গ্রেনেড হামলা ১৫ বছর: দ্রুত কার্যকর হোক রায়

  • ২০-Aug-২০১৯ ১১:২৯ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

দেড় দশক কেটে গেছে। আজ বাংলার ইতিহাসে ভয়াবহতম ও কলঙ্কজনিত একটি দিন। ২০০৪ সালের এই দিনে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বহীন করে দেশে জঙ্গিবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল ঘাতকরা। কিন্তু সেই আশা বাস্তবায়ন না হলেও বিচারের রায় কার্যকর না হওয়ায় ক্ষুব্ধ জাতি। যদিও পেপারবুক প্রস্তুত হলেই একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আপিল শুনানি শুরু হবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতা সেদিন অল্পের জন্য এই ভয়াবহ হামলা থেকে বেঁচে গেলেও মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বেগম আইভি রহমান ও অপর ২৪ জন নিহত হন। আহত হন ৪ শতাধিক। এমন একটি ঘটনার বিচারকার্যক্রমে এত কালক্ষেপণ বিচারব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। 

দেড় দশক আগের এই দিনে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউকে স্মরণ করলেই জাতি আজও কেঁপে ওঠে। কতটা নিষ্ঠুর আর হৃদয়হীন ছিল ঘাতকরা! শুধু তারা নয়, এর পেছনের নীলনকশাকারীরাও ছিল পাষণ্ড। আর তাই ঘটাতে পেরেছিল নারকীয় হত্যাকাণ্ড। সেদিন ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়েছিল লাশ। রক্তাক্ত হয়েছিল বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ। ধূমায়িত পরিবেশ কাটতেই স্পষ্ট হচ্ছিল সব। লুটিয়ে পড়ে থাকা মানুষের আহাজারিতে কেঁপে উঠেছিল বিবেকবান মানুষের মন। স্তম্ভিত হয়ে পড়েছিল জাতি। সেই নারকীয় হত্যাযজ্ঞের পর কেটে গেছে ১৫টি বছর। বিচারের নামে তৎকালীন বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাবর জজ মিয়া নাটক সাজায়। বাবরের তত্ত্বাবধানে একটি তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার পর জজ মিয়া নামে ওই ভবঘুরে, একজন ছাত্র, একজন আওয়ামী লীগের কর্মীসহ ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। অথচ পরবর্তী তদন্তে তাদের কারো বিরুদ্ধেই অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। পরে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে অনুকূল পরিস্থিতিতে সরকার এ হামলার পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিলে এবং সাড়ে তিন বছর পর বিলম্বিত পুলিশ চার্জশিট নথিভুক্ত করা হয়। অথচ বিএনপির কতিপয় সংসদ সদস্য এই জঘন্য হামলাকে আওয়ামী লীগের পরিকল্পিত হামলা বলে দাবি করেছিল।

পুনরায় তদন্তে পুলিশ এই হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ২১ জনকে চিহ্নিত করে। এর আগে বেশ কয়েকটি বিদেশি মিশন যেমন ব্রিটিশ স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড, ইউএস ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) এবং ইন্টারপোল বাংলাদেশি তদন্তকারীদের যোগ দিলেও এসব প্রতিষ্ঠান বিএনপি সরকার তাদের সহযোগিতা করেনি বলে অভিযোগ করেছিল। অবশেষে একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদ- এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়ে গত বছরের ১০ অক্টোবর রায় দেন বিচারিক আদালত। সেই রায় এখন হাইকোর্টে আপিল মামলা শুনানির অপেক্ষায় আছে। বর্তমানে শুনানির জন্য পেপারবুক তৈরির কাজ চলছে বলে আমরা জেনেছি। শোকাবহ মাস আগস্টে জাতি আজ শ্রদ্ধাবনতচিত্তে পালন করবে গ্রেনেড ট্র্যাজেডির এই দিন। সঙ্গে বিচারের রায় অতিসত্বর কার্যকর হওয়ার দাবি রাখি আমরা। এই রায় কার্যকরের মাধ্যমে আইনের শাসনের আরেকটি দৃষ্টান্ত অতিদ্রুত প্রতিষ্ঠিত হবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

Ads
Ads