হেফাজতকে নিয়ে পাকিস্তানপন্থী তাবলীগের ষড়যন্ত্রকারীরা সক্রিয়, ঐক্যবদ্ধ রাখতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

  • ১৩-Oct-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: সিনিয়র প্রতিবেদক ::

মুসলিম উম্মার দ্বিতীয় বৃহত্তম জমায়েত পবিত্র বিশ্ব এজতেমা বাংলাদেশের তুরাগ নদীর তীরে প্রতিবছরই হয়ে থাকে। মুসলিম বিশ্বের প্রায় সব দেশ থেকেই মুসল্লিরা যোগ দেন এ জমায়েতে। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে বিশ্ব এজতেমা সরিয়ে নিয়ে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে পাকিস্তানপন্থী একটি মহল। তারা নানা সময় তাবলীগ জামায়াতের মারকাজ খ্যাত কাকরাইল মসজিদে নাশকতা চালিয়েছে। ফলশ্রুতিতে দৃশ্যতই গত এক  বছরেরও বেশি সময় ধরে দুইভাগে বিভক্ত তাবলীগ জামায়াত। পাকিস্তানপন্থীরা এ দেশ থেকে তাবলীগকে অন্য দেশে সরিয়ে নিতে হেজাফজ ইসলামকেও ব্যবহার করেছে বিভিন্ন সময়। 

এদিকে, তাবলীগের জামায়াতের এই বিভক্তির পর ধর্ম মন্ত্রণালয় একটি পরিপত্র জারি করে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ধর্মমন্ত্রণালয়ের উপ সচিব দেলোয়ারা বেগম স্বাক্ষরিত ১৬.০০.০০০০.০০৮.১১.০২৩.১৩ ‘বাংলাদেশে দাওয়াতে তাবলীগের কার্যক্রম সুষ্ঠু, সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য কতিপয় নির্দেশনা’ শিরোনামের পরিপত্রে উল্লেখ করা হয় যে, তাবলীগের বিদ্যমান দুই পক্ষই আলাদা আলাদাভাবে তাদের দাওয়াতী কার্যক্রম চালাতে পারবে।

এমনকি স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে বিভিন্ন স্থানেও আলাদা আলাদা কাজ করতে পারবে। তবে কোন পক্ষই কেউ কারো বিরুদ্ধে লিখিত বা মৌখিক কোনো অপপ্রচার চালাতে পারবে না। উভয় পক্ষই আলাদাভাবে দেশি-বিদেশী মেহমানদের দাওয়াত দিতে পারবে বলেও পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়। 

কিন্তু বিবাদমান দুটি পক্ষের মধ্যে সরকারিভাবে পরিপত্র জারির মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু সমাধানের পথ যেখানে বের হয়েছিল সেটিকে স্থগিত করিয়ে দিয়েছে ষড়যন্ত্রকারীরা। পরিপত্র জারির মাত্র একদিন পরই প্রশাসনের কিছু বিএনপি-জামায়াতপন্থী এবং হেফাজতপ্রেমী কয়েকজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার যোগসাজশে হঠাৎ করেই ‘বাংলাদেশে দাওয়াতে তাবলীগের কার্যক্রম সুষ্ঠু, সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য কতিপয় নির্দেশনা’ পরিপত্রটি অন্য আরেকটি পরিপত্রের (১৪২৮ নং) মাধ্যমে  স্থগিত করে দিয়েছে। বর্তমান সরকারের শেষ সময়ে ও নির্বাচনের আগে তাবলীগের মধ্যে বিবেদকে বাঁচিয়ে রেখে হেফাজত ও তাবলীগকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়ে সাংর্ঘর্ষিক রূপ দিতে ষড়যন্ত্র করছে অনেকে। ফলে এ অবস্থা থেকে তাবলীগ জামায়েতকে রক্ষা করতে এবং ঐকবদ্ধ করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন দিল্লীর নিজামউদ্দিন মার্কাজের অনুসারীরা। 

