ষড়যন্ত্রের শিকার সিটি ব্যাংক, বেরিয়ে এলো থলের বিড়াল!

  • ২৭-Aug-২০১৯ ০৯:৪৫ অপরাহ্ন
Ads

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::

মূলত ষড়যন্ত্রের শিকার স্বনামধন্য দি সিটি ব্যাংক লিমিটেড। সিটি ব্যাংকের সাবেক কিছু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই  ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত বলে বিশ্বস্তসূত্রে জানা গেছে। ব্যাংকটির দু-একজন সাবেক এএমডি ও ডিএমডি সেসময় এমডি হতে না পারায় ক্ষোভ থেকে বর্তমানে এই ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন। এজন্যই ঢাল হিসেবে রেডিসন হোটেলের এক সময়ের স্পা গার্ল কিংবা নয়াপল্টনের হোটেল অর্চাড প্লাজার রিসিপসনিস্ট পরবর্তীতে সিটি ব্যাংকে চাকরি পাওয়া মনিরা সুলতানা পপিকে নেপথ্যে থেকে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রশ্ন হলো, একজন স্পা গার্ল কিংবা হোটেল রিসিপসনিস্ট পপি সিটি ব্যাংকে চাকরি পেলেন কিভাবে! কে তাকে চাকরি দিলেন!

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কোনো এক কৌশলে পপি সিটি ব্যাংকে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে সফল হয়। তবে নানা অনিয়মের কারণে সিটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাকে অব্যাহতি দিতে বাধ্য হয়। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে মনিরা সুলতানা পপির সঙ্গে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত সাবেক কর্মকর্তারা। তারা সিটি ব্যাংক এবং ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুনাম, সম্মানহানি, ব্ল্যাকমেইলিং করাসহ পপির মাধ্যমে পূর্বের ব্যক্তিগত ক্ষোভ উগ্রে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সম্প্রতি পপি ব্যাংকের কাছে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি এবং তার পদে প্রমোশনসহ পুনর্বহালের অযৌক্তিক হুমকি দেয়, যা সম্পূর্ণ ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শামিল। পপির ৫ কোটির টাকা চাঁদা দাবির ৪৫ মিনিটের ভয়েজ রেকর্ড ভোরের পাতার কাছে রয়েছে। ভয়েজ রেকর্ডটিতে শোনা যায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও কয়েকজন এমপির রেফারেন্স দিয়ে মনিরা সুলতানা পপি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে হুমকি দিয়ে ৫ কোটি টাকা দাবি করে। 

সিটি ব্যাংকে অধিক পর্যালোচনায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মনিরা সুলতানা পপি সিটি ব্যাংকের আগে অন্য কোনো ব্যাংকে চাকরি করেননি। মূলত সে ছিল একজন স্পা গার্ল। রেডিসন হোটেলের স্পাতে ছিল। সেখান থেকে সিটি ব্যাংকের সাবেক এক কর্মকর্তার মাধ্যমে ব্যাংকটিতে যোগদান করতে সমর্থ্য হয়। চাকরিতে যোগদানের পরবর্তী সময়ে ব্যাংকে কর্মরত অবস্থায় তার জীবনযাপন ও চলাফেরায় আগের উগ্রতা প্রকাশ পায়। এরই মধ্যে পপি সিটি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল আর কে হোসাইনের ব্যক্তিগত সহকারীর দায়িত্ব পেয়ে যায়। এই সুবাদে ব্যাংকের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে গোপনে অবৈধভাবে ড্রাইভারদের ওপর নিজস্ব প্রভাব খাটিয়ে মোট ২৫০ দিন মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত গাড়ি ব্যবহার করে পপি। ব্যাংকের ড্রাইভারদের বক্তব্য অনুযায়ী, মনিরা সুলতানা পপি মধ্যরাতে বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, পার্লারসহ অন্যান্য স্থানে যেতেন। মধ্যরাতে ওইসব স্থানে যাওয়ার সময় অপরিচিত লোকজন গাড়িতে উঠে বসতো। পপি নিয়মিত নেশা করতেন বলেও ড্রাইভারদের বক্তব্যে প্রকাশ পেয়েছে। এসব প্রমাণাদি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করেছে। 

