রূপগঞ্জে যুবতীকে দুইদিন আটকে রেখে গণধর্ষণ, গ্রেফতার-৫

  • ৩-Aug-২০১৯ ০৭:৫১ অপরাহ্ন
Ads

:: নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ::

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এক যুবতীকে দুইদিন আটকে রেখে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় পুলিশ যুবতীর প্রেমিকসহ অভিযুক্ত পাঁচ যুবককে গ্রেফতার করেছে।

বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার পিতলগঞ্জ পশ্চিমপাড়া এলাকায় একটি ঘরে ওই যুবতীকে দুইদিন আটকে রেখে গণধর্ষণ করে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তার উপর ফেলে রেখে পালিয়ে যায় ধর্ষণকারিরা। পরে একটি সিএনজি চালকের সহায়তায় উদ্ধার হয়ে শুক্রবার রাতে ধর্ষিতা যুবতী রূপগঞ্জ থানায় গিয়ে নিজে বাদি হয়ে ধর্ষণ মামলা দায়ের করে। পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে পাঁচ ধর্ষককে গ্রেফতার করে।  রুপগঞ্জ থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ধর্ষিতা যুবতীর দায়ের করা মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রূপগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক রফিকুল হক জানান, পিতলগঞ্জ এলাকার গোলজার মিয়ার ছেলে রাসেল মিয়ার সঙ্গে কিছুদিন আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচয় হয় ওই যুবতীর। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। বৃহস্পতিবার প্রেমিক রাসেল তার প্রেমিকাকে কাঞ্চন ব্রীজের নীচে দেখা করতে বলে। পরে যুবতী রাত আটটার দিকে কাঞ্চন ব্রীজের নিচে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে যায়।

প্রেমিক রাসেল এসময় তার বাবা মায়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবার কথা বলে ওই যুবতীকে একটি সিএনজিযোগে পিতলগঞ্জ পশ্চিমপাড়া রফিক মিয়ার বাড়ির একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যায়। পরে যুবতীকে মারধর করে এবং হত্যার ভয় দেখিয়ে লম্পট রাসেল তাকে ধর্ষণ করে। পরে পিতলগঞ্জ পশ্চিমপাড়া এলাকার আহসান উল্লাহর ছেলে আশিক মিয়া, সিরাজ মিয়ার ছেলে শাকিল মিয়া, হারিন্দা টেকপাড়া এলাকার হযরাত আলীর ছেলে সামছু দোহাই ও তাদের বন্ধু নীলফামারী জেলার ডিমলা থানার সুন্দরখাতা এলাকার আহাম্মদ আলীর ছেলে শের আলী যুবতীকে গণধর্ষণ করে। 

সেই ঘরে দুইদিন আটকে রেখে পালাক্রমে ধর্ষণের পর যুবতী অসুস্থ হয়ে পড়লে শুক্রবার মধ্যরাতে তাকে রাস্তায় ফেলে রেখে সটকে পরে ধর্ষণকারীরা। পরে যুবতী একটি সিএনজি চালকের সহায়তায় সেখান থেকে রূপগঞ্জ থানায় গিয়ে ঘটনার বর্ণনা করে রাসেলসহ পাঁচজনকে আসামী করে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে পাঁচ ধর্ষককে গ্রেফতার করে।

রূপগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো: এমদাদুল হক জানান, যুবতীকে গণধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতকারকৃত পাঁচ আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তারা ধর্ষণের অভিযোগ স্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Ads
Ads