সীমান্তে ফেলানী হত্যার আট বছর আজ

  • ৭-জানুয়ারী-২০১৯ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক কিশোরী ফেলানী হত্যা ট্র্যাজেডির ৮ বছরপূর্তী আজ ৭ জানুয়ারি, সোমবার।

জীবিকার সন্ধানে সেদিন মা-বাবার সঙ্গে ইটভাটায় কাজ করতে ভারতে গিয়েছিল কিশোরী ফেলানী। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভোরবেলা কাঁটাতারের প্রাচীর ডিঙ্গিয়ে নিজ দেশে ফেরার চেষ্টা করে ফেলানী। এ সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানীকে লক্ষ্য করে গুলি করে। গুলি করার পর তাকে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা হয়। চার ঘণ্টা প্রাণ নিয়ে পানি পানি করে চিৎকার করতে থাকে ফেলানী। কিন্তু ভারতীয় নরপিশাচদের কাছে এক ফোটা পানিও পায়নি বাংলাদেশের কিশোরী ফেলানী। এক সময় কাঁটাতারে ঝুলন্ত অবস্থাতেই তার মৃত্যু ঘটে। দীর্ঘক্ষণ তার দেহ কাঁটাতারের বেড়ার ওপরেই ঝুলে ছিল।

বিএসএফ’র পৈশাচিক-বর্বোরচিত এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে দুনিয়াজুড়ে নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় তুলেছিল। কিশোরীর ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে এর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় বাংলাদেশে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এই হত্যাকাণ্ডের জন্য বিএসএফের তীব্র নিন্দা জানায়। 

শুধু তাই নয় কথিত বন্ধুপ্রতীম প্রতিবেশীর এই দেশটির প্রতি ভারতীয়দের কেমন দৃষ্টিভঙ্গি সেটিও দেখতে পায় বিশ্ববাসী। ফেলানী হত্যাকে বাংলাদেশের ওপর ভারতের আগ্রাসী ভূমিকার নিকৃষ্ট উদাহরণ উল্লেখ করে নিন্দা জানায় বিভিন্ন সংস্থা।

হত্যাকাণ্ডের ৮ বছর উপলক্ষে তার পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও ফেলানীর রুহের মাগফেরাতে সোমবার বাদ জোহর অয়োজন করা হযেছে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের।

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর উপজেলার দক্ষিণ রামখানা কলোনীটারীতে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত থাকবেন ফেলানীর পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী।

ফেলানীর বাবা নুর ইসলাম বলেন, কোথাও থেকে সহযোগিতা না পাওয়ায় সাদামাটাভাবে এবার ফেলানীর মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হবে।

বিশ্ব আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের বিচার ভারতের উচ্চ আদালতে গড়ালেও এখনও ন্যায়বিচার পায়নি ফেলানীর পরিবার। হত্যাকারী অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে দু’দফায় বেকসুর খালাস দেন বিএসএফের বিশেষ আদালত।

পরবর্তীতে ন্যায়বিচারের আশায় ফেলানীর বাবা নুর ইসলাম ভারতের সর্বোচ্চ আদালতে দুটি রিট পিটিশন দাখিল করলেও সেটি বর্তমানে বিচারাধীন।

নুর ইসলাম জানান, বিএসএফের বিশেষ আদালতে ফেলানী হত্যার ন্যায়বিচার না পেয়ে ২০১৫ সালে ভারতের আইনজীবী অপর্নাভাট ও মানবাধিকার সংগঠন মাসুমের সহায়তায় ভারতের উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করি।

তিনি বলেন, আমি ভারতের সুপ্রিম কোর্টের কাছে মেয়ে ফেলানী হত্যার ন্যায়বিচার আশা করছি। পাশাপাশি ভারত সরকারের কাছে ফেলানী হত্যার ক্ষতিপূরণও দাবি করছি।

ফেলানীর মা জাহানারা বেগম জানান, আমার মেয়ে ফেলানীকে বিএসএফ পাখির মতো গুলি করে হত্যা করেছে। কিন্তু এখনও আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার পেলাম না।

তিনি মেয়ে ফেলানীর হত্যাকারী বিএসএফের বিচার দাবি জানিয়ে বলেন, হত্যাকারীর ফাঁসি হলে ফেলানী তার আত্মার শান্তি পাবে।

 

/কে 

Ads
Ads