সেদিন এই ড. কামালই বলেছিলেন ‘ধানের শীষ প্রতীক হলো প্রতারণাও প্রবঞ্চণার প্রতীক’!

  • ১৭-Nov-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

বৃহস্পতিবার (১৫ নভেম্বর) ড. কামাল হোসেন সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন করবেন। ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস, ৩৭ বছর আগে এই ১৫ নভেম্বরে তৃতীয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি ধানের শীষ প্রতীকের কাছেই পরাজিত হয়েছিলেন।

প্রহসনের সেই নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিতের পর ড. কামাল বলেছিলেন, ধানের শীষ প্রতীক হলো প্রতারণা, প্রবঞ্চণার প্রতীক। ধানের শীষ প্রতীক হলো জনগণের ভোটাধিকার হরণের প্রতীক।

বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম একটি কলঙ্কিত নির্বাচন হলো ১৯৮১ এর ১৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর শুধুমাত্র বিএনপির প্রার্থী বিচারপতি আব্দুর সাত্তারকে প্রেসিডেন্ট বানানোর জন্য সংবিধান সংশোধন করে তাকে প্রার্থী হিসেবে যোগ্য করা হয়। ওই সময় সংবিধান সংশোধনের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন ড. কামাল। ওই নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী আব্দুর সাত্তারের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ড. কামাল হোসেন।

ভোট জালিয়াতি, ভোট ডাকাতি, প্রহসনের নির্বাচনের ফলাফলে আব্দুর সাত্তার পান ৬৫ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট। তিনি ভোট পান ১ কোটি ৪২ লাখ, ৩ হাজার ৯৫৮ টি। আর ড. কামাল হোসেনকে দেখানো হয় ২৬ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। মাত্র ৫৬ লাখ ৩৬ হাজার ১১৩ ভোট দেখানো হয় ড. কামালের ব্যালটে। ওই নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন মওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ ও এম. এ. জি ওসমানী। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন এ. এ. জলিল এবং ন্যাপ (এম.) ও সিপিবির প্রার্থী ছিলেন মোজাফ্ফর আহমেদ। এছাড়া আরও ৩৩ জন প্রার্থী হয়েছিলেন ওই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে। তবে কারও ভোট ২ থেকে ৩ লাখের বেশি হয়নি। নির্বাচনের ভোট গণনার কিছুক্ষণের মধ্যে এটি যে এক প্রহসনের নির্বাচন তা স্পষ্ট হয়ে যায়।
 
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার আগেই হোটেল পূর্বাণীতে ড. কামাল হোসেন একটি সংবাদ সম্মেলন করেন । সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ধানের শীষ প্রতীক বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে কলঙ্কিত করেছে। ধানের শীষ প্রতীক হলো প্রতারণা, প্রবঞ্চনার প্রতীক। ধানের শীষ প্রতীক হলো জনগণের ভোটাধিকার হরণের প্রতীক। এই প্রতীকের মাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচন ইতিহাসে কলঙ্ক রচনা করা হয়েছে।

ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস ৩৭ বছর সিই ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।

Ads
Ads