আর্ত মানবতার সেবায় বরগুনার সুনাম দেবনাথ ব্লাড ফাউন্ডেশন    

  • ৪-Sep-২০১৯ ০৬:৪২ অপরাহ্ন
Ads

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সুনাম দেবনাথ ব্লাড ফাউন্ডেশন আর্ত মানবতার কল্যানে বরগুনার অসহায় মানুষদের পাশে সেবার হাত বাড়িয়ে দিন রাত অবিরাম পরিশ্রম করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুনাম দেবনাথ। তিনি বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য  এবং  মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ছেলে।            

২০১৪ সালের ১৭ই জুন রক্তদান কর্মসূচির মাধ্যমে সল্প পরিসরে এ সংগঠনটির যাত্রা শুরু হলেও বিগত দিনগুলোতে সংগঠনটি শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, বানভাসি মানুষদের পাশে দাঁড়ানো, অসহায়দের ঈদবস্ত্র প্রদান,  রমজান মাসে ইফতার মাহফিল ও ইফতার সামগ্রী বিতরণ, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও চিকিৎসা সামগ্রী প্রদান,  অস্বচ্ছলদের চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহ, ফ্রি ব্লাড গ্রুপ ক্যাম্পেইন  ও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উদ্ধুদ্ধকরণ বিষয়ক বেশ কিছু কর্মশালার আয়োজনসহ বিভিন্ন সমাজ সেবামূলক কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ে।   

এ সংগঠনটি এ পর্যন্ত বরগুনা এবং আশেপাশের এলাকায় পঞ্চাশ হাজারেরও বেশি মানুষকে বিনামূল্যে রক্তদান  এবং রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ে সাহায্য করেছে।  

সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে  যুবক ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে পরিচালিত স্বেচ্ছাসেবী এ সংগঠনটি ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে লালমনিরহাটে ধরলা নদীর তীরবর্তী এলাকায় বন্যার্ত ১ হাজার পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে চাল, ২ কেজি করে ডাল এবং চিড়া, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, পানি বিশুদ্ধ করণ ট্যাবলেট বিতরণ করে দেশব্যাপী ব্যাপকভাবে আলোচনায় চলে আসে। ২০১৮ সালে বরগুনার মাঝেরচর, গুলিশাখালী, বালিয়াতলীসহ পায়রা ও বিষখালী নদীর উপকূলবর্তী এলাকায় বসবাসরত ১৫০০ অসহায় পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয় এ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে।  

তাছাড়া প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বরগুনার অবহেলিত ও দরিদ্র মানুষের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে সুনাম দেবনাথ ব্লাড ফাউন্ডেশন। গত আগস্টে  গুজব অপপ্রচার রোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণু বহনকারী এডিস মশা সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে বিভিন্ন  কার্যক্রম হাতে নেয় প্রতিষ্ঠানটি।  সেখানে তারা ৭৫ জন রোগীর ডেঙ্গুজ্বর নির্ণয়ে বিনামূল্যে  বিভিন্ন পরীক্ষা করার পাশাপাশি ৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সবরকম চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজে প্রেরণ করা হয়।  এসবের পাশাপাশি বিভিন্ন বিশেষ দিবস উপলক্ষে বরগুনার বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয় ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে। এসব মেডিক্যাল ক্যাম্পে দন্ত, চক্ষু, গাইনি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞরা রোগী দেখেন। সেখানে মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদানের পাশাপাশি চাহিদামত ঔষধও বিতরণ করা হয় ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে। দুরারোধ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত মিরাঙ্কা, হুজাইফা, রাবেয়াসহ পর্যন্ত প্রায় দু'শতাধিক অসহায় মানুষের চিকিৎসাসেবার খরচও এ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বহন করা হয়েছে। 

বরগুনার তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের ভাগ্য বিড়ম্বিত দম্পতি জালাল হোসেন মুসুল্লী এবং খাদিজা আক্তারের স্বপ্ন ছিলো একটি মুদি দোকান আর একটি দুধেল গাই। তাদের সহযোগিতার নামে বরগুনার কিছু অসাধু লোক যখন হরিলুটে নেমেছিলো তখন সেই দম্পতির পাশে দাঁড়ায় সুনাম দেবনাথ ব্লাড ফাউন্ডেশন। বন্ধ হয়ে যায় সব রকম অপতৎপরতা। ২০১৮ সালের মে মাসে  ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এ দম্পতিকে কিনে দেয়া হয় একটি দুধেল গাই। করা হয় আর্থিক সহযোগিতা। 

স্থানীয়রা এ প্রসঙ্গে বলেন, কেবল রক্তদান কর্মসূচি আর সমাজসেবামূলক কিছু কার্যক্রমের সাথেই সুনাম দেবনাথ ব্লাড ফাউন্ডেশন জড়িত তা নয়, বরগুনা জেলার শিক্ষার প্রসারেও নীরবে ভূমিকা রেখে যাচ্ছে ফাউন্ডেশনটি। তারা আরও বলেন, জেলার যে যেসকল মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার খরচ চালানোর সামর্থ্য নেই তাদের পাশেও সাধ্যমতো দাঁড়িয়েছে ফাউন্ডেশনটি।  বরগুনার পৌর এলাকার নোমান, রাসেল, শুভসহ শতাধিক শিক্ষার্থীর পড়াশুনার খরচ নির্বাহ করা হচ্ছে  এ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে। এছাড়া বরগুনার আশ্রায়ন প্রকল্পগুলিতে নিয়মিত  ফ্রি শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয় ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে।                

এ প্রসঙ্গে ব্লাড ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা  সুনাম দেবনাথ বলেন, আমি সারাজীবন আমার বাবাকে দেখেছি জনমানুষের ন্যায়সঙ্গত অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনীতি করতে। আমি আমার অবস্থান থেকে সে পথটি অনুসরণ করতে চেয়েছি। আমাদের এ ব্লাড ফাউন্ডেশনটি সম্পূর্ণ একটি অরাজনৈতিক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। তিনি আরও বলেন,  আর্ত মানবতার সেবায় বরগুনার যুব সমাজকে উদ্বুদ্ধ করার একটা চেষ্টা এ ফাউন্ডেশন থেকে আমরা চালিয়ে   যাচ্ছি। কারণ, আমরা বিশ্বাস করি, আর্ত মানবতার সেবায় যুব সমাজকে নিয়োজিত করা গেলে সামাজিক অপরাধসমূহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা সুদৃঢ় হবে। সামাজিক বন্ধনও শক্তিশালী হবে। কারণ, মানবতার কল্যাণে নিবেদিত ব্যক্তিরা সামাজিক অপরাধ করতে পারে না।

Ads
Ads