জানা গেছে, গত ২১ আগস্ট চাকরিচ্যুত হওয়া পপির বিরুদ্ধে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় মামলা করেছে বেসরকারি খাতের দি সিটি ব্যাংক লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। ব্যাংকের পাওনা প্রায় ১ কোটি টাকা ফেরত না দেওয়ার জন্য নানা টালবাহানা করেন পপি। এমনকি ৫ কোটি টাকা চাঁদা আদায় করতে না পেরে ব্যাংকটির তিন প্রধান কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মিথ্যে শ্লীলতাহানির মামলাও করেছেন বলে সুনিদিষ্ট অভিযোগ রয়েছে চাকরিচ্যুত হওয়া ওই নারীর বিরুদ্ধে।

একটি সূত্র জানায়, সিটি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল আর কে হোসেনের ব্যক্তিগত সহকারী মনিরা সুলতানা পপির বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাবিরোধী নানা অভিযোগ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছিল। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর পে-রোল ব্যাংকিং বিভাগে তাকে বদলি করা হয়। বদলির পর থেকে পপি দীর্ঘদিন কর্মস্থলে কোনো ধরনের পূর্বানুমতি ছাড়াই অনুপস্থিত ছিলেন। ব্যাংকের নিয়ম ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাকে তিনবার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে নোটিস পাঠায় কর্তৃপক্ষ। তারপরও তিনি কর্মস্থলে যোগদান না করায় এবং অননুমোদিত অনুপস্থিত থাকায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে অব্যাহতি পান।

বর্তমানে প্রভিডেন্ট ফান্ড ঋণ, হাউজ বিল্ডিং ঋণ, ক্রেডিট কার্ড ও গাড়ির ঋণ, ব্যক্তিগত ঋণখাতে মনিরা সুলতানা পপির কাছে তার চাকরিরত থাকাকালে যাবতীয় প্রাপ্ত টাকা সমন্বয় করার পরও ব্যাংকের প্রায় ১ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এসব ঋণের টাকা পরিশোধ করার জন্য তাকে নোটিসও দিয়ে যাচ্ছে।

ব্যাংক সূত্র বলছে, নোটিসের উত্তর তো পপি দেননি। উল্টো সিটি ব্যাংক এবং ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুনাম, সম্মানহানি, ব্ল্যাকমেইল করাসহ ব্যক্তিগত ক্ষোভ চরিতার্থ, অন্যায় ও অবৈধভাবে ৫ কোটি টাকা অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছেন। গুলশান থানায় শ্লীলতাহানির মামলা করে অপপ্রচার চালাচ্ছেন মনিরা সুলতানা পপি, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আর একাজে তাকে সহযোগিতা করছেন  সিটি ব্যাংকের সাবেক দুুজন এএমডি ও ডিএমডি। 

