অগ্রণী ব্যাংক পরিবার : মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকথা গ্রন্থের মোড় উন্মোচন 

  • ২০-Aug-২০১৯ ০১:১১ পূর্বাহ্ণ
Ads

বঙ্গবন্ধুর ডাকেই লড়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা : আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::

‘বঙ্গবন্ধু আমাদের বাংলাদেশ দিয়েছেন। সেজন্যই আমরা আজ এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারছি। বাঙালি বলে পরিচয় দিতে পারছি। তিনি জন্মগ্রহণ না করলে আজীবন পাকিস্তানিরা আমাদের গোলাম করে রাখত। দেশকে পাকিস্তানিদের কাছ থেকে স্বাধীন করতে বঙ্গবন্ধুর ডাকেই লড়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা।’

সোমবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর জাতীয় জাদুঘর কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অগ্রণী ব্যাংক আয়োজিত আয়োজিত ‘অগ্রণী ব্যাংক পরিবার :মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকথা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক এমপি এসব কথা বলেন।

অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডে যোগদানকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধকালীন ঘটনা নিয়ে রচিত এই গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, ‘শোকের এই মাসে আমাদের আরও সচেতন হতে হবে। বঙ্গবন্ধুকন্যার হাতকে শক্তিশালী করে সকল অপশক্তির চক্রান্তকে রুখে দিতে হবে। তবেই আমরা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ খুব দ্রুততার সঙ্গে গড়তে পারব।’ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘যারা বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের বাকি হত্যাকারীদের খুব দ্রুত এই বাংলাদেশের মাটিতে এনে বিচারের রায় কার্যকর করা হবে ইনশাল্লাহ।’

মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল বলেন, ‘৪৯ বছর হলো বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। ১৯ বছর আওয়ামী লীগ দেশ শাসন করছে। আর বাকি ৩০ বছর অন্যরা চালিয়েছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের আমলে এসেই আজ বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। দেশ ডিজিটাল হয়েছে। বিএনপি সরকারের আমলে এতিমের টাকাও রেহাই পায়নি।’

এ সময় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান এমপি এবং অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখ্ত। 

অনুষ্ঠানে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছিল তখন সেই অগ্রগতিকে থামিয়ে দিতে চক্রান্ত হয়। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে জাতির কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়। অথচ তিনিই বাংলাদেশকে পাকিস্তান থেকে মুক্ত করেছেন। তার ডাকেই মুক্তিযোদ্ধারা হাতে অস্ত্র নিয়েছিলেন, বুকে বুলেট ধরেছিলেন, শহীদ হয়েছিলেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শোকের মাসে অগ্রণী ব্যাংক যে উদ্যোগ নিয়েছে তার প্রশংসার দাবি রাখে। 

অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখ্ত বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশের জন্ম হতো না, জন্ম হতো না অগ্রণী ব্যাংকের।’ মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ১৩৮ জন আমাদের এই অগ্রণী ব্যাংকের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে কাজ করেছেন এবং করছেন। তাদের সাদামাঠা জীবন আমাকে মুগ্ধ করে। আমি অবাক দৃষ্টিতে তাদের দিকে তাকিয়ে থাকি।’

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে জীবিত রাখতে হলে মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক মূল্যায়ন করতে হবে। আমরা অগ্রণী ব্যাংকের সম্মানিত মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধের সময়ের স্মৃতির কথা নিয়ে ‘অগ্রণী ব্যাংক পরিবার :মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকথা’ গ্রন্থটি সাজিয়েছে। অগ্রণী ব্যাংক বাংলার মানুষের পাশে সারাজীবন আছে এবং থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশের অগ্রগতির জন্য গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী সব ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করছে অগ্রণী ব্যাংক। যে কারণে এই ব্যাংক এখন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছে। আগামীতেও এই ধারা অব্যাহত রাখতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’ মোড়ক উন্মেচন অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, ‘অগ্রণী ব্যাংক এই অমর একুশে গ্রন্থমেলায় ২৪টি বই প্রকাশ করেছে। এই ধারা অব্যাহত থাকবে।’

অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপানা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ শামস্-উল ইসলাম বলেন, অগ্রণী ব্যাংকে আমরা বঙ্গবন্ধু কর্নার করেছি, এবার মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি নিয়ে ‘অগ্রণী ব্যাংক পরিবার : মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকথা’ করেছি। বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অগ্রণী ব্যাংকের এই যাত্রা আগামীতে অব্যাহত থাকবে।

অগ্রণী ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালক কাশেম হুমায়ূন ও মো. আনছার আলী খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও পর্যবেক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অগ্রণী ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত উপ-মহাব্যবস্থাপক মুক্তিযোদ্ধা এ জেড এম সাদেকুর রহমান খান, অবসরপ্রাপ্ত উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুক্তিযোদ্ধা মো. এনামুল হক, অবসরপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক মুক্তিযোদ্ধা আবু সালেহ মো. নুরুল ইসলাম হিরো ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের অগ্রণী ব্যাংক ইউনিট কমান্ডের প্রতিষ্ঠাতা কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা মো. হেলাল উদ্দিন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অগ্রণী ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক ও ‘অগ্রণী ব্যাংক পরিবার :মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকথা’ গ্রন্থের সম্পাদক মো. আবু হাসান তালুকদার। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তব্য রাখেন আরপি-বাংলা কমিউনিকেশন্সের প্রকাশক আলাউদ্দিন আল আজাদ।

Ads
Ads