সিইসির বক্তব্যে দ্বিমত : অপ্রত্যাশিত এ ভাষা কাম্য নয়

  • ১০-Aug-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

সিইসি’র এক বক্তব্য নিয়ে উটকো এক বিতর্ক উস্কে দিল রাজনীতির মাঠে। বক্তব্যটি ছিল ‘জাতীয় নির্বাচনে কোনো অনিয়ম হবে না- এমন কোনো নিশ্চয়তা দেওয়ার সুযোগ নেই’। সিইসি’র এই বক্তব্যটির যদি ভাবসম্প্রসারণ করা হয় তাহলে এর ব্যাপকতা কোথায় গিয়ে ঠেকতে পারে? দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল পদে আসীন। এখন আমাদের প্রশ্ন এমন একটি দায়িত্বশীল পদে থেকে তিনি এমন কোনো খামখেয়ালিপূর্ণ বক্তব্য দিতে পারেন কী-না? আর এই যে তিনি যে বক্তব্যটি দিলেন তা কি প্রকারান্তরে সরকারকেই বেকায়দায় ফেলে দেওয়ার নামান্তর নয়? এরই মধ্যে সহযোগী অপর চার নির্বাচন কমিশনার এ বক্তব্যকে সিইসির ‘ব্যক্তিগত’ বলে এড়িয়েছেন। তারা বলেছেন, সিইসির এ বক্তব্যের সঙ্গে কমিশনের কোনো সম্পর্ক নেই। আর ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এহেন বক্তব্য প্রদান থেকে সিইসিকে আরো সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অর্থাৎ সিইসির এই বক্তব্যে ক্ষমতাসীন দলও নাখোশ। কিন্তু সিইসির এই বক্তব্যটি মাঠের বিরোধী দল বিএনপি যেন লুফেই নিলো। 

এদিকে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, জাতীয় নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার আগে সিইসির এমন বক্তব্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কেননা, এ ধরনের বক্তব্য সাধারণ মানুষের মধ্যে আরো আস্থাহীনতা তৈরি করতে পারে। শুধু তাই নয়, ইসির এমনতরো বক্তব্যে বরং ইসিরই  অসহায়ত্ব ও অক্ষমতার প্রকাশ ঘটেছে বলে আমরা মনে করছি। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে তাকে সাংবিধানিক অনুযায়ী পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়াই হয়েছে। তাহলে কেন তিনি এমনতরো বক্তব্য দিয়ে বললেন যে, ‘জাতীয় নির্বাচনে কোনো অনিয়ম হবে না- এমন কোনো নিশ্চয়তা দেওয়ার সুযোগ নেই’। এই বক্তব্য দিয়ে কি তিনি প্রকারান্তরে কোনো মহলবিশেষকে সন্তুষ্ট করতে চেয়েছেন নাকি তিনি নিজের অক্ষমতাই প্রকাশ করেছেন? তাই যদি হয়, তাহলে তার মানে কী দাঁড়ায়? তিনি কি তবে স্বেচ্ছায় তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিতে চাইছেন? তাও যদি না হবে, তাহলে তিনি এমন বক্তব্য দিতে গেলেন কেন? এসব প্রশ্নই এখন সবার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। কিছুদিন আগে তার সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তখনও কিšুÍ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ইসির ওপর আস্থা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু সেই মার্শা বার্নিকাটের সঙ্গেই গণফোরামের নেতা ড. কামালের সাক্ষাৎ হলে এখন এ নিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে তাদের এই বৈঠকের সারবস্তু নিয়ে। আমাদের ভোরের পাতায় এ নিয়ে একটি প্রতিবেদনও ছাপা হয়।

শিরোনাম হচ্ছে, ‘হাসিনাবিরোধী জোট গড়তে তৎপর মার্কিন দূতাবাস!’ যাহোক, আমরা মনে করি, সিইসির এ বক্তব্যকে হেলায় উড়িয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ জন্য বিষয়টি সরকারের গভীর পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। সিইসি এ বক্তব্যটি কি অসাবধানতাবশত মুখ ফস্কে বলে ফেলেছেন নাকি এর পেছনে অন্য কিছু রয়েছে। আর এ জন্যই সড়কপরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সিইসিকে ‘সংযত’ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এখানে আমাদেরও প্রত্যাশা থাকবে, সামনে জাতীয় নির্বাচন ঘিরে কোনো অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়, এমন কোনো বক্তব্য দেওয়া থেকে যেন নির্বাচন কমিশন আরো অধিকতর সংযত থাকে।      

Ads
Ads