রুখতে হবে বাল্যবিবাহ

  • ১৩-Oct-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: মোশারফ হোসাইন ::

বাল্যবিবাহ হল অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির আনুষ্ঠানিক অথবা অনানুষ্ঠানিক বিবাহ। বিশেষ ক্ষেত্রে অভিবাবকের অনুমতি সাপেক্ষে ১৮ বছরের নিচে অনেক মেয়েই বিবাহ হয়ে যায়। যদিও আইন অনুযায়ী মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ বৎসর। তবু নিজেস্ব এলাকার নিজস্ব কুপ্রথাকেই আইনের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাল্যবিবাহ মেয়ে এবং ছেলে উভয়ের উপরই প্রভাব ফেলে। তবে মেয়েরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকে। বিশেষ করে অর্থসামাজিকতা পরিস্থিতির কারণে। বেশিরভাগ বাল্যবিবাহে দুজনের মধ্যে শুধু একজন অপ্রাপ্ত বয়স্ক হয়ে থাকে।

বাল্যবিবাহের কারণগুলোর মধ্যে প্রধানত- দরিদ্রতা, যৌতুক, সামাজিক প্রথা, বাল্যবিবাহ সমর্থনকারী আইন, ধর্মীয় ও সামাজিক চাপ, অঞ্চলভিত্তিক রীতি, অবিবাহিত থাকার শঙ্কা, নিরক্ষরতা এবং মেয়েদের উপার্জনে অক্ষম ভাবা। বিভিন্ন কারনেই বাল্যবিবাহের প্রচলন অনেক আগে থেকেই শুরু।

এর মধ্যে রয়েছে- দারিদ্রতা, নিরাপত্তাহীনতা, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণসমূহ। এখনও উন্নয়নশীল দেশসমূহ, যেমন, আফ্রিকার কিছু অংশ, দক্ষিণ এশিয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পশ্চিম এশিয়া,লাতিন আমেরিকা এবং ওশেনিয়া প্রভৃতি দেশে বাল্যবিবাহ বহুল প্রচলিত। তবে বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ গ্রাম অঞ্চলে বেশীভাগ হয়ে থাকে।  

ছেলের ক্ষেত্রে: অনেক ছেলেদের অপরিণত বয়সে বিবাহ করানো হয়ে থাকে । কিন্তু ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, তুলনামূলকভাবে মেয়েরাই বেশী। অপরিণত বয়সের ছেলেদের বিবাহের হার সামান্য। সেপ্টেম্বর, ২০১৪ এর হিসাব অনুযায়ী ১৫৬ মিলিয়ন ছেলে বাল্যবিবাহের শিকার।

মেয়েদের ক্ষেত্রে: মেয়েদের উপর বাল্যবিবাহের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদী বিশেষত স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং সামাজিক উন্নয়নের প্রেক্ষিতে। এর প্রভাব কৈশোরের পর ও স্থায়ী হয়। উন্নয়নশীল বিশ্বে ১৫-১৯ বছর বয়সী নারী মৃত্যু প্রধান কারণ গর্ভধারণ ও সন্তান প্রসব।

বাল্যবিবাহের কারন: মেয়ে শিশুর প্রতি অবহেলা। যৌবনে পদার্পণ করার আগে মেয়েদের বিয়ে দেয়ার সামাজিক ও ধর্মীয় প্রবণতা। কিশোর কিশোরীদের যৌনকর্মে লিপ্ত ও স্বেচ্ছায় বিবাহে  আবদ্ধ হওয়া। শিক্ষার অভাব ও আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা। মেয়েদের লেখাপড়ার সুযোগ কম ধারণা।

বাল্যবিবাহর কুফল: মাতৃমৃত্যুর হার বেশি। প্রসবজনিত জটিলতার ফলে মায়ের প্রজনন তন্ত্রের সংক্রামন এবং দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা। শিশু মৃত্যু হার বৃদ্ধি পাওয়া। অপুষ্টি ও রোগযুক্ত শিশুর জন্ম। মেয়েদের অসুস্থতার হার বৃদ্ধি। ব্যক্তি,পরিবার ও সমাজের চাহিদা পূরণে ব্যর্থতা। শিশু মায়ের দুধ থেকে বঞ্চিত হয়। অল্প বয়সে গর্ভধারণ, ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভধারণ, অপুষ্টি, রক্তস্বল্পতা এবং সন্তান লালন পালনে ব্যর্থতা। স্বামী ও স্ত্রী উপার্জনক্ষম না হওয়ায় অর্থনৈতিক সমস্যা। দাম্পত্য কলহ। মায়ের উপর শারীরিক ও মানসিক চাপ। গর্ভবতী হওয়ার হার বৃদ্ধি।

বাল্যবিবাহের প্রতিকার ও প্রতিরোধ: জনগণকে সচেতনতা গড়ে তোলা। শিক্ষার হার বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি করা। দারিদ্রতা দূরীকরণে সহায়তা করা। মেয়েদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি। বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি। বাল্যবিবাহ-রোধ আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। মা সমাবেশ। উঠান বৈঠক। পাঠ্য বইয়ে বাল্যবিবাহের কুফল সর্ম্পকে অন্তরভূক্ত করা। বাল্যবিবাহর কুফল গণমাধ্যমে ব্যপক প্রচার প্রচারণা করাও প্রয়োজন। যেখানেই বাল্যবিাহ দেখবেন সেখানেই রুখে দাড়ান, প্রতিবাদ করুন। কল করুণ ১০৯ নম্বরে। অথবা খবর দিন স্থানীয় প্রসাশনকে। আপনি রুখে দাড়ালেই বন্ধ হবে বাল্যবিবাহ।

Ads
Ads