বাংলা একাডেমিতে ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার, নন্দিত উদ্ভাবন’ গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত

  • ৩১-Jul-২০১৯ ১০:৫১ অপরাহ্ন
Ads

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::

স্বাধীনতার পরে অর্থনৈতিক মুক্তি ও এদেশের অর্থনীতিকে একটি সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু অগ্রণী ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংককে জাতীয়করণ করেন। সেই ব্যাংকিং সেক্টরেরই একজন মানুষ, অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও মোহম্মদ শামস-উল ইসলাম অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সপ্তম তলায় স্থাপন করেছেন বঙ্গবন্ধু কর্নার।

বঙ্গবন্ধু কর্নার স্থাপনের ইতিহাস, বর্তমান অবস্থা, প্রয়োজনীয়তা, সমৃদ্ধি, ফলাফল তুলে ধরে প্রকাশিত ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার, নন্দিত উদ্ভাবন’ শীর্ষক প্রকাশনা অনুষ্ঠান বুধবার (৩১ জুলাই) বিকেল ৪টায় বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া এই গ্রন্থে ঠাঁই পেয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’ সম্পর্কিত বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, মন্তব্য এবং প্রশংসা। 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জানা, বোঝা এবং তাঁর জীবনদর্শন সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকা ও তা অনুসরণ করা জরুরি। বিশেষত তাঁর গভীর দেশপ্রেম। এই বোধ থেকে অগ্রণী ব্যাংকের এমডি ও সিইও মোহম্মদ শামস-উল ইসলামের উদ্যোগে স্বল্প পরিসরে প্রথম বঙ্গবন্ধুর কর্নার গড়ে ওঠে মৌলভীবাজারের অগ্রণী ব্যাংক কার্যালয়ে। পরে তিনি বিস্তৃত পরিসরে আনসার-ভিডিপি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আরেকটি বঙ্গবন্ধু কর্নার গড়ে তোলেন। তবে তার উদ্যোগে গড়ে ওঠা স্বচ্ছ সমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধু কর্নার হলো অগ্রণী ব্যাংকের সপ্তম তলায় স্থাপিত বঙ্গবন্ধু কর্নারটি। এখানে রয়েছে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা প্রায় ৪০০টি বই, বঙ্গবন্ধুর তিনটি ছবির অ্যালবাম, তাঁর একটি বড় ছবি এবং ১০০ কেজি ওজনের একটি ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য। এছাড়া বঙ্গবন্ধু কর্নার দেশ-বিদেশের নানা জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে এবং পড়ছে। 

বঙ্গবন্ধু কর্নার এমন একটি স্থান, যেখানে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কিত বিভিন্ন বই, ছবিসহ নানা জিনিস রয়েছে। এখানে একজন মানুষ বা দর্শণার্থী কিছু সময় কাটিয়ে বঙ্গবন্ধুর ওপর রচিত বই পড়ে তাঁর জীবন, ব্যক্তিত্ব, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক দর্শন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারবে। এছাড়া বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কেও নানা তথ্য জানা যাবে। 

অগ্রণী ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, যেসব শাখায় ব্যাংকটির নিজস্ব ভবন আছে সেখানেও পর্যায়ক্রমে বঙ্গবন্ধু কর্নার গড়ে তোলা হবে। করপোরেট হাউজে বঙ্গবন্ধু কর্নার স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন এমডি। এছাড়া অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকসহ বিদেশেও এর বিস্তার ছড়িয়ে পড়েছে বলেও জানান তারা। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য খবর হচ্ছে, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু কর্নার স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে নরসিংদীর ৬টি উপজেলার এক হাজার ১৪০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গড়ে তোলা হয়েছে এই কর্নার। অন্য জেলাগুলোতেও কাজ চলছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশনসহ অন্যান্য জায়গায়ও বঙ্গবন্ধু কর্নারের বিস্তার ঘটেছে।

বুধবার অগ্রণী ব্যাংক লি. এবং রংধনু প্রকাশনী লি. এর যৌথ আয়োজনে ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার, নন্দিত উদ্ভাবন’ শীর্ষক প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। বিশেষ অতিথির আসন অলংকৃত করেন অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালক সাংবাদিক কাশেম হুমায়ুন এবং একুশে পদকে ভূষিত কবি অসীম সাহা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখ্ত।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এইচ টি ইমাম স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘অগ্রণী, সোনালী, জনতা, রূপালী, পূবালী ও উত্তরা ব্যাংকের নামকরণ আমিই বঙ্গবন্ধু ও তৎকালীন অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদের নির্দেশে রেখেছিলাম।’ পরে তিনি বঙ্গবন্ধুর ওপর তাত্ত্বিক আলোচনার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধে নিজের অংশগ্রহণের স্মৃতিচারণও করেন। 
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কাশেম হুমায়ুন বলেন, ‘পদ্মাসেতু নির্মাণে অগ্রণী ব্যাংক একশ’ কোটি টাকা দিয়ে পক্ষান্তরে দেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। বঙ্গবন্ধু কর্নার স্থাপনের মাধ্যমে একটি বড় কাজ সম্পন্ন হলো।’

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি অসীম সাহা বলেন, ‘অগ্রণী ব্যাংকের এমডি ও সিইও মোহম্মদ শামস-উল ইসলাম বঙ্গবন্ধু কর্নার স্থাপনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর প্রতি দেশের ঋণ কিছুটা হলেও পরিশোধ করতে পেরেছেন। বঙ্গবন্ধুর প্রতি এই নিবেদকে সাদুবাদ জানাই।’

অগ্রণী ব্যাংকের এমডি ও সিইও মোহম্মদ শামস-উল ইসলাম বলেন, ‘কোন পরিকল্পনা ছাড়াই বঙ্গবন্ধু কর্নার করেছি। কারণ বঙ্গবন্ধু আমাদেরকে এই বাংলাদেশ দিয়েছেন। তা না হলে আজ আমি এখানে পৌঁছতে পারতাম না। এই বোধ থেকে বঙ্গবন্ধু কর্নার করেছি।’

রংধনু প্রকাশনী লিমিটেডের চেয়ারম্যান মাসুম রহমানের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও মোহম্মদ শামস-উল ইসলাম। সভাপতি ড. জায়েদ বখ্তের বক্তব্যের মাধ্যমে সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালক ছিলেন আবৃত্তিশিল্পী আহকাম উল্লাহ। 

Ads
Ads