অচিরেই বিলীন হয়ে যাবে বিএনপি!

  • ১-Sep-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

বাংলাদেশের অন্যতম একটি রাজনৈতিক দল বিএনপি। বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে দুর্নীতির দায়ে ৫ বছরের কারা-দণ্ডাদেশ নিয়ে পুরান ঢাকার পুরনো কারাগারে রয়েছেন। সেই সঙ্গে দণ্ডিত হয়ে দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানও পলাতক অবস্থায় লন্ডনে বসবাস করছেন। 

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় থাকাকালে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। তখন এই দলে যোগ দিয়েছিল নানা ধারার আওয়ামী লীগ বিরোধী ব্যক্তিবর্গ, পাকিস্তানপন্থী জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলাম প্রভৃতি দলের সদস্যরা, উগ্র বাম ঘরানার মানুষ জন, এছাড়াও সুবিধাবাদী বিভিন্ন রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক লোকজন। 

প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিএনপি বিভিন্ন সময়ে তিন মেয়াদে সরকারের দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপি সরকারের দায়িত্ব পালনকালে দলের অনেক নেতা ও মন্ত্রী দেশের উন্নয়নের থেকে দুর্নীতির মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্যের উন্নয়নে বেশি মনযোগী থাকতে দেখা যায়। বিগতদিনে তাদের অপকর্মের কারণে বিএনপির অনেকেই এখন কারাগারে না হয় পলাতক হয়ে দেশের বাইরে আছেন।

২০১৪ সালে ত্ত্বতাবধায়ক সরকারের দাবিতে, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন না করার কারণ দেখিয়ে জাতীয় নির্বাচন থেকে সড়ে দাড়ায়। অবশ্য বর্তমানে দলটির অনেক সিনিয়র নেতারা স্বীকার করেছেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করা অনেক বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। ঐ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে বিএনপির পরিস্থিতি এত খারাপ হত না।

২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে-পরে বিভিন্ন সময় আন্দোলন সংগ্রাম করার ঘোষণা দিলেও, কার্যত কোন আন্দোলন তারা গড়ে তুলতে পারে নাই। তাদের আন্দোলন সংগ্রাম কেবল মাত্র সংবাদ সম্মেলন ও বিবৃতি নির্ভর হয়ে ওঠে। এসময় আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি নানা রকম ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসের পথ অনুসরণ করে। বিএনপি জামাতের পেট্রোল বোমা হামলায় সে সময় সারাদেশে প্রায় পাঁচ শতাধিক নিরীহ মানুষ নিহত হয়। একই সঙ্গে কয়েক হাজার লোক মারাত্মকভাবে আহত হন।

এবছর ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির দায়ে বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে যাবার পরেও দেখা যায়, বিএনপি একের পর এক আন্দোলন করার ঘোষণা করে, কিন্তু এসব ঘোষণার পুরোটাই ছিল ফাকা বুলি এবং ঘোষণার মধ্যেই সীমাবব্ধ। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলন করাতো দূরের কথা, কোনো নেতাকর্মীকেই মাঠে খুঁজে পাওয়া যায় নাই।

তবে কোটা আন্দোলন ও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের আন্দোলনকে বিএনপি- জামাত নানা ধরণের গুজব ও উস্কানি দিয়ে আন্দোলনে সহিংসতা চালানোর চেষ্টা করে, যা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে প্রমাণিত।

অবশ্য বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী খালেদার মুক্তির দাবিতে ৭/৮ জন লোক নিয়ে কয়েকদিন রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে মিছিল করেছে। রিজভির এই মিছিলে কোন আন্দোলন না হলেও মানুষের হাস্যরসে পরিণত হয়েছে। বিএনপির মত তিন বারের ক্ষমতায় থাকা দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের নেতৃতে এই মিছিল দেখলেই দলের বর্তমান অবস্থা বোঝা যায় বলেও অনেকেই মন্তব্য করেন।

বিএনপির একটি পক্ষ আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক। আবার আরেকটি পক্ষ খালেদা জিয়াকে ছাড়া জাতীয় নির্বাচনে যাওয়ার বিপক্ষে। এ বিষয়ে দলটির সিনিয়র নেতাদের মধ্যেও মত-পার্থক্য বিদ্যমান। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে মহাসচিব মির্জা ফখরুলের দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে।

অন্যদিকে আবার ফখরুলের সঙ্গে রিজভিসহ অনান্য বিএনপি নেতৃবৃন্দের সম্পর্কও খুব বেশি ভাল নয়। ড. কামাল হোসেন ও ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর জাতীয় ঐক্যর বিষয়ে বিএনপি মুল নেতৃবৃন্দ দ্বিধাবিভক্ত।

বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা জঘন্যতম একটি হত্যকাণ্ড। ভয়াবহ এই হামলায় নিহত হন ২৩ জন। আহত হয় আরও শতাধিক। এই মামলার কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার রায় খুব শিগ্রই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গোয়েন্দা তদন্তে দেখা যায়, তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপির পৃষ্ঠপোষকতা, প্রত্যক্ষ মদদ এবং হস্তক্ষেপে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটেছিল। এই মামলার রায় হলে বিএনপি নতুন করে আরও সংকটে পড়বে বলেই মনে করছে অনেকে।  

বিএনপির সঙ্গে বর্তমানে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামাতের সম্পর্কেও টানাপোড়ন চলছে। এমতাবস্থায় রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, জাতীয় নির্বাচনে কি করবে বিএনপি আর বিএনপির রাজনৈতিক ভবিষ্যতই বা কি?

বিএনপির বর্তমান কার্যক্রম ও অবস্থা দেখে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মনে প্রশ্ন জেগেছে, বিএনপির পরিণতি কি জাসদের মত হবে? নাকি মুসলিম লীগ হয়ে অচিরেই বিলীন হয়ে যাবে? এভাবে চলতে থাকলে বিএনপি নামক রাজনৈতিক দলটি আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই হয়তো যাদুঘরে স্থান পাবে, এমন মন্তব্যও করছেন অনেকে। সূত্র: বাংলা ইনসাইডার

/ই

Ads
Ads