দ্বিতীয় দফা সংলাপ: সফল পরিণতি লাভ করুক

  • ৬-Nov-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ড.কাজী এরতেজা হাসান ::

আজ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে দ্বিতীয় দফার সংলাপ। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেনের দ্বিতীয় চিঠির জবাবে  তাৎক্ষণিকভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বৈঠকের প্রতি সাড়া দিয়েছেন। আর প্রধানমন্ত্রীর এই ঔদার্যতা থেকেই পরিষ্কার হচ্ছে- জাতীয় নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অবাধ, অংশগ্রহণমূলক করার ব্যাপারে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলটি শতভাগ আন্তরিক। 

আজ বুধবার দুই পক্ষের মধ্যে কাক্সিক্ষত বৈঠকটি হওয়ার কথা। প্রথম বৈঠকে আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে উদ্ভূত সংকট থেকে উত্তরণে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট উপস্থাপিত সাত দফার বিষয়ে ব্যাপক পরিসরে আলোচনা হলেও কার্যত সে বৈঠকটি অসমাপ্তই থেকে যায়। সে প্রেক্ষাপটে কামাল হোসেন ‘অসমাপ্ত আলোচনা’ সমাপ্ত করার তাগিদ দিয়েছেন। তিনি আরও বলেছিলেন যে, জটিল সাংবিধানিক বিষয়ের সমাধান পেতে ছোট পরিসরে আলোচনা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীও তার প্রস্তাবে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সম্মতি দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, এর আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও বলেছিলেন যে, ‘ঐক্যফ্রন্ট চাইলে ছোট পরিসরে আবারও আলোচনা হতে পারে’। আপাত দৃষ্টিতে এটা ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য হলেও তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছারই প্রতিফলন বলে মনে করি আমরা। ইতোমধ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সংলাপ শেষ হওয়ার আগে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছে। যদিও ইসি ৮ নভেম্বর তফসিল ঘোষণা করার বিষয়টি স্পষ্ট করেছে। এ থেকে বোঝা যায়, নির্বাচন কমিশন নির্বাচন নিয়ে কোনো গাফিলতি করতে রাজি নয়। তারা যথা সময়েই নির্বাচনে যেতে চায়। অন্যদিকে ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন পিছিয়ে দিতে পক্ষপাতী। কিন্তু, নির্বাচন কমিশন সাধারণত ৪৫ দিন হাতে রেখে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে থাকে। এহেন প্রেক্ষাপটে ২৩ ডিসেম্বর নির্বাচন হতে পারে বলেও কোনো কোনো গণমাধ্যমে খবর এসেছে।

কাজেই আজকের সংলাপের ফলাফল যা-ই হোক না কেন, নির্বাচন কমিশন তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সম্পন্ন করতে কোনো আপত্তির মুখে পড়তে রাজি নয় বলেই বোঝা যাচ্ছে। সুতরাং নির্বাচন পেছানো না পেছানোর বিষয়টা তারা রাজনীতিকদের হাতেই ছেড়ে দিতে চায়। সে হিসেবে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন কতোটা ভূমিকা নিতে পারে এখানে সে প্রশ্নও জড়িত। কাজেই আজকেই বেরিয়ে আসবে, আলোচনায় কোন পক্ষ কতোটা ছাড় দিতে প্রস্তুত। আর এই ছাড় দেওয়া না দেওয়ার বিষয়টির সঙ্গে জড়িত রয়েছে সাংবিধানিক শর্তাবলী। সুতরাং যা করার সব এই সাংবিধানিক শর্তাবলীর মধ্যে থেকেই করতে হবে। ড. কামাল হোসেন বিজ্ঞ আইনবিদ। কাজেই আজকে তিনি যে তাত্ত্বিক আলোচনাতেই মনোনিবেশ করবেন, তা বলাই বাহুল্য।

তাই আজকের আলোচনায় পল্টনের জনসভার ভাষাও পরিহারযোগ্য। কেননা, ওই ভাষার পারদর্শিতা অযোগ্যরাও দিতে পারেন। কিন্তু কোনো সংকটকালীন বৈঠকে এমতো ভাষা প্রয়োগের কোনো সুযোগ নেই। যদি এতে পল্টনের ভাষার মতো উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়ে থাকে, তাহলে বুঝতে হবে তার পক্ষে তাত্ত্বিক ও দূরদর্শী রাজনীতিক হওয়ার যোগ্যতা অর্জন কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে মনে করি। কিন্তু বর্তমানে নির্বাচন নিয়ে টানাপড়েন চলছে, তা থেকে উত্তরণে উভয় পক্ষকেই পেশীর পরিচয় নয়, প্রজ্ঞার পরিচয় দিতে হবে। কাউকে ক্ষমতায় বসানো নয়, আদর্শিক উদ্দেশ্যেই এই বৈঠকের সফল পরিণতি লাভ করুক সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।   
 

Ads
Ads