কলকাতায় দুই বাংলাদেশিকে চাপা দেয়া সেই চালক গ্রেফতার

  • ১৮-Aug-২০১৯ ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: সীমানা পেরিয়ে ডেস্ক ::

কলকাতায় মধ্যরাতে বেপরোয়া গতির গাড়িচাপায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় ওই গাড়ির চালক জনপ্রিয় একটি রেস্তোরাঁর মালিকের ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার মধ্যরাতের পর লাউডন স্ট্রিটের কাছে ওই দুর্ঘটনায় নিহত দুই বাংলাদেশি হলেন কাজী মুহাম্মদ মঈনুল আলম (৩৬) ও ফারহানা ইসলাম তানিয়া (২৮)।

মঈনুল গ্রামীণফোনের রিটেইল সাপোর্ট ম্যানেজার পদে কর্মরত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহে। আর তানিয়া সিটি ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার। ব্যাংকটির ধানমণ্ডি শাখায় কর্মরত ছিলেন। তিনি থাকতেন ঢাকার মোহাম্মদপুরে।

এ ঘটনায় কাজী মো. শফী রহমত উল্লাহ নামে মঈনুলের এক চাচাত ভাই আহত হয়েছেন। তার আঘাত ততো গুরুতর নয় বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।

দুর্ঘটনার জন্য কলকাতার নামি রেস্তোরাঁ আরসালান-এর মালিকের ছেলে পারভেজ আরসালানকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। দুর্ঘটনার সময় তিনিই চালকের আসনে ছিলেন বলে তদন্ত কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা।

দুর্ঘটনার বিষয়ে তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় শুক্রবারা রাত ২টার দিকে একটি জাগুয়ার তীব্র গতিতে শেক্সপিয়র সরণি ধরে বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের দিক থেকে কলামন্দিরের দিকে যাচ্ছিল। লাউডন স্ট্রিটের কাছে সেটি একটি মার্সিডিজকে সজোরে ধাক্কা মেরে রাস্তার পাশে ট্রাফিক পুলিশের একটি পোস্টে ঢুকে পড়ে।

তুমুল বৃষ্টির মধ্যে মঈনুল, তানিয়া ও শফী ওই পুলিশ পোস্টে আশ্রয় নিয়েছিলেন। গাড়িটি মঈনুল ও তানিয়াকে চাপা দেয়। শফীও আঘাত পান।

রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের কাছের একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মঈনুল ও তানিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।

কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাই কমিশনের বরাত দিয়ে হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, ম্ঈনুল আলম চোখের চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন।

তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্ঘটনার সময় পারভেজ আরসালানের জাগুয়ারটি ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে চলছিল।

এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজনেস ম্যানেজমেন্ট পড়ে আসা পারভেজ কলকাতার কেন্দ্রস্থলের পার্ক সার্কাস মোড়ের রেস্তোরাঁ ‘আরসালান’র মালিকানা পেয়েছেন পৈত্রিক সূত্রে। তাকে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ২২ বছর বয়সী আরসালান পারভেজ লন্ডনের এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। কয়েকদিনের ছুটিতে বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। দার বিরুদ্ধে 'মোটর ভেহিক্যালস অ্যাক্ট'র একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এছাড়া, বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকেও মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

/কে 

Ads
Ads