রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনবিরোধী চক্রকে রুখতে হবে

  • ২৪-Aug-২০১৯ ১০:০৪ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

রোহিঙ্গাদেরকে নিজ দেশে ফিরে যেতে সব ধরনের সহযোগিতার ব্যবস্থা করেছিল বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার। মিয়ানমার সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছে দিতে বুধবার রোহিঙ্গাদের জন্য শত শত বাস প্রস্তুত করা হয়েছিল। সর্বোচ্চ সতর্কতায় ছিল নিরাপত্তারক্ষীরা। শুধু প্রশাসনিকই নয়, মানবিক দিক থেকে আর যা যা করার ছিল, সব করা হয়েছিল। কিন্তু রোহিঙ্গাদের কেউ ফেরত যেতে রাজি না হওয়ায় ভেস্তে গেল প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া। মিয়ানমারকে দেওয়া রোহিঙ্গাদের শর্ত না মানায় রোহিঙ্গারা ফিরে যায়নি বলে আমরা জেনেছি এবং বিশ্বাসও করি। কিন্তু একজনও ফিরে যাবে না বিষয়টি খুব স্বাভাবিক ঘটনা নয়। রোহিঙ্গা ইস্যুকে বিভিন্ন খাতে নিয়ে যাওয়ার অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক কোনো রাজনীতির গন্ধ আছে এখানে। থাকতে পারে বিএনপি-জামায়াতের ইন্ধনও।   

ইদানিং বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে রোহিঙ্গাদেরকে জড়িত হওয়ার খবর মিলছে। গত কয়েক দিনে বন্দুকযুদ্ধে কয়েক রোহিঙ্গার নিহতের ঘটনাও ঘটেছে। গত শুক্রবার টেকনাফের যুবলীগ নেতা ফারুক হত্যার পেছনেও পাওয়া গেছে রোহিঙ্গাদের হাত। দেশি অস্ত্রের ব্যবহার করছে তারা। সার্চ করার সময়ও পুলিশ ও প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে তারা গুলি ছুড়ছে। কী ভয়ানক দিকে পরিচালিত করা হচ্ছে তাদের। এদেরকে কারা পরিচালনা করছে সেটাই এখন মুখ্য হয়ে উঠেছে। 

জাতির জনককন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরলস পরিশ্রম করে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে তরান্বিত করেছেন। এই চেষ্টা তিনি অব্যাহত রেখেছেন। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে মিয়ানমারকে চাপ দিচ্ছে বলেই আমরা জেনে আসছি। তারপর গত বুধবার শুরু হতে চলা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ভেস্তে যাওয়া সরকারবিরোধীদের চক্রান্তকেই ইঙ্গিত করে। 

সম্প্রতি পালিত হয়ে যাওয়া ঈদুল আজহার সময় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন এনজিও ও বেসরকারি সংস্থাকে কাজ করতে দেখা গিয়েছে। যদিও এ সময়ে কোনো সংস্থার প্রবেশ সংরক্ষিত ছিল। মানবাধিকার সংস্থার নামে বেশকিছু ভুঁইফোঁড় সংগঠনকেও ক্যাম্পের আশপাশে ও ভেতরে দেখা যায়। এগুলোকে রুখতে হবে। তারাই রোহিঙ্গা ইস্যুকে পুঁজি করে আখের গোছাতে ব্যস্ত বলেই আমাদের বিশ্বাস।

ইতোমধ্যে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দেশি-বিদেশি এনজিওর তালিকা তৈরি করেছে। প্রশাসন প্রত্যাবাসনবিরোধী ও ইন্ধনদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চলেছে। এটা আমাদেরকে আশান্বিত করেছে। খুব দ্রুতই এসব চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত হোক এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

Ads
Ads