নগরজুড়ে চলছে পশু কোরবানী, দুপুর থেকে বর্জ্য অপসারণ শুরু

  • ১২-Aug-২০১৯ ১২:৩৭ অপরাহ্ন
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

আবহাওয়া অফিসের তথ্য ছিল আগাম, ঈদের দিন ঢাকায় বৃষ্টি ঝরবে। সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হবে। সময় যত গড়াবে, বৃষ্টির ধরন পাল্টে মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণও হতে পারে। বাড়বে তাপমাত্রাও।

তবে আবহাওয়া অফিসের এই তথ্য কার্যকর ছিল রাতে। শেষ রাতে কিছুটা বৃষ্টি হয়েছে। তাপমাত্রাও বেশি। তবে সকাল থেকে ঝলমলে রোদ। রোদের ভেতর দলে দলে মুসল্লিরা ঈদগাহে গেছে। নামাজ পড়েছে। নামাজ শেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। ডেঙ্গুর হাত থেকে রেহাই পেতে করা হয় বিশেষ মোনাজত। এরপর বাসাবাড়িতে ফেরার পর শুরু হয় পশু কোরবানি।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ত্যাগের মহিমায় আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে পশু কোরবানি দেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। যদিও সিটি করপোরেশন নির্ধারিত স্থানে পশু এনে কোরবানি দেওয়ার আহ্বানে খুব একটা সাড়া দিতে দেখা যায়নি নগরবাসীর ভেতর। রাজধানীর বাসিন্দাদের বেশিরভাগকেই নিজেদের বাড়ির সামনে অথবা সামনের রাস্তায় অথবা মাঠে কোরবানি দিতে দেখা গেছে। ফাঁকা পড়ে আছে কোরবানির নির্ধারিত স্থানসমূহ।

বর্জ্য অপসারণ প্রক্রিয়া সহজ করতে বিগত কয়েক বছরের মতো এবারও সবগুলো ওয়ার্ডে কিছু স্থান নির্ধারণ করে দেয় ঢাকা উত্তর (ডিএনসিসি) ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

ডিএনসিসি'র ৫৪টি ওয়ার্ডে এবার পাঁচটি করে মোট ২৭০টি স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। আর ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডে পাঁচটি করে নির্ধারিত ছিল ৩৭৫টি স্থান। এসব স্থানে পশু নিয়ে এসে কোরবানি দিতে নগরবাসীদের প্রতি আহ্বান ছিল দুই সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে। এমনকী উত্তরের নগরবাসীদের পশু জবাইয়ের স্থান থেকে বাড়িতে বাড়িতে বিনামূল্যে মাংস পৌঁছে দেওয়ারও ঘোষণা দেয় ডিএনসিসি। উত্তরের বাসিন্দাদের উদ্বুদ্ধ করতে নির্ধারিত স্থানে এনে পশু কোরবানি দেন মেয়র আতিকুল ইসলাম।

তবে সোমবার সকাল থেকে দুই সিটির বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড ঘুরে সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত স্থানের তুলনায় বাসাবাড়ির সামনে কিংবা সড়কেই কোরবানি বেশি দিতে দেখা যায়। আর নির্ধারিত স্থানগুলোকে বেশ ফাঁকা অবস্থায়ই দেখা যায়। এমন অনেক নির্ধারিত স্থান রয়েছে যেখানে প্যান্ডেল করে নির্দেশনা লেখা থাকলেও একটি পশুও কোরবানি দেয়নি কেউ।

নির্ধারিত স্থান এড়িয়ে কোরবানি দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে অনেকেই জানান, তাদের বাসাবাড়ি থেকে সেসব স্থান দূরে। অনেকে আবার মাংস পরিবহনের ঝামেলা এড়াতে ও সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখতে না পারায় নিজেরাই নিজেদের মতো করে কোরবানি দিচ্ছেন। তবে নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি দিতে নগরবাসীর প্রতি এখনও আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছে দুই সিটি করপোরেশন।

এদিকে আজ দুপুর থেকে রাজধানীজুড়ে থাকবেন প্রায় ১৪ হাজার পরিচ্ছন্নতা কর্মী। নগরবাসীকে স্বস্তি দিতে এবার এ ব্যবস্থা নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন।