ফলে ভবিষ্যতে তাবলীগ জামায়াতের মধ্যে আবারো অস্থিতিশীলতা দেখা দিতে পারে বলে আংশকা প্রকাশ করেছেন নিজামউদ্দিন মার্কাজের মূল ধারার অনুসারীদের শুরা সদস্য সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম। 

তিনি ধর্ম মন্ত্রীকে লেখা এক চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, তাবলীগ জমায়াতের মার্কাজ খ্যাত কাকরাইল মসজিতে কোমলমতি মাদ্রাসা ছাত্রদের দিয়ে যে তাণ্ডবলীলা চালানো হয়েছে তা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারের পক্ষ থেকে, ‘বাংলাদেশে দাওয়াতে তাবলীগের কার্যক্রম সুষ্ঠু, সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য কতিপয় নির্দেশনা’ শীর্ষক যে পরিপত্রটি প্রথমে জারি করা হয়েছিল তা বহাল রাখার দাবি জানিয়ে সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম বলেন, ভারতের মাওলানা সা’দ এর অনুসারীরাই মূলত বাংলাদেশে তাবলীগ জামায়াত করেন। তাদের সংখ্যা ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ। বাকি ১০-১৫ শতাংশরা ভিন্ন মতাদর্শে বিশ্বাসী হয়ে বাংলাদেশ থেকে বিশ্ব ইজতেমাকে সরিয়ে নিয়ে কাজ করছে। তাদের পক্ষে কওমী মাদ্রাসা থেকে শুরু করে হেফাজত ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর মতো সংগঠনের মদদ রয়েছে। ফলে পাকিস্তানপন্থী এই গ্রুপটি তাবলীগের মধ্যে বিবেদ বাঁচিয়ে রেখে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে চায়। 

এদিকে, নিজামউদ্দিন মার্কাজের মূল ধারার অনুসারীদের শুরা সদস্য খান সাহাবুদ্দিন নাসিম তাবলীগের এই বিভক্তি দূর করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করে একটি চিঠি লিখেছেন। সেই চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহামন তাবলীগ প্রেমী ছিলেন। তিনি নিজেই কাকরাইল মসজিদের জন্য জমি বরাদ্দ দিয়েছিলেন। তার কন্যা হিসাবে ধর্মপরায়ণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তাবলীগ জামায়াতের পৃষ্ঠপোষকতা করে যাচ্ছেন নিয়মিত। তাই তাবলীগকে ভাঙতে যারা কাজ করছেন এবং যারা এ দেশ থেকে বিশ্ব এজতেমাকে সরিয়ে নেয়ার ষড়যন্ত্র করছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করেছেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে খান সাহাবুদ্দিন নাসিব ৭ টি সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য অনুরোধ করেছেন।

সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শেখ হাসিনা যেহেতু দিল্লীর নিজামউদ্দিন মার্কাজের অনুসারী, তাই কাকরাইল মসজিদ ছাড়া মূল ধারা থেকে বিচ্যুত গ্রুপটি কাজ পরিচালনা করলে সেখানে আপত্তি করবে না নাজিম উদ্দিনের অনুসারী সাথীরা। এছাড়া, টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমাসহ, তাবলীগের কার্যক্রম চালাবেন নিজামউদ্দিন অনুসারীরাই। বিচ্যুতরা সেখানে কিছুই ব্যবহার করতে পারবেন না।

অন্যান্য সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে, কাকরাইল মসজিদের পাশে কাকরাইল মাদ্রাসাটি অন্যত্র সরিয়ে নেয়া, মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের পরামর্শে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রথম জারিকৃত পরিপত্রটি বহাল রাখা, কওমী মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকদের আধিপত্য বন্ধ করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়ার অনুরোধ করেন খান সাহাবুদ্দিন নাসিম।

Ads
Ads