শহীদ রফিক সড়ক পাকাকরণের কাজ সমাপ্ত

  • ২৮-Oct-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

মুক্তিযুদ্ধে শহীদের স্মৃতিরক্ষায় দীর্ঘ ২১ বছরের প্রতীক্ষার অবসান

:: রফিকুল ইসলাম, ঝিকরগাছা প্রতিনিধি ::

অবশেষেহ ঝিকরগাছায় মুক্তিযুদ্ধে শহীদ রফিক সড়ক পাকাকরণ কাজ সমাপ্ত হয়েছে। ফলে শহীদের স্মৃতিরক্ষায় শহীদ স্মৃতি বিজড়িত সড়কটির মানোন্নয়নে দীর্ঘ ২১ বছরের প্রতীক্ষার অবসান হলো। প্রচেষ্টার হলো সফল সমাপ্তি।

এজন্য এলাকাবাসী সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম মনিরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। 

লাউজানীস্থ অন্বেষা পাঠাগারের মুক্তিযুদ্ধের আঞ্চলিক ইতিহাস সংগ্রহ ও সংরক্ষণ কর্মসূচির আওতায় কাজ করতে গিয়ে শহীদ রফিকের কবরের সন্ধান পাওয়া যায়। পাওয়া যায় তিনি কবে কোথায় শহীদ হয়েছিলেন সেসব তথ্য ও স্বপক্ষের কাগজপত্র। তিনি ১৯৭১ সালের ২ এপ্রিল চাঁচড়ায় হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধরত অবস্থায় শহীদ হন। ওই দিন যশোর শহরতলীর চাঁচড়ায় স্বাধীনতাকামী মানুষের সাথে পাকিস্তানি সৈন্যদের তুমুল প্রতিরোধ যুদ্ধ হয়। 

১৯৯৭ সালের ৮ জুলাই অন্বেষা পাঠাগারের ৫ম বার্ষিক সাধারণ সভায় শহীদ রফিকের কবরের পাশের রাস্তাটি ‘শহীদ রফিক সড়ক’ করার প্রস্তাব করা হয়। নামটি অনুমোদনও হয়। রাস্তাটির নাম নাম ‘শহীদ রফিক সড়ক’ অনুমোদিত হওয়ার পর ১৯৯৮ সালের ২ এপ্রিল শহীদ রফিক মিয়ার মৃত্যু বার্ষিকীতে রাস্তার নামকরণের ফলক উম্মোচন করেন ঝিকরগাছা থানার তৎকালীন নির্বাহী অফিসার তপন চন্দ্র মজুমদার।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদ মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতি রক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে ২০০৪-০৫ সালে যশোর-বেনাপোল সড়কের লাউজানী থেকে শহীদ রফিকের কবরের পাশ দিয়ে লক্ষ্মীপুর হয়ে পাগলাদহ পর্যন্ত চার কিলোমিটার দীর্ঘ রফিক সড়ক প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করে কাজ শুরু করা হয়। প্রথম দফায় ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়। এ টাকায় যশোর-বেনাপোল সড়কের লাউজানী বাজার থেকে কাজ হয় দেড় হাজার ফুট, যা মোট কাজের ১০ শতাংশ। এরপর দীর্ঘ একযুগ সড়কটির ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আর কোন তৎপরতা দেখা যায়নি। এ নিয়ে আবেদন নিবেদন কম হয়নি। দেশের শীর্ষ সংবাদপত্রসহ স্থানীয় প্রায় সব পত্রিকায় হয়েছে লেখালেখিও। 

এর পর গত ২০১৫-১৬ বছর এক কিলোমিটার পরিমাণ কাজ হয়। এই অংশের উদ্বোধন করেন যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনের সম্মানীত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম মনির। 

যোগাযোগের দুর্ভোগ লাঘবে ঝিকরগাছা ইউপি চেয়ারম্যান আমির হোসেন ব্যক্তি উদ্যোগে ঘেষ আর আধলা ইট দিয়ে কাঁদা এড়ানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু এতে সমস্যার কোন সমাধান হয়নি। সর্বশেষ শহীদের রক্ষায় মাননীয় সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম মনিরের কাছে আবেদন জানানো হলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, যে কোন সময়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে রাস্তাটি পাকাকরণের বাকি কাজ শেষ হবে। তার আশ্বাস অনুযায়ী পাকাকরণের কাজ গত ৫ অক্টোবর শেষ হয়েছে।

এলাকাবাসী আন্তরিকভাবে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম মনিরকে প্রশংসিত করেছে। উল্লেখ্য, যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার লাউজানীতে যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক থেকে পাগলাদহ পর্যন্ত এ সড়কটি জনগুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হলেও কার্যত এর উন্নয়ন ও বীর শহীদের নামকরণ উপেক্ষিত হয়ে আসছিলো।
 

Ads
Ads