গোপনে স্ত্রীকে তালাক দিয়ে শ্যালিকা নিয়ে উধাও দুলাভাই

  • ২৯-Aug-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

গোপনে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে স্ত্রীকে তালাক দিয়ে শ্যালিকা নিয়ে উধাও দুলাভাই। তার নাম রবিউল ইসলাম (৩২)। এ ঘটনায় তার স্ত্রী দুই অবুঝ সন্তান নিয়ে পড়েছেন বিপাকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম পৌর এলাকার ফকিরপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে রবিউল ইসলাম ২০১০ সালের ১২ আগস্ট সদর উপজেলার মোগলবাসা ইউনিয়নের কৃঞ্চপুর সৈনিকপাড়া গ্রামের আজর উদ্দিনের মেয়ে রুজিনা আক্তার আকলিমা (২৭) কে বিবাহ করেন। ৮ বছরের বিবাহিত জীবনে তাদের ঘরে দুটি সন্তান রয়েছে। রবিউল ইসলাম চলতি বছরের ২৬ জুন গোপনে কুড়িগ্রাম নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে গিয়ে এফিডেভিটের মাধ্যমে স্ত্রী আকলিমাকে তালাক দেয়। তালাকের নোটিশ স্ত্রী ও পৌর মেয়রকে দেয়ার বিধান থাকলেও সেটি গোপন রেখে স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখে সে।

পরে জানাজানি হলে প্রথমে অস্বীকার করে রবিউল। বেশি চাপ দিলে স্ত্রীর ওপর চালায় নির্যাতন। এরপর সন্দেহ করার অজুহাতে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার জন্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়। এ ব্যাপারে রবিউলের চাচা ও চাচি আকলিমাকে মোবাইল ফোনে কথা বলতে দেয়ার অপরাধে তাদের মোবাইল ভেঙে ফেলে রবিউল। এসময় চাচি প্রতিবাদ করলে তার হাত মুচড়ে তাকে গুরুতর আহত করে। সবকিছু জানলেও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শ্বশুর আনোয়ার ও শাশুড়ি বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করেন।

স্ত্রী আকলিমা বলেন, আমাকে পছন্দ করে জোর করে বিয়ে করে রবিউল। বিয়ের পর থেকেই নানাভাবে আমাকে নির্যাতন করে আসছিল। গত দু’মাস আগে কুড়িগ্রাম শেখ রাসেল পার্কে চ্যানেল আই কৃষকের ঈদ আনন্দে অংশগ্রহণ করে আমরা সেরা জুটি হিসেবে পুরস্কৃত হই। আমার ছোট বোন ক্লাস এইটে পড়ে। বোনকে ফুঁসলিয়ে তাকে নিয়ে আত্মগোপন করে আছে সে। লোকজন বলছে রবিউল আমাকে গোপনে এফিডেভিট করে তালাক দিয়েছে।

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের কমিশনার মোস্তফা কামাল পাশা জানান, বিয়ের পর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। বহুবার মীমাংসা করে দেয়া হয়েছে। সংসারটা টিকে রাখার জন্য অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। আমি চাই আইনের মাধ্যমে শাস্তি পাক রবিউল।

কুড়িগ্রাম জেলা মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রতিমা চৌধুরী জানান, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কুড়িগ্রাম জেলা শাখাসহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করেও স্বামীর নির্যাতন থেকে রেহাই পায়নি আকলিমা। আমরা চাই রবিউলকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেয়া হোক।
 

Ads
Ads