পপির ৫ কোটির টাকা চাঁদা দাবির ৪৫ মিনিটের ভয়েজ রেকর্ডও ব্যাংকের কাছেও রয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। এছাড়াও ব্যাংকে চাকরির আড়ালে নিজের একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন পপি। লেগেসি মেকওভার (বিউটি পার্লার), লেগেসি ইন্টারন্যাশনাল প্রি স্কুল অ্যান্ড ডে-কেয়ার (স্কুল), লেগেসি গ্লোবাল কনসালটেন্সি (এজেন্ট ব্যাংকিং), এনএমসি এন্টারপ্রাইজ (এজেন্ট ব্যাংকিং) নামে তার চারটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যা সিটি ব্যাংকের সঙ্গে তার চাকরির শর্তের খেলাপ হয়েছে। তার এইসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে যা ভোরের পাতার অধিকতর তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। তার চারটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ঠিকানাগুলো- (লেগেসি মেকওভার) এইচ-২৭৭, রোড-১৬, ব্লক- কে, দক্ষিণ বনশ্রী, ঢাকা, (লেগেসি ইন্টারন্যাশনাল প্রি স্কুল অ্যান্ড ডে-কেয়ার) এইচ-৭০, রোড-৬, ব্লক-বি, দক্ষিণ বনশ্রী, ঢাকা, (লেগেসি গ্লোবাল কনসালটেন্সি) বনশ্রী, ঢাকা, (এনএমসি এন্টারপ্রাইজ)  এইচ-৭০, রোড-৭, বক্ল-বি, দক্ষিণ বনশ্রী, ঢাকা। এসব ঘটনায় ২০ আগস্ট মনিরা সুলতানা পপির বিরুদ্ধে রাজধানীর গুলশান থানায় একটি মামলা করেছেন সিটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের লিগ্যাল ডিভিশনের হেড অব কোর্ট অপারেশন একেএম আইয়ুব উল্লাহ।

মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা পপি চাকরিতে পুনর্বহালসহ নগদ ৫ কোটি টাকা ও বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার অযৌক্তিক দাবি করেছেন। এসব দাবি মেনে নেওয়া না হলে এমডিকে চাকরি করতে দেবেন না এবং নানাভাবে হয়রানি করারও হুমকি দেন। এমনকি এমডির সম্মানহানি করার হুমকিও দিয়েছেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) স ম কাইয়ূম বলেন, সিটি ব্যাংকের অভিযোগ মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। এরই মধ্যে এর তদন্তও শুরু হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, মনিরা সুলতানা পপি (৩৬), ঠিকানা : বাসা-২২, রোড-১, ব্লক-বি, কুইন্স গার্ডেন, নুরের চালা বাজার, গুলশান, ঢাকা-১২১২, দি সিটি ব্যাংক লিমিটেড, প্রধান কার্যালয়, ১৩৬, গুলশান এভিনিউ, গুলশান-২, ঢাকা-১২১২ এ সর্বশেষ সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিল। ব্যাংকে তিনি চাকুরিরত থাকা অবস্থায় অর্থাৎ গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১০ইং থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ইং পর্যন্ত সময়ে ব্যাংকের প্রাক্তন ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল আর কে হোসাইন-এর পিএস হিসেবে কাজ করতো এবং সে তাকেই সরাসরি রিপোর্ট করতো। 

বিষয়টি জানাজানি হলে তাকে তৎকালীন এমডি এবং হেড অফ এইচআর মৌখিকভাবে সাবধান করেন এবং ২০১৮ইং সনের ডিসেম্বর মাসে তাকে ডিএমডি অপারেশন ও হেড অফ এইচআর আবারও মৌখিকভাবে সতর্ক করেন। ইতিপূর্বে এমডি সোহেল আর কে হোসেইন মনিরা সুলতানা পপিকে গত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং তারিখে পে-রোল ব্যাংকিং বিভাগে বদলি করেন। তখন থেকে মনিরা সুলতানা পপি প্রায় কর্মস্থলে থাকত। ব্যাংকের নিয়ম ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাকে ৩ (তিন) বার রেজিস্ট্রিকৃত ডাকযোগে নোটিশ প্রেরণ করে। কিন্তু তিনি কর্মস্থলে যোগদান না করায় এবং দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অননুমোদিত অনুপস্থিত থাকায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে অব্যাহতি পান।  

