যেভাবে ভিআইপি কবরের নামে টাকা নেওয়া হচ্ছে!

  • ১২-Oct-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

‘মরেও শান্তি পাবেন না’ কথাটা হরহামেশাই শোনা যায়। এটা বদদোয়া কিংবা কথার কথা যা-ই হোক না কেন,  ঢাকা শহরে সরকারি বড় দুটি গোরস্থানে আদপে তা-ই হচ্ছে। মানুষের ইহজীবন শেষের এই শেষ ঠিকানা নিয়ে ব্যবসায় মেতেছে একদল গোরখোদক।

সরকারি গোরস্থানে স্থান সংকটের কারণে নিয়মিত বিরতিতে পুরোনো কবর মাটিতে মিশিয়ে সদ্যমৃতদের কবর দেয়ার জায়গা করে দেয় নগর কর্তৃপক্ষ। তাই কারো কবর সংরক্ষণের সুযোগ থাকার কথা নয় সেখানে। কিন্তু  মাস চুক্তিতে নিয়মিত ভাড়া দিয়ে গেলে কবর টিকিয়ে রাখা যায় মেয়াদের পরও। তাই পরিবারের মৃত মানুষটির শেষ স্মৃতিচিহ্ন টিকিয়ে রাখতে মাসিক চুক্তিতে কবরের ভাড়া দেন অনেকে।

সরকারি গোরস্থানগুলোর মধ্যে  সবচেয়ে বেশি পরিচিত আজিমপুর কবরস্থান। ৩০ একরের বেশি জমি নিয়ে ১৮০৭ সালের দিকে এর গোড়াপত্তন হয়। রাজধানীতে মানুষের আনাগোনা এবং বসতি যখন ঘন থেকে ঘন হচ্ছিল তখন এত বড় জমিতেও হচ্ছিলো না সাড়ে তিন হাত মাটির সংস্থান। গড়ে ৩৫-৪০ টি কবর প্রয়োজন পড়ে প্রতিদিন। আর বছরে লাগে প্রায় ১৩ হাজার কবর। তাই পুরোনো কবর ভেঙে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়ে নতুন কবর দেবার জায়গা করে দেয়া হয়। এ প্রক্রিয়াকে বলে কবর ‘চালা’ দেয়া।

কিন্তু কিছু কিছু কবর কখনও ভাঙা হয় না। এগুলোর কোনোটি দামি টাইলস পাথরে মোড়ানো, কোনোটির চারপাশে নানা ফুলের চারা লাগানো রয়েছে। বছরের পর বছর কবরগুলোকে একই রকম দেখা যায়। কবরস্থানের কর্মচারীদের কাছে এগুলো ভিআইপি কবর নামে পরিচিত।

আজিমপুর কবরস্থানের মোহরার মৌলভী মিজানুর রহমান জানান, ভিআইপি নামে পরিচিত কবরগুলো কেনা বা পারিবারিক কবর। এসব কবরে শুধুমাত্র পরিবারের সদস্যদের দাফন করা হয়। এ ধরনের কবরের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৩ হাজার।

তিনি জানান, এক সময় আজিমপুর কবরস্থানে ৪ ফুট বাই ৮ ফুট আয়তনের কবর বিক্রি হতো। ক্রমবর্ধমান রাজধানী ঢাকায় কবরের চাহিদা বাড়তে থাকায় ১৯৯৩ সালের পর কবর বিক্রি বন্ধ করে দেয়া হয়। এখন শুধু পরিবারের সদস্যদের কেনা কবরে দাফন করা হয়।

মেয়র সাঈদ খোকনের নির্দেশে সম্প্রতি আজিমপুরসহ ডিএসসিসি এলাকাধীন সব কবরস্থানে বিনামূল্যে কবর অর্থাৎ লাশ দাফন করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের জন্য এ সুযোগ থাকলেও ভিআইপি কবর অর্থাৎ যাদের কেনা কবর রয়েছে তাদের জন্য এ সুযোগ নেই।

কবরস্থানের মোহরার মিজানুর রহমান জানান, ক্রয়কৃত ‘ভিআইপি কবরে’ আবারও কবর দিতে গুণতে হয় ১৫ হাজার টাকা। পুনরায় রেজিষ্ট্রেশন ফি হিসেবে এ ফি গুণতে হয়। গত বছর এরকম কেনা কবরে মোট ১৫৭ জনকে পুনরায় দাফন করা হয়।

 

/কে 

Ads
Ads