কোরবানির অর্থনৈতিক দিক : পশুখাতে পরনির্ভরতা ছাড়তে হবে

  • ১২-Aug-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

বাংলাদেশে ২০১১ আদমশুমারির প্রাথমিক ফল প্রকাশের প্রায় এক বছর পর ২০১২ সালের ১৬ জুলাই চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়। তাতে জনসংখ্যা ১৪ কোটির কিছু বেশি দেখানো হয়েছিল। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা এটা মানতে নারাজ। বর্তমানে বাংলাদেশে বছরে ৩০ লাখের মতো বৃদ্ধি পেয়ে নতুন সংখ্যা যোগ হচ্ছে। এতেও গত আট বছরে দুই কোটি বেশি জনসংখ্যা যোগ হয় তাতে। বাংলাদেশ একসময় বহু ধরনের কৃষি ও শিল্পপণ্যে পরনির্ভর ছিল। এর পেছনে বিপুল জনসংখ্যা। কিন্তু এখন ধীরে ধীরে সেই পরনির্ভরতা কাটিয়ে উঠছে বাংলাদেশ। এমনকি গবাদিপশু খাতেও যে পরনির্ভরতা, এটাও প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপরই।

প্রতি বছর লাখ লাখ গরু প্রতিবেশী ভারত থেকে আসে চোরাচালানের মাধ্যমে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের অভিমত, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে যেসব অনাকাক্সিক্ষত প্রাণহানি ঘটে, তার অন্যতম কারণ গবাদিপশুর চোরাচালান। বাংলাদেশে গবাদিপশুর মাংসের বিপুল চাহিদা রয়েছে। কারণ এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষই মুসলমান সম্প্রদায়ভুক্ত হওয়ায় এখানে গবাদিপশুর মাংসের চাহিদা ব্যাপক। এক কোরবানি ঈদকে কেন্দ্র করেই লাখ লাখ গবাদিপশুর বাণিজ্য হয় এখানে। কিন্তু যখন ভারতের ক্ষমতার পালা বদলের মাধ্যমে যখন বিজেপি ভারতের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে তখন থেকে দেশটি বাংলাদেশে বৈধ বা অবৈধ পথে গরুর কারবার নিরুৎসাহিত করতে শুরু করে। আর এ বিষয়টিই  পরবর্তীতে বাংলাদেশের জন্য ‘শাপে বর’ হয়ে দেখা দেয়। কারণ কোরবানির সময়ে গরু-ছাগলের যে বিপুল চাহিদা, তা মেটাতে বড় খামারের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্ত গৃহস্থ বাড়িতেও শুরু হয়ে যায় ব্যাপক আয়োজন।

অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে, তাতে কোনো সংশয় নেই। ভারতীয় গরু আগের মতো না আসায় দেশীয় পশু পালনে যারা যুক্ত বলা যায়, তারা এখন লাভের পথ খুঁজে পেল। তবে এটাও আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, গরুর মাংসের চাহিদা ফি বছরই থাকে এখানে। কাজেই কোরবানির সময়ে পশুর বাড়তি চাহিদা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে মেটাতে গিয়ে যদি প্রতি বছর দেশের মোট গবাদিপশুর সংখ্যায় টান পড়ে তাহলে কিন্তু বছরকয়েকের মধ্যে এ খাতে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। পশুর জোগান বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে বিনিয়োগ। এ জন্য ছোট-বড় খামারের পাশাপাশি পারিবারিক পর্যায়ে যারা পশু পালনে এগিয়ে আসছেন, তাদের সহজশর্তে ব্যাংক ঋণের পাশাপাশি অন্যান্য ধরনের সহায়তা দিয়ে যেতে হবে। অন্যদিকে দেশে যে হারে জনসংখ্যা বাড়ছে সে হারে পতিত জমিও কমে আসছে। একসময় দিগন্ত ছোয়া মাঠে যে গবাদিপশু বিচরণের ক্ষেত্র ছিল এখন আর সেটা কোথাও নেই বললেই চলে।

ফলে পশুখাদ্যের জোগানও গুরুত্বপূর্ণ। সঙ্গত কারণেই চাই পশুখাদ্য উৎপাদনের শিল্প। এ খাতে বিনিয়োগ বাড়লে কর্মসংস্থানও বাড়বে। আরও একটি বিষয় না বললেই নয়- আমাদের চামড়াজাত পণ্যের বাজার রয়েছে উন্নত বিশ্বে। সরকার এ খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এ শিল্প যত প্রসারিত হবে, কাঁচামাল অর্থাৎ চামড়ারও চাহিদা তত বাড়বে। কাজেই গবাদি পশু খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো ছাড়া কোনো বিকল্প নেই বলেই আমরা মনে করি। 

Ads
Ads