এদিকে গত ১৩ থেকে ১৫ জুলায় গুলশানের বার্টলারস ক্যাফেতে বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা অবধি সিটি ব্যাংকের সাবেক এএমডি বর্তমানে মেঘনা ব্যাংকের এমডি আদিল ইসলামের সঙ্গে পপিকে দীর্ঘ সময় মিটিং করতে দেখা গেছে। আদিল ইসলামকে একসময় সিঙ্গাপুর থেকে সিটি ব্যাংকের এমডি করার জন্য বিশেষভাবে নিয়ে আসা হয়েছিল এবং এএমডি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পারফরমেন্স সন্তোষজনক না হওয়ায় এমডি হওয়ার দৌড়ে আদিল ইসলাম ছিটকে পড়েন। জানা গেছে, এরই প্রতিশোধ নিতে সম্প্রতি তিনি পপির সঙ্গে ষড়যন্ত্রে যুক্ত হয়েছেন। তাদের দুজনকে দেখা গেছে বার্টলারস ক্যাফেতে। এছাড়াও গত এক মাসের মধ্যে পপি গুলশানস্থ মেঘনা ব্যাংকের হেড অফিসে আদিল ইসলামের সঙ্গে ৩/৪ বার দেখা করেছেন।

এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সিটি ব্যাংকের সাবেক এএমডি আদিল ইসলাম ভোরের পাতাকে বলেন, ‘যে কারো সঙ্গে যে কোনো স্থানে দেখা হতেই পারে। আমার সঙ্গে অনেকেই দেখা করেন। এর বেশি আপনাকে কনফার্ম করতে পারছি না।’ 

সিটি ব্যাংকের এমডি মাশরুর আরেফিন মামলা প্রসঙ্গে নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘আমার বিরুদ্ধে, আমি ও আমার দুই সিনিয়র সহকর্মীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে, ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত এক নারী নোংরা হয়রানির অভিযোগ এনেছেন। ইতোমধ্যে মহামান্য উচ্চ আদালত আমাদেরকে জামিন দিয়েছেন। সিটি ব্যাংকও পরে যৌক্তিক কারণে এই নারীর নামে প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মামলা করেছে। ব্যাপারটি এখন বিচারাধীন।’

তিনি লিখেছেন, ‘আমি সিটি ব্যাংকের এমডি হিসেবে দায়িত্ব নিই ১৭ জানুয়ারি, ২০১৯ তারিখে। এর চারদিন পরই ২১ জানুয়ারি ব্যাংকের বেশকিছু আইন ভঙ্গ ও ভাবমূর্তি পরিপন্থী কাজ করার কারণে ওই নারীকে অন্য চাকরি খোঁজার জন্য বলি। ঘটনা আরও অনেক আগের। তিনি ছিলেন আমাদের প্রাক্তন এমডির পিএস।’ 

এক এক করে নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে মাশরুর আরেফিন কটি কারণ তুলে ধরে লিখেছেন,

‘১. বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের ৩১.১২.২০১৭-এর অডিট রিপোর্টে আমাদেরকে লিখিতভাবে অডিটরদের সঙ্গে তার অসহযোগিতা সংক্রান্ত একটি অভিযোগ জানান। 

