ওবায়দুল কাদেরের হ্যাট্রিক জয়ের হাতছানি

  • ২১-Nov-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট) আসনটি জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শুধু জেলায় নয়, দেশব্যাপী আলোচিত এই আসনটি। বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের নির্বাচনী এলাকা হওয়ায় এ আসনটি ভিআইপি হিসেবে পরিচিত। দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর নির্বাচনী লড়াইয়ের কারণে জাতীয়ভাবে সবার দৃষ্টি থাকে এ আসনের দিকে। দিন যত ঘনিয়ে আসছে ততই উত্তাপ বাড়ছে কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট- উপজেলার রাজনীতিতে। যদিও ভোটের মাঠে বিএনপি নেই, তবুও ভেতরে ভেতরে বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

নোয়াখালী-৫ আসনে দেশের বড় দুই দলের একক প্রার্থী হিসেবে লড়াই করবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ।

আসনটিতে গত দুই নির্বাচনে জয়ী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবার টানা তৃতীয় জয়ের আশায়। তার পক্ষে অনানুষ্ঠানিক প্রচারও শুরু হয়ে গেছে। কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট উপজেলায় আলাদা কমিটি গঠন করে ভোটারদের দুয়ারে যাচ্ছেন নেতারা।

আসনটিতে ১৯৯১ সাল থেকেই টানা নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন কাদের। এর মধ্যে ১৯৯৬ ও ২০০৮ এবং ২০১৪ সালে জয় পান তিনি। এবার জিতলে ওই আসনে হ্যাটট্রিক জয়ের রেকর্ড গড়বেন তিনি।

বিএনপির পক্ষে প্রার্থী দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ। দুইবার তাকে ভোটে হারিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর থেকে নোয়াখালীতে বেশিরভাগ সময় আওয়ামী লীগ বিরোধীরা ভালো করেছে। তবে পরিস্থিতি পাল্টাচ্ছে ধীরে ধীরে। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কর্মকা- যেমন বেড়েছে তেমনি গত ১২ বছরে এলাকায় দৃশ্যমান উন্নয়নও হয়েছে। আর ওবায়দুল কাদের মন্ত্রী থাকায় তিনিও অবদান রেখেছেন নানা প্রকল্প পাসে।

ভোটের প্রচারে আওয়ামী লীগ এগিয়ে বিএনপির সিদ্ধান্তহীনতার কারণে। তারা ভোটে যাবে নাকি ২০১৪ সালের মতো ভোট ঠেকানোর আন্দোলন করবে- এ নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেছিলেন, যদিও এখন নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে যাচ্ছেন।

কোম্পানীগঞ্জে ওবায়দুল কাদেরের ভাই বসুরহাট পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জা এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল আওয়ামীলীগ নেতার হয়ে প্রচার ও গণসংযোগের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন।

ওবায়দুল কাদেরও এলাকায় নিয়মিত যাতায়াত করেন এবং এলাকার খোঁজখবর নেন। নেতাকর্মীদের সঙ্গেও তার যোগাযোগ সরাসরি।

বসুরহাটে পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেন, ‘এই আসনে ওবায়দুল কাদেরের বিকল্প নেই। তিনি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। বিশেষ করে কোম্পানীগঞ্জবাসীর দুঃখ নদী ভাঙন রোধে ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে মুছাপুর ক্লোজার বাঁধ নির্মাণ হয়েছে, জলাবদ্ধতা নিরসনে নোয়াখালী খালসহ বিভিন্ন প্রকল্পে ৩৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। নোয়াখালী-চট্টগ্রাম যাতায়াতে সহজ করতে সোনাপুর-জোরালগঞ্জ সড়ক নির্মাণ ও একটি সেতুসহ ২৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। এ আসনে বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করায় জনগণের আস্থা অর্জন করে নিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। তাই আমরা আশাবাদী, আগামী নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় লাভ করব।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল বলেন, ‘প্রার্থী হিসেবে ওবায়দুল কাদেরের তুলনা হয় না। তিনি শুধু এ আসনে নয়, সমগ্র বাংলাদেশে তিনি জনপ্রিয়। বিগত ৯ বছরের উন্নয়ন অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে জনপ্রিয়তার অনন্য উচ্চতায় এখন ওবায়দুল কাদের।

মওদুদকেও একমাত্র প্রার্থী বলছেন বিএনপি নেতারা। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল হাই সেলিম বলেন, ‘মওদুদ আহমদের বিকল্প কেউ নেই দলে। আর তিনি নিয়মিত এলাকায় এসে দলের কার্যক্রম তদারকিও করছেন। মন্ত্রী থাকাকালে এ আসনে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তাই আমি মনে করি, তিনি প্রার্থী হলে অন্য কেউ জিততে পারবেন না।

তবে দুই দলের হেভিওয়েট দুই নেতার লড়াই নিয়ে তখন বিএনপির আরেকজন নেতা উঠে এসেছেন আলোচনায়। ব্যবসায়ী ফখরুল ইসলামও বিএনপির প্রার্থী হয়ে মনোনয়ন কিনেছেন। তিনি বিএনপির না হলেও এই দল ও তার জোটের শরিক ২০ দলের নেতাদের একটি অংশের সমর্থন পাচ্ছেন।

ফখরুল ইসলাম এলাকায় দান, অনুদান ও যোগাযোগ গড়ে তুলেছেন। শুরুতে প্রচার ছিল তিনি ধানের শীষের মনোনয়ন চাইবেন্না। কিন্তু মনোনয়ন কেনার পর তা প্রকাশ পেয়েছে।

Ads
Ads