প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

  • ৩০-Aug-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (৩০ আগস্ট) সকালে হোটেল সোয়ালটি ক্রাউনি প্লাজায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এদিন নেপালি প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভান্ডারির সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। নেপালের সংবাদমাধ্যম হিমালয়ান টাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে এসব কথা জানা গেছে।

নেপালের প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, দুই প্রধানমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে নেপালের সহযোগিতার কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, সহযোগিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে দারিদ্র দূরীকরণ। আমরা শুধু নিজেরাই উন্নত দেশ হতে চাই না। আমরা চাই, আমাদের প্রতিবেশীরাও উন্নত হোক।

এসময় নেপালকে বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর ও সৈয়দপুর বিমানবন্দর ব্যবহারের যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে সে বিষয়টি তুলে ধরেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ তার অভিজ্ঞতা নেপালের সঙ্গে বিনিময় করতে পারে বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।

ইহসানুল করিম বলেন, নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সহযোগিতার সুযোগের জায়গাগুলো খুঁজে বের করতে হবে’।

শেখ হাসিনা বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দেওয়ায় নিজের খুশির কথাও জানান ওলি।

বিদ্যুৎ সহযোগিতা বাড়াতে নেপালের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছে বাংলাদেশ; যার মধ্য দিয়ে নেপাল থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়েছে।

এই সমঝোতার আওতায় নেপাল থেকে ভারত হয়ে জলবিদ্যুৎ আমদানি ছাড়াও বাংলাদেশের সরকারি বা বেসরকারি কোম্পানির নেপালের বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগের বিষয়গুলোও রয়েছে।

দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে নেপাল থেকে বাংলাদেশের জলবিদ্যুৎ নেওয়ার বিষয়টি আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রেস সচিব।

এছাড়া বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান, ভারতের মধ্যে আঞ্চলিক কানেকটিভিটি বাড়ানোর বিষয়েও শেখ হাসিনা গুরুত্বারোপ করেছেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব, পররাষ্ট্র সচিব, নেপালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র সচিব উপস্থিত ছিলেন।

নেপালের প্রধানমন্ত্রীর পর শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন ভুটানের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা দাশো শেরিং ওয়াংচুক। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পারিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানান প্রেস সচিব।

হিমালয়ান টাইমসের আরেকটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিমসটেকের সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরা নেপালি প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভান্ডারির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষা করেছেন। নেপালি প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন শীতল নিবাসে বিমসটেক নেতারা এ সাক্ষাৎ পর্বে অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও সেখানে উপস্থিত ছিলেন-ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ত, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা, থাই প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চ্যান ওচা ও ভুটানের প্রধান বিচারপতি তাশেরিং ওয়াংচুক। নেপালের প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও শীতল নিবাসের কর্মকর্তারা অতিথিদের স্বাগত জানান। অতিথিদের জন্য মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেছেন নেপালি প্রেসিডেন্ট।

এর আগে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৮ মিনিটে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৌঁছালে নেপালের উপপ্রধানমন্ত্রী ঈশ্বর পোখারেল এবং নেপালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাশরাফি বিনতে শামসসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। বিমানবন্দরে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানকে গার্ড অব অনারসহ লালগালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়।

বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন বা বিমসটেক হল বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী সাত দেশের একটি জোট।

বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড ১৯৯৭ সালে ব্যাংকক ঘোষণার মধ্য দিয়ে এ উদ্যোগের সূচনা করে। পরে মিয়ানমার, নেপাল ও ভুটান বিমসটেকে যোগ দেয়।

ভৌগলিকভাবে দক্ষিণ এশিয়াকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করেছে বিমসটেক, কাজ করছে সার্ক ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃআঞ্চলিক সহযোগিতার একটি সেতুবন্ধ হিসেবে।

জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযানকে যুদ্ধাপরাধ বিবেচনা করার পর বড় ধরনের আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে রয়েছে মিয়ানমার।

দেশটির স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি এবার বিমসটেক সম্মেলনে থাকছেন না। তার বদলে মিয়ানমারের প্রতিনিধিত্ব করবেন দেশটির প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট। 

এবারের বিমসটেক সম্মেলনের মূল পর্বে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা খুব বেশি না থাকলেও রিট্রিট সেশনে নেতৃবৃন্দের আলোচনারয় বিষয়টি আসতেই পারে।  

এই সম্মেলন শেষ হবে একটি যৌথ ঘোষণার মধ্যে দিয়ে। নেপালের কাছ থেকে বিমসটেক চেয়ারের দায়িত্ব পাবে শ্রীলঙ্কা।

এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য- ‘‘শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও টেকসই বে অব বেঙ্গল অঞ্চল গড়ার পথে’’। সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার অপরাহ্নে দেশে ফিরবেন।

/ই

Ads
Ads