২. এরপর ল্য মেরিডিয়েন হোটেলের কর্তারা গত সেপ্টেম্বরে সশরীরে ব্যাংকে এসে আমাদেরকে জানান যে, আমাদের এই নারী কর্মী তাদের হোটেলের রেস্টুরেন্ট/বেকারিতে নিজের ব্যক্তিগত লোকজন নিয়ে ব্যাংকের নামে ‘বকেয়া‘ বিল করে চলেছেন এবং ব্যবহারও খারাপ করছেন।
৩. অক্টোবর ২০১৮ নাগাদ ব্যাংকের ড্রাইভাররা তার বিরুদ্ধে হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্টে নানা অভিযোগ জানাতে থাকেন। তখন পর্যন্ত তিনজন ড্রাইভার লিখিত জানান যে, তিনি অফিসের পর সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত এবং কখনো কখনো ভোর অবধি ব্যাংকের পুলের গাড়ি নিয়ে নানা জায়গায় যান এবং তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। ব্যাংকের নিজস্ব তদন্তে পরে বেরিয়ে আসে যে, তিনি মোট ২০০ রাতের বেশি রাত ব্যাংকের পুলের গাড়ি  নিয়ে বিভিন্ন স্থানে গিয়েছেন। ১৫ জন ড্রাইভার তাদের লিখিত জবানিতে আমাদেরকে এ বিষয়ে অনেক কিছু জানান। এরই পরিণতিতে পরে (এপ্রিল ২০১৯-এ) পুলকারের দায়িত্বে থাকা ব্যাংকের জেনারেল অ্যাডমিন বিভাগের একজনের চাকরি চলে যায় এবং আরও দুজন অন্য শাস্তিপ্রাপ্ত হন।
৪. ড্রাইভারদের বিবৃতি থেকেই বেরিয়ে আসে যে, তিনি ব্যাংকের চাকরির পাশাপাশি, ব্যাংকের কোনো অনুমতি ও অবগতি ছাড়া, নিজের কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছেন, যা ব্যাংক চাকরিবিধি নং ২১-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ওই নারীর নিজ নামে ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স এসময়  আমাদের হাতে আসে।’

তিনি লিখেছেন, ‘ওপরের এতগুলো কারণের প্রেক্ষিতে আমি ব্যাংকের প্রশাসন প্রধান হিসেবে তাকে, আগেই যেমন বলেছি, ২১ জানুয়ারি অন্য চাকরি খুঁজতে বলি। এরপর থেকে তিনি অফিসে আসা বন্ধ করে দেন এবং একপর্যায়ে অফিস থেকে ‘আনঅথরাইজড অ্যাবসেন্সের’ কারণে তার চাকরি ২০১৯-এর মে মাসের শুরুতে ‘শূন্য’ হয়ে যায়। তারপর ব্যাংক থেকে চিঠি যায় তার হোম লোন ও অন্যান্য লোন পরিশোধ করার বিষয়াদি নিয়ে।’ 

তিনি আরও লিখেছেন, ‘এরপরই এই মামলা, যার প্রথম ‘আসামি আমি। অন্যদিকে থানা তার মামলা নেওয়ার আগের দিন তিনি আমাদেরকে বলেন যে, তাকে ৫ কোটি টাকা দেওয়া হলে তিনি এ মামলা করবেন না। তার এই ব্লাকমেইলিং প্রচেষ্টাকে শক্তপোক্ত করতে তিনি তার কথোপকথনে দেশের কজন মানী ও প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম নিয়ে ব্যাংককে ভয়ও দেখান। ব্যাংকের কাছে তার এই পুরো কথোপকথনের স্পষ্ট অডিও রেকর্ডিং আছে যা এখন তদন্তে একটি বড় আলামত হয়ে উঠবে বলে আমার ধারণা।’ 

তবে মনিরা সুলতানা পপির সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। 

এ প্রসঙ্গে গুলশান থানার ওসি কামরুজ্জামান বিপিএম ভোরের পাতাকে বলেন, পপির ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবির বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তের সময় এর বেশিকিছু বলতে চাই না।  

এদিকে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় মনিরা সুলতানা পপির বেশকিছু অশালীন ছবি আগেই ভাইরাল হয়ে গেছে। নেটিজেনরা দাবি করেছে, যে মেয়ে নিজেই অশালীন পোশাক পরে, তার আবার কিসের শ্লীলতাহানি! বিতর্কের সূত্রপাত হয় যখন অশালীন পোশাকের বিভিন্ন ভঙ্গিতে ছবি দেওয়াকে কেন্দ্র করে সেখান থেকেই সমালোচনার ঝড় শুরু হয়। বেশ কয়েকজন নেটিজেনরা এই পোশাককে রীতিমতো অশ্লীল ও অশালীন বলে আখ্যায়িত করেছেন।

Ads
Ads