নির্বাচনী হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিলে ব্যবস্থা নেবে দুদক

  • ১৯-Nov-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

সোমবার (১৯ নভেম্বর) রাজধানীর সেগুন বাগিচায় নিজ কার্যালয়ে দুপুরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ইকবাল মাহমুদ।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি যে, আমাদের যারা জনপ্রতিনিধি হবেন, তারা তাদের সম্পত্তির হিসাব হলফনামায় সঠিকই দেবেন। যদি কেউ সঠিক না দেয়, তার জন্য কমিশনে ডেফিনেটলিব্যবস্থা নেবে। আমি মনে করি না, কোনো দুর্নীতিবাজকে আমাদের দেশের মানুষ নির্বাচিত করবে। যদি এমন কিছু হয়, তাহলে আমরা আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করব।’

দুর্নীতিবাজদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না দেয়ার ব্যাপারে কোনো সুপারিশ থাকবে কি না-এমন প্রশ্নের উত্তরে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘নো, সুপারিশ আমাদের থাকবে না। কারণ হচ্ছে, যেকোনো নাগরিক নির্বাচন করতে পারে আরপিও অনুসারে, তাতে আমাদের কিছু করার নেই। সেটা সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন। আমরা স্বপ্রণোদিত হয়ে ইলেকশন কমিশনের কাছে ক-খ-গ (অমুক, অমুক, অমুক) কারও বিরুদ্ধে সুপারিশ করব না। আর সাজাপ্রাপ্তদের বিষয় ইসি সিদ্ধান্ত নেবে।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘সামনে নির্বাচন আছে কি নেই সেটা বিবেচনা না করেই আমরা আমাদের কাজ করি। অবৈধ সম্পদ যাদের আছে, তাদেরকে আমরা ধরব।’

দুর্নীতিকে হিমালয়ের পাহাড়ের মতো সমস্যা উল্লেখ করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আপনি যদি ডাইনে হাত দেন দুর্নীতি, বামে হাত দেন দুর্নীতি। সেই জন্যই বলি যে শুধু আমরা একা হৈ চৈ করলে হবে না। এতে আপনাদের (সংবাদ মাধ্যম) লাগবে, সরকার লাগবে, সবাইকে লাগবে। আমরা চাই একটা সুন্দর দেশ। দুর্নীতি মুক্ত একটি দেশ। আমাদের দেশের ইজ্জত যদি চাই, তাহলে একযোগে কাজ করতে হবে।’

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিলেনিয়াম চ্যালেঞ্জ কর্পোরেশনের (এমসিসি) মূল্যায়নে চার ধাপ অবনতি ঘটেছে বাংলাদেশের। সংস্থাটির প্রকাশ করা চার্ট-২০১৯ এ দুর্নীতিসহ ১১ সূচকে রেড জোনে আছে বাংলাদেশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইকবাল মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, ২০১৭ সালে আমরা সবুজ জোনে ছিলাম। কিসের ভিত্তিতে ওই সংস্থাটির জরিপে রেড জোনে আসল বাংলাদেশ সেটাও আমার প্রশ্ন।

তিনি আরও বলেন, তাদের (এমসিসি) মূল্যায়নে দুর্নীতির ঘাটতি কম বলা হয়েছে। তবে আমি বলব, কেন আমরা রেড জোনে পড়লাম তা খতিয়ে দেখব।

কীভাবে গ্রিন জোনে যাওয়া যায় সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান দুদক চেয়ারম্যান।

এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুইয়া সম্প্রতি এনবিআরের দুর্নীতির উৎস সংক্রান্ত দুদকের সুপারিশের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নেরে উত্তরে বলেছিলেন, ‘তদন্ত করলে দুদকেরও দুর্নীতি বেরিয়ে আসবে।’

এনবিআর চেয়ারম্যানের ওই বক্তব্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইকবাল মাহমুদ বলেন, আমি কারো মন্তব্যের বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না। আমলা হোক বা যেই হোক জেনে বুঝে মন্তব্য করা উচিৎ। তবে এটুকু বলতে চাই-আমরা দুর্নীতি চিহ্নিত করে সরকারের কাছে রিপোর্ট দেই তা নির্মূল করার জন্য। আমরা কাউকে টার্গেট করে প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেদন তৈরি করি না।

তিনি বলেন, এ প্রতিবদেনকে ইতিবাচকভাবে না নেয়া হলে বুঝতে হবে আমরা সত্যকে অস্বীকার করছি।

দুদক চেয়ারম্যান আরও বলেন, আমাদের সুপারিশের মধ্যে সব সত্য তাও বলছি না। আমাদের প্রতিপক্ষ ভাবলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ হবে না। দুদকের একার পক্ষেও দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, তবে এটাও সত্য যে, আমরা স্বীকার করছি-দদুকে সমস্যা আছে। দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত করে তা বন্ধ করার ব্যবস্থা করছি। কারণ দুদক ধোয়া তুলসিপাতা নয়। এ কারণে অনেকের চাকরি গেছে। এখান থেকে অনেককেই বদলি করা হয়েছে। দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

এনবিআর কার্যালয়ে দুদকের অফিস স্থাপন করা হবে সুপারিশে এমন বিষয় ছিল কিনা- তার জবাবে ইকবাল মাহমুদ বলেন, এটা হাস্যকর। কেউ কি মনোবিজ্ঞানী যে, আমার মনের কথা বুঝতে পারবে, আমি কী ভাবছি?

তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারি সব দফতর ও সংস্থাকে দুদককে সহযোগিতা করতে হবে। শুধু মামলা করে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়।

/ই

Ads
Ads