প্রযুক্তি নামক বিষাক্ত নেশায় আসক্ত শিশুরা

  • ২-Sep-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

ছোটবেলায় মোবাইল ব্যবহার কি বুঝতামনা, জানতাম না এটা দিয়ে কি কি করা যায়, কি হয়- শুধু জানতাম এটা দিয়ে শুধু কথা বলা যায় । আমিও বড় হতে থাকলাম আর প্রযুক্তিও বাড়তে থাকলো, আমিও অল্প বয়সে মোবাইল ফোন কম্পিউটার ইন্টারনেট এসবের সাথে পরিচিত হয়েছি, এসবের সাথে দ্রুত পরিচিয় হয়ে আমার কি ক্ষতি হয়েছে তাও বলবো আগে কি কি ক্ষতি হয় সেগুলো বলা যাক ।

দেশের জন্য প্রযুক্তি উন্নয়ন, আর শিশুর জন্য অভিশাপ, এই প্রযুক্তি নামক বিষাক্ত নেশায় আসক্ত হচ্ছে শিশুরা ।
হাতে হাতে মোবাইল ফোনে নষ্ট হচ্ছে আগামীর প্রজন্ম : প্রাণঘাতী গেমসে ঝুঁকছে অনেকেই : ইন্টারনেটে অশ্লীলতায় জড়িয়ে পড়ছে তারা : সচেতন হওয়ার পরামর্শ শিক্ষাবিদ-প্রযুক্তিবিদদের এক সময় বিকেল হলেই খেলার মাঠগুলোতে ছুটোছুটিতে মেতে থাকতো শিশু-কিশোররা। ফুটবল, ক্রিকেট, গোল্লাছুট, কাবাডি, দাঁড়িয়াবান্দা, ডাঙ্গুলি, মার্বেল, ক্র্যামবোর্ডসহ নানা খেলায় বুদ হয়ে থাকতো তারা ।

স্কুল-কলেজে ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে সহপাঠীদের সাথে আড্ডা, দৌড়াদৌড়ি, দুষ্টুমিই ছিল তাদের নিত্য দিনের আনন্দ । সকাল সন্ধ্যায় গল্পের বইয়ে ডুব দেয়া, বড়দের সাথে সাথে বাইরে ঘুরতে যাওয়া, প্রবীণদের কাছ থেকে গল্প শোনা ছিল তাদের কাছে এক ভিন্ন রকম অভিজ্ঞতা। সময়ের সাথে সাথে আজকে যেনো সবই হারিয়ে যেতে বসেছে ।

এসবের জায়গা এখন দখল করে নিয়েছে মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ট্যাব আর ল্যাপটপের মতো আধুনিক সব প্রযুক্তি। এসব প্রযুক্তিতে গেমস খেলা, টিভি দেখা, ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভার্চুয়াল জগতে ঘুরে বেড়াতেই বেশি পছন্দ করছেন এখনকার শিশু-কিশোর ও তরুণরা ।

কেবল গেইম খেলার জন্যই খেলা নয় বরং মরণঘাতী পথে হাটছেন অনেকেই। নিত্যনতুন প্রযুক্তির এই সময়ে আজকাল ছেলেমেয়েরা পরিবারের কাছ থেকে অনেক দূরে সরে গেছে । তারা সময় পেলেই এখন আইপড, আইপ্যাড, স্কাইপি এবং মোবাইল গেমস নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন । সাইবার জগতের দুর্নিবার আকর্ষণে নানা রকমের ক্ষতির শিকারও হচ্ছে তারা ।

যুক্তরাষ্ট্রের এক গবেষনায় দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রে শতকরা ৭০ ভাগ শিশুই মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী বাংলাদেশ এই পরিসংখ্যান বেড় করতে না পারলেও সংখ্যায় কম হবেনা, মোবাইল নামক এই যন্ত্রটি ব্যবহারের ফলে মানুষিক ও স্বাস্থ্যগত ভাবে কতটা যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরা এ বিষয়ে কতটা সচেতন অভিভাবকরা । চিকিৎসাবীদরা বলছেন যথাসম্ভব মোবাইল ফোন থেকে কমপক্ষে পাচ ফুট দূরে রাখতে হবে আগামী প্রজন্ম শিশুদের ।

Ads
Ads