শোভন-রাব্বানীতেই আস্থা শেখ হাসিনার; সামনে চার কঠিন চালেঞ্জ!

  • ২৪-Aug-২০১৯ ০৪:৫৪ অপরাহ্ন
Ads

::উৎপল দাস::

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের একমাত্র ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজ হাতে গড়া সংগঠন। এই সংগঠনটিকে ঘিরে বঙ্গবন্ধু কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্যরকম আবেগ অনুভূতি ও ভালোবাসা দিয়ে দেখেন বলেই, অন্য সকল সহযোগী সংগঠনের চেয়ে বেশি গুরুত্ব বহন করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। অনেক কাঠখড় পোড়ানোর পর গত বছরের ৩১ জুলাই সরাসরি শেখ হাসিনার নির্দেশে তার পছন্দের ৮ জন নেতাকে ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেয়া হয়। তাদের মধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হিসাবে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে দায়িত্ব দেয়ার পর প্রায় এক বছর পর কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়। এরপরই শুরু হয় নানা বিতর্ক। সর্বশেষ শোকের মাসে একটি পোস্টারকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিদ্রোহীদ ও সাবেকদের চাপের মুখে পরেন শোভন-রাব্বানী। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখনো পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে জল যতটুকুই গড়িয়েছে, সেখানেই এটির সমাপ্তি টেনেছেন শোভন ও রাব্বানী। তাই তাদের ওপরই শেখ হাসিনা পূর্ণ আস্থা রাখছেন বলেও নিশ্চিত করেছে আওয়ামী লীগের হাই কমান্ড। 

সূত্র আরো বলেছে, ছাত্রলীগের মধ্যে বিতর্কিতদের বাদ দেয়ার বিষয়টি নিয়েও জল ঘোলা কম হয়নি। তখনো খুব ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন শোভন ও রাব্বানী। এরপর নতুন করে তাদের সামনে চারটি চ্যালেঞ্জ জয় করার মিশনও রয়েছে। এই চ্যালেঞ্জগুলোতে পরিপূর্ণভাবে সফল হতে পারলে শোভন রাব্বানীর প্রতি শেখ হাসিনার আস্থা আরো বাড়তে পারে। প্রথমত যে চ্যালেঞ্জটি এখন সামনে এসে দাঁড়িয়েছে, সেটি হচ্ছে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই বা মাঝামাঝি সময়ে চরম বিতর্কিত কয়েকজনকে বাদ দিয়ে, ক্নিল ইমেজের কয়েকজনকে পদায়ন করা। অথবা কমিটির আকার বর্ধিত করে সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে মিলে মিশে ছাত্রলীগকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এ বিষয়ে উভয় পক্ষকেই আরো বেশি সহনশীল বিশেষ করে বিদ্রোহীদের ধৈর্য্য ধরতে হবে। তাহলেই বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান সম্ভব। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যেকোনো মূল্যেই শোভন রাব্বানীকে সফল হতে হবে। 

দ্বিতীয় যে চ্যালেঞ্জটির কথা বলা হয়েছে, সেটি ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী নিজেই বলেছিলেন, আগামী বছরের জানুয়ারির মধ্যে ১১১ টা ইউনিটের মধ্যে অধিকাংশ সম্মেলন করে যোগ্য ও মেধাবিদের ছাত্রলীগের নেতৃত্বে নিয়ে আসবেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত যে গতিতে ছাত্রলীগের এই সংক্রান্ত কার্যক্রম এগুচ্ছে তাতে করে এই মিশনের সফলতা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে তারা দুজনই ছাত্রলীগের পরিপূর্ণ গঠনতন্ত্রের নাম শেখ হাসিনার কাছে সময় চাইলে পেতে পারেন বলেও মনে করেন সংশ্লিষ্ট অনেকে। তবে এক্ষেত্রে জেলা ইউনিটগুলোতে স্থানীয় এমপিদের হস্তক্ষেপ বন্ধ হওয়া প্রয়োজন বলেও মনে করেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় অনেক নেতা। 

তৃতীয় যে কঠিন চ্যালেঞ্জটির সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি শোভন ও সাধারণ সম্পাদক রাব্বানী তা হলো-দীর্ঘ সময় ধরে ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশকারী বিশেষ করে শিবিরের মতাদর্শের যারা আছে তাদের খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংগঠন থেকে বিতারিত করা। এটি করতে না পারলে বঙ্গবন্ধু শেখ হাসিনার ছবি ছাড়া ছাত্রলীগের কোনো অনুষ্ঠানের পোস্টার করে তা আবারো ষড়যন্ত্র হিসাবে ছড়িয়ে দেয়ার সম্ভাবনা থাকে। 

এই ‍মুহুর্তে সর্বশেষ ও চতুর্থ  যে চ্যালেঞ্জটি শোভন-রাব্বানীর সামনে রয়েছে তা হচ্ছে: খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় নেতাদের দায়িত্ব বন্টন করে দেয়া। সব দায়িত্ব তারা নিচ্ছেন বলেই অতিরিক্ত কাজের চাপে ভুল বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই বিভিন্ন নেতাকে ইউনিট ভিত্তিক দায়িত্ব বন্টন করার সময় এসেছে। 

এদিকে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পরিপূর্ণ গঠনতন্ত্র ও একমাত্র অভিভাবক শেখ হাসিনার মাধ্যমে সরাসরি মনোনীত বাকি ৬ জন নেতার মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন খুবই প্রশংসনীয় কাজ করে সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এক্ষেত্রে মেধাবি ও পরিশ্রমী ছাত্রনেতা হিসাবে সনজিত ও সাদ্দাম আগামী দিনে ছাত্রলীগের শীর্ষপদের জন্যও এগিয়ে থাকবেন বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান হৃদয় ইতিমধ্যেই বর্ধিত সভা করেছেন। কিন্তু কয়েকটি ইউনিটে বিবাহিত, মাদকসেবীকে নেতা বানিয়ে কিছুটা বিতর্কিত ভূমিকাও রয়েছে তাদের। তবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান ও সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের হোসেন তেমনভাবে নিজেদের মেলে ধরতে পারেননি রাজনৈতিক মাঠে। মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সক্রিয়তার চেয়ে ব্যাক্তিগত কাজে বেশি সময় ব্যয় করার অভিযোগ রয়েছে। যেহেতু সভাপতি সংগঠনকে তেমনভাবে সময় দিচ্ছেন না, তাই সাধারণ সম্পাদক হৃদয়ও ঠিকভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারছেন না। 
 

Ads
Ads