শেষ জীবনে মান্না দে...

  • ৭-Nov-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

মুম্বাই ছেড়ে যাবার সময় মান্না দে বলেছিলেন, "ছোট মেয়ে সুমিতা বেঙ্গালুরুতে কিছু কাজ-টাজ করতে চায়। তাই আমরাও চলে যাচ্ছি। ওকে তো আমরা একা ছেড়ে দিতে পারিনা ।"
তারপর ?

আরতি মুখোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, "দিনের পর দিন ফোন করেছি। বেজে গেছে শুধু। কেউ ফোন ধরতো না। একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় গায়িকা শুনলাম মান্নাদার জন্মদিনে ওর বাড়িতে দেখা করতে গিয়ে শেষমেশ বাড়িতে ঢুকতে না পেরে জানালা থেকে শুভেচ্ছা আর প্রণাম জানিয়ে চলে আসেন।"

কেন ??

যে মান্না দে ভোরবেলা রেওয়াজ ছাড়া ভাবতেই পারতেন না শেষ জীবনে তার কাছে একটা হারমোনিয়াম পর্যন্ত ছিল না !!!!

মান্না দের বহু গানের মিউজিক অ্যারেঞ্জার হিসেবে কাজ করেছেন শান্তনু বসু। স্ত্রী সুলোচনার মৃত্যুর পর মান্না দে একদিন ফোন করলেন তাকে,"সুলুকে উৎসর্গ করে কয়েকটা গান করব ঠিক করেছি। তোমার হেল্প চাই ।" তারপরেই বললেন, "দেখো,এই সময় আমার গান তো খরচা করে কেউ করবে না। তুমি আমাকে বলো,আমি যদি আঁটটা গান করি,কত খরচ হতে পারে ?"

ভাবা যায় ?

শেষ পর্যন্ত অবশ্য আশা অডিও-র মহুয়া লাহিড়ী এগিয়ে এসেছিলেন সেই রেকর্ড করার জন্য। এই রেকর্ডের কাজেই বেঙ্গালুরু পৌঁছে শান্তনু বসু ফোন করলেন মান্নাদেকে, তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "কাল তুমি কখন আসবে ?" একটু অবাক হয়ে শান্তনু বসু বললেন, "দাদা আমি তো আজই আপনার সঙ্গে গান নিয়ে বসবো বলেই দুপুরে চলে এলাম। আমি যদি পাঁচটা-ছটা নাগাদ যাই ।" একটু ইতস্তত হয়ে মান্না দে জবাব দিলেন, "আজ তো চুমু (ছোট মেয়ে সুমিতা) কাজে চলে যাবে। তুমি কাল এসো ।"

শান্তনু বসু বললেন, "কাউকে লাগবে না দাদা। আমি আর আপনি হলেই তো হবে ।" তিনি তাও বললেন, "অসুবিধে আছে ।" শান্তনু বসু নিশ্চুপ। এবার তিনি নিজেই অস্বস্তির সঙ্গে বললেন, "আমাকে তো তালাবন্ধ করে চাবি নিয়ে ও কাজে চলে যায়। আবার রাত বারোটা সাড়ে বারোটা নাগাদ আসে ।" স্তম্ভিত শান্তনু বসু বললেন, "দাদা, এভাবে" !! 
"আর বোলো না,আর বোলো না। আমার জীবনটা শেষ হয়ে গেল, আর বাঁচতে ইচ্ছে করে না ।" বলেই হাউমাউ করে কেদে উঠলেন মান্না দে।

ইনি সেই মান্না দে যিনি নিজের সারাটা জীবন উৎসর্গ করেছেন আমাদের গান শোনাতে। ইনি সেই মান্না দে যিনি উপমহাদেশের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ গায়কদের একজন!! 

কে জানে শেষ জীবনে কার কি লেখা আছে!!
 
সূত্র : এবিপি 

এই সেই কুখ্যাত মেয়ে সুমিতা দেব

Ads
Ads