ত্রণালয়ের সচিব ছিলেন। কিন্তু এলাকার জন্য কিছুই করেননি। তারপর অবসরে এসে রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হওয়ার পরও কিছু করতে পারেননি। আলফাডাঙ্গার টগরবন্দ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, হাতেগোনা কয়েকজন লোকই তার সঙ্গে সব সময় ঘুরে বেড়ায়। এরা তার আপন আত্মীয়-স্বজন। এর বাইরে কেউ তার সঙ্গে যুক্ত না। যারা এই আসন থেকে মনোনয়ন চেয়েছিল তাদের সঙ্গেও তার ভালো যোগাযোগ নেই। 

বোয়ালমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মীরদাহ পিকুল গণমাধ্যমকে বলেন, জনগণ যাকে চেনে না, জানে না, তাকে ভোট দিবে কীভাবে? তিনি তো কখনো সাধারণ মানুষের কাছে যাননি। এত কম সময়ে সাধারণ মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে ভোট আদায় করা কঠিন হবে। 

আলফাডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল বাশার বলেন, নৌকার প্রার্থী মনজুর সাহেব রাজনীতিতে নতুন। তিনি তো কখনো আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সেইভাবে সক্রিয় ছিলেন না। এখন হঠাৎ করে রাজনীতিতে এসেছেন। ভোটের রাজনীতিতে এত নতুন মুখ দিয়ে কতটুকু কী হয়, কে জানে। 

স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা বলেন, প্রার্থী মনে করছেন, তিনি নৌকা পেয়েছেন। এখন আর চিন্তা নেই। এই চিন্তা দিয়ে তো জয় আসবে না। কারণ এবারের ভোটে বিএনপির প্রার্থী হচ্ছে শাহ মো. আবু জাফর। মনজুর হোসেনের তুলনায় প্রার্থী হিসেবে তিনি তো বেশ শক্ত প্রার্থী। তাকে মোকাবিলা করতে জনপ্রিয়দের মধ্য থেকে কেউ প্রার্থী হলে জয় সহজ হতো। 

আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহাদুল হাসান আহাদ বলেন, ‘আসলে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার অর্ধেক প্রাপ্তি হয়েছে। এখন যাকে প্রার্থী হিসেবে বাছাই করা হয়েছে, তাকে ব্যাপকভাবে পরিচিত করাতে হবে। এটা অবশ্যই সহজ হবে না।’ 

মধুখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হক বকু বলেন, ‘মনজুর হোসেনের সঙ্গে তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের যোগাযোগ-সম্পর্ক নেই বললেই চলে। এখন অনেকে চুপ হয়ে আছে। কী করবে বুঝে উঠতে পারছে না।’

Ads
Ads