লক্ষীপুর ২ আসনে আ.লীগ-বিএনপি-জাপার একাধিক প্রার্থী মাঠে

  • ৫-Aug-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

::ইমরান হোসেন সজীব, লক্ষীপুর (রায়পুর) প্রতিনিধি::

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে লক্ষীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের একাংশ) আসনটিতে চলছে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাপার একাধিক প্রার্থীর গণসংযোগ এবং প্রচারণা। ইতিপূর্বে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এ আসন থেকে দুবার নির্বাচন করে বিজয়ী হওয়ায় ল²ীপুর-২ আসনটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে দলের সাধারণ নেতাকর্মী একজোট থাকা সত্বেও জ্যেষ্ঠ নেতাদের গাছাড়া মনোভাব আর একক সিদ্ধান্তের কারণে উক্ত আসনটিতে হযবরল অবস্থায় রয়েছে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম। 
অন্যদিকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা নিজেদের শক্তিশালী দাবি করলেও ভোটের হিসাবে এখনো দলটি পিছিয়ে রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবার স্থানীয়ভাবে জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিতে নারাজ। জোটগত কারণে দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিয়েছিল। তখন বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মোহাম্মদ নোমান। এবারও জাতীয় পার্টিকে নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের ভয় আছে। যদি মহাজোট বা গতবারের মতো কোনো ধরনের সমঝোতা হয় তাহলে আসনটি আবার জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা ক্ষমতাসীন নেতাকর্মীদের।
আওয়ামী লীগ : স্থানীয় নেতারাই আওয়ামী লীগের রাজনীতি মূল নিয়ন্ত্রণ করছেন। বর্তমানে এখানে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভক্তি স্পষ্ট। উপজেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল খোকন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হায়দর বাবুল পাঠান ও পৌর কমিটির আহ্ববায়ক জামশেদ কবির বাক্কি বিল্যাহর ব্যক্তিগত অফিসকেন্দ্রিক রাজনীতি চলছে। নেতাকর্মীরা একজনের ব্যক্তিগত অফিসে গেলে অন্যজন ভালো চোখে দেখেন না। 
এদিকে ২০০৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রায়পুর উপজেলা আওয়ামী লীগের ৬৮ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ও ২০১২ সালের ১২ ডিসেম্বর পৌর আওয়ামী লীগের ২৭ সদস্যের আহŸায়ক কমিটি করা হয়। এরপর বিভিন্ন সময় সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হলেও রহস্যজনক কারণে গত ১৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগের উপজেলা ও পৌর শাখার সম্মেলন হয়নি। সর্বশেষ গত ৩০ জুন পৌর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের দিন ঠিক করেন জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. নূরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন। ১২ মে অনুষ্ঠিত পৌর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় তিনি এই দিন ঠিক করেন। পরে জেলা কমিটির সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী চিঠি দিয়ে সম্মেলন না করার জন্য বলেন।
জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান দলের কেন্দ্রিয় যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সহ-সভাপতি ও এসেনসিয়্যাল ড্রাগস লিঃ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক ডা. এহসানুল কবির জগলুল, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. নূরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন, কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিল্স অ্যাসোশিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আলী খোকন ও সংগঠনটির যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শামছুল ইসলাম পাটওয়ারী, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক লিঃ-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট, বিশিষ্ট শিল্পপতি কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল ও বিমান ও পর্যটনমন্ত্রীর জামাতা সাঈদুল বাকীন ভুইয়া। 
বিএনপি : জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের মাঠে তৎপরতা থাকলেও হামলা-মামলা ও পুলিশের হয়রানির ভয়ে প্রচারণায় প্রকাশ্যে নেই বিএনপি। যদিও এ আসনে দলের প্রতি নীরব জনসমর্থন রয়েছে বলে দাবি করছে বিএনপি।
জাতীয় পার্টি : রায়পুর জাতীয় পার্টি আগের চেয়ে সাংগঠনিক কিছু বার্যক্রম দেখা গেলেও তাদের নেই তেমন কোনো জনসমর্থন। জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বর্তমান সাংসদ মোহাম্মদ নোমান ও কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য শেখ ফাইজুল করিম শিপন দুজনই জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী। সাংসদ মোহাম্মদ নোমান দায়িত্ব পেয়ে সড়ক সংস্কার, বিদ্যুতের সাব-স্টেশন নির্মাণ, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণসহ বেশ কয়েকটি উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। পাশাপাশি পৌরসভাসহ ১০টি ইউনিয়ে দলীয় সংগঠন মজবুতকরণের লক্ষ্যে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নেতাকর্মীরা আগামী সংসদ নির্বাচনে তাকে জয় করার লক্ষ্যে কাজ করছে। 
উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হন বিএনপি নেতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ উল্যাহ। এরপর ৯৬ সালের জুন ও ২০০১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ৯৬ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আসনটি ছেড়ে দিলে উপনির্বাচনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। উপনির্বাচনে বিজয়ী হন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক বর্তমান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক হারুনুর রশিদ। ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার ছেড়ে দেওয়া আসনে বিজয়ী হন জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল খায়ের ভূঁইয়া। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে পরাজিত করেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি। তখন আওয়ামী লীগের টিকিট পান ডা. এহসানুল কবির জগলুল। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক। পরে অবশ্য জাতীয় পার্টিকে আসনটি ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এহসানুল কবির জগলুল মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় জাতীয় পার্টি নেতা মোহাম্মদ নোমান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

Ads
Ads