স্বাধীনতা থেকে শুরু করে প্রতিটি অর্জনে ছাত্রলীগের অবদান বেশি: প্রধানমন্ত্রী

  • ৩১-Aug-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ছাত্রলীগ দেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। দেশের স্বাধীনতা থেকে শুরু করে প্রতিটি অর্জনে ছাত্রলীগের অবদান বেশি।

শুক্রবার (৩০ আগস্ট) গণভবনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব স্মরণে ছাত্রলীগের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ছাত্রলীগকে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি আদর্শিক সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে হবে ছাত্রলীগকে। আদর্শের পতাকা ধারণের মাধ্যমেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লেখাপড়া করতে হবে, ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। সম্পদের লোভ থাকলে দেশের সেবা করতে পারবে না। অনেক ছাত্রনেতা সম্পদের লোভ করতে গিয়ে হারিয়ে গেছে। তারা দেশ ও জনগণকে কিছু দিতে পারেনি।

ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বঙ্গবন্ধুর আদর্শ মেনে চলার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, আমরা তার আদর্শের কথা বলি। আদর্শ শুধু মুখে বলার নয়। আদর্শ অনুসরণ করার, আদর্শ অনুশীলন করার। আদর্শকে মেনে নেওয়া, আদর্শ মেনে চলা- এটাই হচ্ছে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। সেটা যদি হয়; দেশকে কিছু দেওয়া যায়, দেশের জন্য কিছু করা যায়

ছাত্রলীগকে তাদের আদর্শ- ‘শিক্ষা, শান্তি, প্রগতী’ মেনে চলার নির্দেশ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, নিজেদের আর্দশের নেতা হিসাবে গড়তে পারলে কিছু করতে পারবে। আর যদি সম্পদের লোভে গা ভাসিয়ে দাও, তাহলে হারিয়ে যাবে, ভেসে যাবে। বহু ছাত্র নেতা চলে গেছেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে রাজনীতি করলে দেশকে অনেক কিছু দেতে পারবে। জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করলে জাতির সেবা করতে পারবে। মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া শিখতে হবে। ধন সম্পদ অনেক সময় থাকে না। কিন্তু শিক্ষা কেউ নিতে পারে না। এই সম্পদ কেউ চুরি এবং হাইজ্যাক করে নিতে পারে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা তো একদিন চলে যাব। তোমাদেরই এই দেশ পরিচালনা করতে হবে। তোমরাই হবে এ দেশের ভবিষ্যৎ। আদর্শের পতাকা সমুন্নত রেখে সামনের দিকে সেবার মন মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা সন্তান হিসেবে বাবার ভালোবাসা যতটুকু না পেয়েছি তার চেয়ে বেশি ভালোবাসা পেয়েছে এ দেশের মানুষ। তার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময় কেটেছে কারাগারে। কিন্তু তিনি (বঙ্গবন্ধু) বাংলার মানুষের ভাগ্যের সঙ্গে আপোষ করেননি। পাকিস্তানিরা প্রতিশোধ নিতে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর ঝাপিয়ে পড়েছিল। আমাদের দেশের কুলাঙ্গার রাজাকাররা তাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে গেছে। যারা স্বাধীনতা বিশ্বাস করতো না তারাই ১৫ আগস্টের জঘন্য হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

স্কুল জীবন থেকে প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কথা তুলে ধরে বঙ্গবন্ধু কন্যা হাসিনা আলোচনা সভায় বলেন, আইয়ুব খান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ছিল। স্কুলে একটা চ্যাপ্টার ছিল পাকিস্তান চ্যাপ্টার, ২০ নম্বর। আমি মেট্রিক পরীক্ষা দিয়েছিলাম ওই ২০ নম্বর বাদ দিয়ে। কারণ আমি আইয়ুব খানের প্রশংসা লিখব না, আমি লিখতে পারি না। কাজেই আমি সেই মানুষ। ২০ নম্বরের জন্য ফেলও করতে পারতাম।

শেখ হাসিনা বলেন, ছাত্ররাজনীতি করলেও সে সময় তিনি নেতা হননি। সংগঠনের প্রয়োজনে যেখানে দায়িত্ব দিয়েছে, সেখানে দায়িত্ব পালন করেছেন তারা সব ভাই-বোন।

আওয়ামী লীগ যখন সভাপতি বানাল তখনই দায়িত্বে এসেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করেছি। যে দুঃখী মানুষের জন্য আমার বাবা, মা, ভাইবোন জীবন দিয়ে গেছেন, তাদের জন্য কাজ করি।

তিনবার ক্ষমতায় থাকলেও নিজের ওই অবস্থান বদলায়নি দাবি করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমিতো আমাকে পরিবর্তন করিনি। তাঁতের শাড়ি বাদ দিয়ে শিফন শাড়ি পরিনি, এই মেকাপ ওই মেকাপ করতে হবে ভাবিনি।

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলতুন্নেসার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার মা মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতির স্ত্রী ছিলেন। অথচ তার মধ্যে কোনো অহংকার ছিল না। তিনি কখনো রাষ্ট্রীয় ভবনে বাস করেননি। তিনি শান-শওকত চাননি।

সাম্প্রতিক নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে গণভবনের আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুরা রাস্তায় নেমেছে। শিশুদের ক্ষোভ, বিক্ষোভ; তাদের যে বিক্ষুব্ধ মন, সেটাকে কাজে লাগিয়ে ওই শিশুদের ঘাড়ে পা দিয়ে ফায়দা লুটবার জন্য একদল নেমে পড়ল।

শহীদুল আলমের নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অনেকে অনেক জ্ঞানী-গুণী, অনেক অনেক আঁতেল, আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্নরা কী করেছে? ডিজিটাল বাংলাদেশ আমি করে দিয়েছি, আর তারই সুযোগ নিয়ে সোশাল মিডিয়াতে এবং বিভিন্ন জায়গায় অপপ্রচার চালিয়ে মানুষকে মিথ্যা প্রচার চালিয়েছে।

‘মিথ্যা প্রচারের’ কারণে শিশুদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারত, সে কথা না ভেবে শিশুদের বিক্ষোভকে ব্যবহার করে ‘ফায়দা লোটার’ চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।  

তিনি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে যখন ব্যবস্থা নিলাম, তখনই চারিদিকে যেন হাহাকার। আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকেও বিভিন্ন রকম চাপ। দেশে-বিদেশে সকলের মাথায় রাখা উচিত।

ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। এতে ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতারা অংশ নেন।

/ই

Ads
Ads