চট্টগ্রাম আদালত ছিল জঙ্গিদের টার্গেট

  • ৫-Oct-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

ঠিক এক যুগেরও বেশি আগে চট্টগ্রাম আদালতের দ্বিতীয় যুগ্ম জেলা জজ আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন এবং মহানগর হাকিম আকরাম হোসেনের এজলাসে আত্মঘাতী হামলা চালায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)। ৩ অক্টোবরের সেই পৈশাচিক ঘটনার ১৩ বছর পূর্ণ হয়েছে দুদিন আগে। আবারও চট্টগ্রাম আদালতে হামলার পরিকল্পনা করেছিল জেএমবি। কিন্তু র‌্যাবের অভিযানে তা ভেস্তে গেছে।

চট্টগ্রামের আদালতে হামলার টার্গেট নিয়েই জঙ্গিরা মিরসরাই উপজেলায় মহাসড়কের পাশের জোরারগঞ্জের সোনাপাহাড় এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে উঠেছিল বলে অভিযান শেষে জানিয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। ‘আস্তানা’ থেকে যে রাইফেল উদ্ধার করা হয়েছে, একই ধরনের অস্ত্র ঢাকার হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টা থেকে উত্তর সোনাপাহাড় এলাকার একতলা টিনের বাড়িটি ঘিরে রাখে র‍্যাব। আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা থেকে বম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা সেখানে পৌঁছান। দুই ঘণ্টা পর তাঁরা অভিযান শেষ করার ঘোষণা দেন।

অভিযান শেষে র‍্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ ঘটনাস্থলে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বাড়ির ভেতর থেকে দুই জঙ্গির ছিন্নভিন্ন লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাঁরা নিজেদের বোমা বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক, একটি একে ২২ রাইফেল, তিনটা পিস্তল, পাঁচটি গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়েছে।’

অভিযান সম্পর্কে মুফতি মাহমুদ বলেন, ‘এ অঞ্চলে একটি জঙ্গিদল অস্ত্র নিয়ে সংগঠিত হচ্ছে, গোপন সংবাদে সেটা জানা যায়। তারা যে যার মাধ্যমে যোগযোগ রক্ষা করত, সেটি র‍্যাব চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়। তার ভিত্তিতেই এ অভিযান চালানো হয়। রাত সাড়ে ৩টায় যখন অভিযান শুরু হয়, এর মধ্যে গোলাগুলি ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রাত সাড়ে ৪টার দিকে বাড়ির মালিক ও তত্ত্বাবধায়ককে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করি।’

‘তাঁরা জানিয়েছেন, ২৮ সেপ্টেম্বরের দিকে সোহেল নামের এক ব্যক্তি এই বাড়ি ভাড়া নেয়। সে বলে, তার স্ত্রী, শাশুড়ি ও আরো একজন থাকবেন। সে আরো বলে, বিএসআরএমে চাকরি করে।’

মুফতি আরো বলেন, এখন থেকে যে একে ২২ রাইফেল উদ্ধার করা হয়েছে, এটি হলি আর্টিজানের হামলার সময় ব্যবহৃত হয়। আমাদের কাছে তথ্য ছিল, খুব তাড়াতাড়ি তারা চট্টগ্রামে নাশকতার পরিকল্পনা করছিল। কিছু ডকুমেন্টসও আমরা পেয়েছি যে, চট্টগ্রামের আদালতে তাদের একটা নাশকতা করার পরিকল্পনা ছিল।

মুফতি মাহমুদ খান সাংবাদিকদের জানান, আমাদের কাছে তথ্য ছিল জঙ্গি সংগঠন জেএমবির একটি গ্রুপ সক্রিয় ছিল। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টা থেকে আমরা অভিযান শুরু করি। অভিযানের শুরুতেই ঘরের ভেতরে থাকা জঙ্গিরা গুলি ছোঁড়ে। এর কিছুক্ষণ পরই তারা কয়েকটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়।
 
তিনি জানান, ভোর ৪টার নাগাদ জঙ্গিরা বড় ধরনের একটি বিস্ফোরণ ঘটায়। চৌধুরী ম্যানশন নামের বাড়িটিতে মোট পাঁচটি কক্ষ রয়েছে। বড় বিস্ফোরণটি ঘটার আগে তাদেরকে আমরা আত্মসমর্পনের সুযোগ দিয়েছিলাম। তারা সেটি গ্রহণ করেনি। বড় ওই বিস্ফোরণের পর ঘরের ভেতর আর তাদের কোনো সাড়া শব্দ পাওয়া যায়নি।

বাড়িটি ঘিরে রাখার পর র‍্যাব কিছুক্ষণের জন্য ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। গাড়িগুলো তখন বিকল্প পথে চলাচল করে। পরে অবশ্য মূল পথ খুলে দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে প্রায় দুই ঘণ্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। ভোররাত ৪টার পরে বাড়ির ভেতরে তিন-চারটি বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এতে বাড়ির ছাদের বড় একটি অংশ উড়ে গিয়ে প্রায় ৩০ গজ দূরে পড়ে।

র‌্যাব কর্মকর্তা সাফায়াত জামিল জানান, শুক্রবার সকাল সোয়া ১১টার দিকে বাড়ির ভেতর থেকে দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বেলা ১২টার দিকে অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

 

/কে 

Ads
Ads