ব্যাংকে বিলাসিতা পরিহারে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ

  • ২৪-Aug-২০১৯ ০২:০৭ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

বিলাসবহুল যানবাহন, আড়ম্বরপূর্ণ সাজসজ্জাসহ বেশ কিছু খাতে খরচ কমাতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠানো এ প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ব্যাংক-কোম্পানির অর্থে সম্পদ কেনা ও অফিস স্পেস ভাড়ায় ব্যয় বেড়েছে। এছাড়া ব্যাংকের পর্ষদ চেয়ারম্যান, পরিচালক, প্রধান নির্বাহী ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য বিলাসবহুল গাড়ি, ব্যাংক শাখার সাজসজ্জা, ব্যাংকের গাড়ির যথেচ্ছ ব্যবহার হচ্ছে। বিভিন্ন সভা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে, বিজনেস ডেভেলপমেন্টের নামে বাহুল্য খরচ হচ্ছে। বিজ্ঞাপন ও ব্র্যান্ডিংয়ে ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। বিলাসি আপ্যায়ন, যথেচ্ছ স্টেশনারি ও বিবিধ খরচের নামেও ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যয় করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এই ধরণের প্রবণতা নিরুৎসাহিত করার জন্য নিচের অনুশাসন পরিপালনের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে-

১। স্থাবর/স্থায়ী সম্পদ ব্যয় এবং অফিস স্পেস ভাড়া/ইজারা নেয়া: ব্যাংকের ধারণকত স্থাবর/স্থায়ী সম্পদের মোট পরিমাণ (বক ভ্যাল) ব্যাংকটির পরিশোধিত মলধনের শতকরা ৩০ ভাগে সীমাবদ্ধ রাখার বিষয়ে ১২ আগস্ট ২০১৩ তারিখে জারিকৃত বিআরপিডি সার্কলার লেটার নং ১৪ এ বর্ণিত অনশাসন এর যথাযথ পরিপালন নিশ্চিত করতে হবে। তাছাড়া, অফিস স্পেস ভাড়া/ইজারা নেয়ার ক্ষেত্রে প্রকত বাজারদর যাচাইপর্বক প্রতিযোগিতামলক ভাড়া নির্ধারণ করতে হবে।

এসংক্রান্ত বিআরপিডি সার্কলার নং ১৮, তারিখ ২৯ নভেম্বর ২০১২ এর যথাযথ অনসরণ নিশ্চিত করতে হবে।

মোটরগাড়ী ব্যয় এবং ব্যবহার:

(ক) ৫০.০০ লক্ষ টাকার অধিক মল্যে মোটরকার এবং ১ (এক) কোটি টাকার অধিক মল্যে জীপ ব্যাংক-কোম্পানীর অর্থে ব্যয় করা যাবে না। তবে, ব্যাংক-কোম্পানীর অর্থ বহনের কাজে বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা কর্তক ব্যবহৃত নিরাপত্তা-যানবাহনের অনরূপ গাড়ি ব্যয় করা যাবে।

(খ) অন্য কোন ব্যাংক-কোম্পানী বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিকট হতে লীজ ফাইন্যান্সিং সুবিধা গ্রহণ করে কোন মোটরগাড়ী সংগ্রহ করা যাবে না।

(গ) ব্যাংক-কোম্পানীর অর্থে ব্যয়কত মোটরযান বহরে যানবাহনের সংখ্যার প্রবদ্ধি সমন্বয়ে হ্রাসপর্বক ব্যাংকের জনবল ও অফিস/শাখার সঙ্গে সঙ্গতিপর্ণ করতে হবে। দেশীয়ভাবে সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান হতে গাড়ী ক্রয়ের মাধ্যমে এ খাতে ব্যয়ের বার্ষিক প্রবদ্ধি শতকরা ১০ ভাগের মধ্যে সীমিত রাখতে হবে।

সাধারণভাবে পর্ষদ চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহীর জন্য সার্বক্ষণিক গাড়ীসহ সকল যানবাহন অন্ততঃ ০৫(পাচ) বছর ব্যবহারের পর প্রতিস্থাপনযোগ্য হবে।

(ঘ) ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ এর ১৮ ধারার বিধান এবং বিআরপিডি সার্কলার নং ১১, তারিখ ২৭ অক্টোবর ২০১৩ এর নির্দেশনা অনসরণে ব্যাংকের চেয়ারম্যান ব্যতীত অন্যান্য পরিচালকগণ কর্তক ব্যাংক-কোম্পানীর অর্থে ক্রয়কত গাড়ী ব্যবহার করা যাবে না।

এছাড়াও বিজ্ঞাপন ও ব্র্যান্ডিং, বিলাসি আপ্যায়ন, যথেচ্ছ স্টেশনারি ও বিবিধ খরচের নামেও ব্যয় কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, মাত্রাছাড়া বাহুল্য ব্যয়ের কারণে বেশিরভাগ ব্যাংকের পরিচালন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে। এ কারণে অনেক ব্যাংক ঋণের সুদ হার কমাতে পারছে না। অন্যদিকে অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে নীট মুনাফা কম হওয়ায় প্রত্যাশিত লভ্যাংশ পাচ্ছে না পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর শেয়ারহোল্ডার বা বিনিয়োগকারীরা।

Ads
Ads