জন্মদিনে কেন আনুষ্ঠানিকতা পালন করেন না ড. কাজী এরতেজা হাসান

  • ২০-Aug-২০১৯ ১২:০২ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: তুষার আহসান ::

আগস্ট বাঙালির বেদনার মাস। কষ্টনদীর স্রোতে মুহ্যমান থাকে জাতি। এ মাস শোকের। এ মাস নতুন করে শেখায়, জাতিকে নতুন করে গড়ে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের রাত বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল জাতির। মহান নায়ক, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা, সোনার বাংলা রচনার কারিগর, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সে রাতে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল। সেদিন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধরাসহ সারা বিশ^ স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল। তারপর থেকে আজ অবধি এ মাস আসলেই খাঁটি বাঙালির চোখে নেমে আসে অশ্রুধারা। হৃদয়ে বাজে বেদনার ধ্বনি। বাংলার আকাশে কাঁদে, বাতাস ধীরে বয়। সবাই এবং সবই যেন শোকাহত। বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক সন্তান ভোরের পাতা সম্পাদক ড. কাজী এরতেজা হাসানের জন্ম শোকাহত এ মাসে। আজ তার জন্মবার্ষিকী। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর প্রতি তার শ্রদ্ধাবনত হৃদয় জন্মদিনে কোনো আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে দেয়নি। তিনি এ মাসে বেদনাপ্লুত থাকেন। বুঝতে শেখার পর থেকে এভাবেই তার সবকটি বসন্ত পার করে দেওয়ার মধ্যেই তিনি খুঁজে পান আত্মার শান্তি।  

মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের প্রতি অবিচল এই ড. কাজী এরতেজা হাসানের শৈশব-কৈশোর এমন একটি শহরে কেটেছে, যেখানে স্বাধীনতার সপক্ষের কথা বলার মতো হাতেগোনা কিছু পরিবার ছিল। সেই পরিবারগুলোর মধ্যে সুখ্যাত কাজী পরিবার। মিনি পাকিস্তান খ্যাত সাতক্ষীরা জেলাতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী পিতা-মাতার কাছ থেকে ছেলেবেলা থেকেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা শুনতে শুনতে বড় হয়েছেন। তিনি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে দৈনিক ভোরের পাতার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে সাংবাদিকতার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায়ও রয়েছে তার অবদান। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় অবদানের জন্য জাতিসংঘ থেকে ভূষিত হয়েছেন ‘ডক্টর অব হিউম্যানিটি’ উপাধিতে। এছাড়া দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠান এফবিসিসিআইর পারিচালক হিসেবেও কাজ করে যাচ্ছেন।

জন্মদিন কেন আনুষ্ঠানিকভাবে পালন করেন না এমন প্রশ্নের জবাবে ড. কাজী এরতেজা হাসান বলেন, ‘এই আগস্ট আমাদের জাতির পিতাকে আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে। ছেলেবেলায় যখন জেনেছি আগস্ট মানেই শোকের মাস; তখন থেকেই অন্যরকম এক বেদনা হৃদয়ে অনুভব করি। তখন থেকেই জন্মদিনে আনুষ্ঠানিকতা পালন করি না।’ তিনি বলেন, ‘এই আগস্টে এসে আমি দৃঢ়চিত্তে বলতে চাই, বঙ্গবন্ধুকে আমি চোখে দেখিনি। তবে তার সুযোগ্য কন্যা, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, দেশের সকল মানুষের আস্থার প্রতীক জননেত্রী শেখ হাসিনার দেখানো পথে দেশের অগ্রগতির জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এ ধারা অব্যাহত রাখতেই যখনই দেখেছি, বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস বইয়ে বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা করে তার আদর্শকে হত্যা করতে চেয়েছিল একটি মহল, তাদের শাস্তি দাবি করে মহামান্য হাইকোর্টে রিট করেছি। বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার আদর্শিক সৈনিক হিসেবে এটাই আমার জন্মদিনের উপহার হিসেবে মনে করি।’ পরে ড. কাজী এরতেজা হাসান বঙ্গবন্ধুকে যারা সপরিবারে হত্যা করেছে তাদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের দাবি জানান। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়তে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার পথে যারা বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন, চক্রান্ত করছেন, তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তিরও দাবি জানান ড. কাজী এরতেজা হাসান।

উল্লেখ্য, কীর্তিমান কলমসৈনিক ভোরের পাতা সম্পাদক ড. কাজী এরতেজা হাসান আজকের এই দিনে সাতক্ষীরার সুলতানপুরের কাজীপাড়ায় স্বনামধন্য কাজী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা কাজী আবদুল মান্নান ও মা মিসেস আজিজা মান্নান, বড়ভাই কাজী হেদায়েত হোসেন (রাজ) সাবেক অকুতোভয় ছাত্রনেতা ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। দেশ ও মানুষের কল্যাণে তিনি দৈনিক ভোরের পাতা, দ্য ডেইলি পিপলস টাইম, পাক্ষিক অর্থপাতা, দৈনিক বণিক বাংলাদেশ, ডেইলি মর্নিং মিরর ও টিভি চ্যানেল জেড টিভি নিয়ে গড়ে তুলেছেন সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ। তিনি একাধারে ভোরের পাতা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, কাজী গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, বাজার ২৪, রূপান্তর ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারপারসন, এফবিসিসিআইর পরিচালক, সাউথ ওয়েস্টার্ন ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ, আজিজা মান্নান ফাউন্ডেশন, ইরান-বাংলাদেশ চেম্বারের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ও বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট কমিশনের চেয়ারপারসন এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিল্প-বাণিজ্য ও ধর্মবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য। মেধা ও সৃজনশীল সম্পাদনায় ইতোমধ্যেই তার সম্পাদিত পত্রিকা পাঠকপ্রিয়তা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। জনপ্রিয় দৈনিক ভোরের পাতা ও পিপলস টাইম ছড়িয়ে গেছে প্রতিটি জেলা-উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়ে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক সন্তানের জনক। তার সন্তান কাজী জারজিস বিন এরতেজা ব্রিটিশ কাউন্সিলের অধীনে পড়ালেখা করছেন। 

তিনি তার কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বঙ্গবন্ধু স্মৃতিপদক, শেখ রাসেল সম্মাননা, মহাত্মা গান্ধী অ্যাওয়ার্ড, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি সম্মাননা, অতীশ দীপঙ্কর স্বর্ণপদক, মাদার তেরেসা স্বর্ণপদক, নেলসন ম্যান্ডেলা পুরস্কার, মওলানা ভাসানী স্মৃতিপদক  ছাড়াও সম্প্রতি তিনি মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান জাতিসংঘ থেকে ‘ডক্টর অব হিউম্যানিটি’ উপাধিতে ভূষিত হন। 

নিপীড়িত-নির্যাতিত গণমানুষের জন্য ড. কাজী এরতেজা হাসান সাহসী কলমসেনা। তার জন্মদিনে ভোরের পাতার পক্ষ থেকে আমরা জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা। আমরা তার দীর্ঘায়ু কামনা করি। পাশাপাশি পরম করুণাময়ের কাছে প্রার্থনা করি, অতীতের মতো তিনি যেন আগামীতেও গণমানুষের পক্ষে থাকতে পারেন।

Ads
Ads