ঢাকা উত্তর (ডিএনসিসি) ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বর্জ্য অপসারণে গত শনিবার রাতের মধ্যেই বিভিন্ন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে পৌঁছে গেছে বর্জ্য বহনকারী ব্যাগ, বস্তা, ব্লিচিং পাউডার, ফিনাইলসহ অন্য যাবতীয় জিনিস। এছাড়াও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের পাশাপাশি প্রস্তুত রাখা হয়েছে বর্জ্য অপসারণের জন্য বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। ভ্যান, ছোট পিকআপ থেকে শুরু করে বড় ট্রাক আছে এসব যানবাহনের মধ্যে।

সোমবার দুপুর ২টায় উত্তরা থেকে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম। অন্যদিকে দুপুর পৌনে ৩টায় ধোলাইখালের সাদেক হোসেন খোকা মাঠের সামনের জায়গা থেকে নিজ এলাকায় বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন ডিএসসিসি মেয়র সাঈদ খোকন।

ডিএনসিসি’র প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মঞ্জুর হোসেন জানান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ডিএনসিসিতে এবার প্রায় ছয় হাজার কর্মী কাজ করবে। এদের মধ্যে ডিএনসিসির নিয়মিত কর্মী প্রায় আড়াই হাজার এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পিডাব্লিউসিএসপিএর প্রায় সাড়ে চার হাজার কর্মী বর্জ্য অপসারণে কাজ করবেন।

অন্যদিকে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর জাহিদ হোসেন জানান, তাদের নিয়মিত কর্মী পাঁচ হাজার ২শ ৪১ জন। সঙ্গে থাকছে পিডাব্লিউসিএসপিএর প্রায় তিন হাজার কর্মী। এছাড়াও দ্রুততম সময়ে বর্জ্য অপসারণে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া পরিচ্ছন্নতাকর্মী থাকছে দুই সিটিতেই। সব মিলিয়ে ১৪ হাজারের বেশি পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবার থাকছে রাজধানীতে কোরবানি হওয়া পশুর বর্জ্য অপসারণ মিশনে।

এদিকে নিজেদের এলাকা থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বর্জ্য অপসারণের ঘোষণা দিয়েছেন ডিএসসিসি মেয়র সাঈদ খোকন। অন্যদিকে আগে থেকে সময় বলার থেকে কাজ করে দেখাতে বিশ্বাসী উত্তরের নগরপিতা আতিকুল ইসলাম।

একই সঙ্গে ঈদুল আজহার প্রথম দিনেই প্রায় ১৮ লাখ টন বর্জ্য উৎপন্ন হবে এমন লক্ষ্যমাত্রা নিয়েই সেগুলো অপসারণে ছক কষেছে দুই সিটি।

সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ঈদের আগের দিন থেকে ঈদের পরবর্তী দু’দিন নিরবচ্ছিন্নভাবে বর্জ্য অপসারণের জন্য বর্জ্যবাহী ড্রাম্প ট্রাক ও খোলা ট্রাক ১৬৯টি, ভারী যান-যন্ত্রপাতি ২৮টি, পানির গাড়ি ১১টি, বেসরকারি ৮২টি এবং ভাড়ায় ১৪৮টি পিকআপভ্যানসহ সর্বমোট ৪৩৮টি গাড়ি নিয়োজিত থাকবে। কোরবানির পশুর বর্জ্যে যাতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি না হয় সে লক্ষ্যে জবাইয়ের স্থানে ১০টি ওয়াটার বাউজার দিয়ে তরল জীবাণুনাশক মিশ্রিত পানি স্প্রেকরণের ব্যবস্থা থাকছে এবার। প্রতিটি ওয়ার্ডে ভ্যানগাড়িতে করে ব্লিচিং পাউডার ছিটানোরও ব্যবস্থা করা হবে।

তবে সিটি করপোরেশনের এতসব উদ্যোগ সার্থক হবে যদি নগরবাসী সচেতন হন এবং সিটি করপোরেশনকে সহায়তা করেন। আতিক বলেন, নগরবাসীর সাহায্য চাই। তাদের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ যে, তারা যেন যেখানে পশু কোরবানি না দেন; পশুর বর্জ্য যেন ফেলে না রাখেন।

Ads
Ads