সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা লাখের কোটায়!

  • ২৩-Aug-২০১৯ ০১:৪৮ পূর্বাহ্ণ
Ads

সেবা দিতে গিয়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত তিন শতাধিক ডাক্তার-নার্স

:: জিএম রফিক ::

সেবা দিতে গিয়ে সারা দেশে তিন শতাধিক ডাক্তার-নার্স ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা লাখের কোটায়। যদিও স্বাস্থ্য অধিদফতর ৪১টি হাসপাতাল থেকে পাওয়া তথ্যমতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৫৯ হাজার ৫৫২ জন বলে জানিয়েছে। এদের মধ্যে বর্তমানে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৬ জন ডাক্তার এবং ১২ জন নার্স রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৫৯৭ জন। তাদের মধ্যে রাজধানীর ৪১টি হাসপাতালে ৭৬১ ও বিভাগীয় শহরে ৮৩৬ জন ভর্তি হয়েছেন। আর সারা দেশে এই জ¦রে আক্রান্তদের মধ্যে ৬ হাজার ১৪৭ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে রাজধানীতে ৩ হাজার ৩৩২ ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ২ হাজার ৮১৫ জন ভর্তি রয়েছেন। এদিকে রাজধানী ঢাকায় ডেঙ্গুর প্রভাব মুক্ত করতে কাজ করে যাচ্ছে সিটি করপোরেশন। জনসচেতনতা কার্যক্রমের পাশাপশি চালানো হচ্ছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ৬ বাড়ির মালিককে ৪৪ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

গত বুধবার স্বাস্থ্য অধিদফতর এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ৯৪ জন চিকিৎসক, ১৩০ জন নার্স এবং ৭৬ জন হাসপাতালকর্মী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তার-নার্সরা। সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী সামলানো এই সরকারি হাসপাতালের ২৫ জন ডাক্তারসহ ৬২ জন কর্মী এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্ত ডাক্তার-নার্সদের মধ্যে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে দুজন এবং কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে দুজন হাসপাতাল কর্মী চিকিৎসাধীন আছেন।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের তথ্যানুসারে, ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৫৯ হাজার ৫৫২ জন। এর মধ্যে চলতি মাসের ২২ দিনে রেকর্ডসংখ্যক ৪১ হাজার ১৪১ জন ভর্তি হয়েছেন। এ বছর মারা গেছেন ৪৭ জন। যদিও ৪১টি হাসপাতালের তথ্য নিয়ে তৈরি হয়েছে এই পরিসংখ্যান। বিভিন্ন সূত্রে মৃতের এই সংখ্যা দেড় শতাধিক। 

অন্যদিকে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা ২০ মিনিটে ঢাকা মেডিকেলের আইসিইউতে মো. গিয়াস উদ্দিনের (৪০) মৃত্যু হয়েছে। গিয়াস উদ্দিন চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলার পশ্চিম শিংরা গ্রামের আব্দুল আউয়ালের ছেলে। পরিবার নিয়ে তিনি ঢাকার পোস্তখোলা এলাকায় থাকতেন। গিয়াস পাথরের ব্যবসা করতো। তার আড়ত শ্যামপুরের ঢাকা ম্যাচ ফ্যাক্টরি এলাকায়। বুধবার রাত ১১ টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়।

বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) আরও এক ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোর রাতে মো. মনির হোসেনের (৩৪) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার বাড়ি বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার রুকুন্দি গ্রামে। এর আগে গত ১৮ আগস্ট রাত সোয়া ৯টার দিকে তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করে স্বজনরা। শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন জানান, মনির হোসেন জ্বর এবং বমি বমি ভাব নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। তার প্রস্তাব কম হতো। তার শরীরের বিভিন্ন অর্গানে সমস্যা ছিল। চিকিৎসকরা সাধ্যমতো চেষ্টা করেও তাকে বাঁচাতে পারেনি।

সাতক্ষীরায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আলমগীর গাজী (১৪) নামের এক মাদরাসা ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বিকেল ৫টার সময় খুলনার গাজী মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার শ্রীকলা গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। 

সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত গতকাল নগরীর ১১৮টি পরিদর্শন করে ৪টিতে এডিস মশার লার্ভা এবং ২টিতে নোংরা অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ পাওয়ায় মোট ৪৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও অঞ্চল ১ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বড় মগবাজার ওয়ারলেস এলাকার ৩২টি বাড়ি ম্যাজিস্ট্রেট বাবর আলি, হাজারীবাগ শেরে বংলা এলাকার ৩০টি বাড়ি ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদ হোসেন ফকিরাপুল এলাকার অভিযানে ২০টি বাড়ি এবং হাটখোলা রামকৃষ্ণ মিশন কে এম দাস লেন পরিদর্শন করেন। 

Ads
Ads