‘আমি ঘড়ি দেখার জন্য মসজিদে যেতাম’

  • ২৫-Nov-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: মো: বদরুল আলম বিপুল, জাককানইবি প্রতিনিধি ::

আমি ছোটবেলায় খুবই দূরন্ত ছিলাম। বর্ষাকালে নদীতে সাতার কাটতাম।সারাদিন বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা করতাম।কিন্তু আমি সবসময় ক্লাসে প্রথম হতাম।বাবা ঢাকায় চাকরি করতেন খুবই সুন্দর ভাবেই চলছিল আমাদের পরিবারটা।মুক্তিযুদ্ধে আমার বাবাকে মেরে ফেলার পর আমার জীবনটা একদম তছনছ হয়ে যায়।

আমিই পরিবারের বড় ছেলে সবার ভরণ-পোষনের দায়িত্ব পড়ে আমার উপর।আমি এস.এস সি পাশ করলাম ১ম বিভাগে, তারপর কলেজে ভর্তি হলাম দিনে চারবার প্রাইভেট পড়াই। তা দিয়ে আমার পড়ালেখার খরচ পরিবারের খরচ চালাতে হয়।আমরা নানা বাড়ি থাকতাম নানার যে সামান্য জমি ছিল তা চাষ করে আমাদের বছরের চার মাসের খাবার চলত।বাকি আটমাস কিনে খেতে হত। 

অকপটে এক সাক্ষাৎকারে এই কথা গুলোই বলছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ.এইচ.এম মোস্তাফিজুর রহমান।  

তিনি বলেন, আমার এক স্যারের সহযোগীতায় আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই।স্যার আমাকে প্রাইভেটের ব্যবস্থা করে দেন।আমি নিজে রোজগার করতাম আর পড়তাম।আমার একসেট পাঞ্জাবী আর একটা প্যান্ট ছিল তাই দিয়েই আমি ক্লাস করতাম।

উপাচার্য বলেন, আমার এম.এ ফাইনাল পরীক্ষা চলছে তখনও সময় দেখার মত কোন ঘড়ি নেই আমার কাছে। কখন কয়টা বাজে, আবার কি পরীক্ষা শুরু হয়ে যায় কি না তার এক দুচিন্তা তো আছেই তাই আমি ঘড়ি দেখার জন্য বারবার হলের মসজিদে যেতাম।কখনও পাশের রুমে যেতাম না কারণ সে যদি বিরক্ত বোধ করে।

Ads
Ads