লজ্জার হারে হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ

  • ৩১-Jul-২০১৯ ১০:১৮ অপরাহ্ন
Ads

:: স্পোর্টস ডেস্ক ::

নখদন্তহীন বোলার, দায়িত্বহীন ব্যাটিং, ছন্নছাড়া ফিল্ডিং। পুরো শ্রীলঙ্কা সফরে এমনই চিত্র বাংলাদেশ একাদশে। বোলিং, ব্যাটিং , ফিল্ডিং সবখানেই হেরেছে বাংলাদেশ। জয় তো দূরের কথা কোন ম্যাচেই লড়াই করতে পারেনি তামিম ইকবালরা। প্রথম ম্যাচ হারলো ৯১ রানে, দ্বিতীয় ম্যাচ ৭ উইকেটে, আজ হারলো ১২২ রানে। 

বাংলাদেশের এমন দায়িত্বহীন খেলা বহু আগে দেখছে টাইগারভক্তরা। সিরিজ হেরেছে আগেই। বাকী ছিলো হোয়াইওয়াশের। সেটাও আজ হলো, ২৯৫ রানে লক্ষ্যে আসা-যাওয়ার মিছিলে ব্যস্ত ছিলো টাইগার ব্যাটসম্যানরা। 

দলীয় ৪ রানে শুরুটা তামিম ইকবালকে দিয়ে। বরাবরের মতো আজও ব্যর্থ  তামিম। করলেন মাত্র ২ রান।  একাদশে সুযোগ পেয়ে কাজে লাগাতে পারলেন না এনামুল হক বিজয়। দলীয় ২৯ রানে নিজের উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসলেন এ ওপেনার। সৌম্য সরকার ছাড়া কেউ দাড়াতে পারেনি। ৬৯ করে আউট হয়েছেন যখন, তখন কোন স্বীকৃত ব্যাটসম্যান ক্রিজে ছিলো না। 

আজ ভরসা প্রতীক মুশফিকও দাড়াতে পারলেন না। ব্যক্তিগত ১০ রান করে দলীয় ৪৬ রানে শানাকার বলে কুশল মেন্ডিসকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরেছেন। 

সময়মতো জ্বলে উঠতে পারলেন না পুরো সিরিজ ধরে ব্যর্থ  মিথুন। যখন ফিরে গেলেন তখন দল বড় বিপদে। দলীয় ৬০ রানে মাত্র ৪ রান করে বিদায় নেন তিনি। দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ে হাল ধরতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

কলম্বোয় লংকানদের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডেতে ৩ ও ৬ রানে আউট হওয়া এ অলরাউন্ডার আউট হন মাত্র ৯ রানে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ের ম্যাচে আশানুরুপ ব্যাটিং করতে পারেননি সাব্বির রহমান রুম্মান ও মেহেদী হাসান মিরাজ। ৭ ও ৮ রানে ফেরেন তারা। দলীয় ২৪.৪ ওভারে প্রথম সারির ৭ ব্যাটসম্যানের উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকেই কার্যত ছিটকে যায় টাইগাররা।

দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের দিনে একাই লড়াই করে যান সৌম্য সরকার। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে ব্যাটিংয়ে নামা সৌম্য ব্যাটসম্যানদের আমা-যাওয়ার মিছিলে একাই প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। দলীয় ১৪৩ রানে অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। আকিলা ধনাঞ্জয়ার স্পিনে বিভ্রান্ত হওয়ার আগে ৮৬ বলে ৫টি চার ও এক ছক্কায় ৬৯ রান করেন তিনি। ইনিংসের শেষ দিকে তাইজুল ইসলাম ১৭ বলে অপরাজিত ১৮ রান করে ব্যবধান কমালেও দলের হার এড়াতে পারেননি। ১২২ রানের জয় পায় শ্রীলংকা।

প্রথমে ব্যাট করে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস ও কুশল মেন্ডিসের জোড়া ফিফটিতে ৮ উইকেটে ২৯৪ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে শ্রীলংকা। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৮৭ রান করেন ম্যাথিউস। তার ইনিংসটি ৯০ বলে আটটি চার ও এক ছক্কায় সাজানো। এ ছাড়া ৫৪ রান করেন মেন্ডিস। ৪৬ ও ৪২ রান করেন করুনারত্নে ও কুশল পেরেরা।

বুধবার (৩১ জুলাই) কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে টস জিতে ব্যাটিং করে শ্রীলংকা। প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। দলীয় ১৩ রানে লংকান ওপেনার অভিস্কা ফার্নান্দোকে এলবিডব্লিউ করে টাইগার শিবিরে স্বস্তির পরশ এনে দেন পেসার শফিউল ইসলাম। ওয়ান ডাউনে ব্যাটিংয়ে নামা কুশল পেরেরাকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস মেরামত করেন অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নে।

দ্বিতীয় উইকেটে ৮৩ রানের জুটি গড়েন। তাদের এই জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। ওয়ানডে ক্রিকেটে তিন বছর পর খেলতে নেমে উইকেটের সাফল্য পান তাইজুল। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরের পর গত রোববার ওয়ানডে ক্রিকেট খেলতে নেমে শ্রীলংকার বিপক্ষে কোনো সাফল্য পাননি এই বাঁহাতি স্পিনার।

বুধবার সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে লংকান অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নেকে আউট করেন তাইজুল। এদিন ওয়ানডে ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ম্যাচে তাইজুল শিকার করলেন ষষ্ঠ উইকেট। তার স্পিনে মুশফিকের হাতে ক্যাচ তুলে দেয়ার আগে করুনারত্নে করেন ৬০ বলে ৪৬ রান।

এরপর মাত্র ২ রানের ব্যবধানে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে যাওয়া কুশল পেরেরাকে ফেরান রুবেল হোসেন। তার বিদায়ে ৯৮ রানে ৩ উইকেট হারায় লংকানরা। এরপর কুশল মেন্ডিসকে সঙ্গে নিয়ে অনবদ্য জুটি গড়েন শ্রীলংকান সাবেক অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস। এই জুটিতে তারা ১০১ রান যোগ করেন।

বিপজ্জনক হয়ে ওঠা ম্যাথিউস-মেন্ডিসের মধ্যকার জুটি ভাঙেন সৌম্য সরকার। ফিফটি তুলে নেয়া কুশল মেন্ডিসকে আউট করেন সৌম্য। তার আগে ৫৮ বলে ৫৪ রান করেন তিনি। তার বিদায়ে ৪১.৩ ওভারে ১৯৯ রানে ৪ উইকেট হারায় শ্রীলংকা।

ছয় নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রীতিমতো তাণ্ডব চালান দাসুন শানাকা। একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে যান তিনি। পঞ্চম উইকেটে ম্যাথিউসের সঙ্গে মাত্র ২৮ বলে ৫২ রানের জুটি গড়েন শানাকা। একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে মাত্র ১৪ বলে ৩০ রান করা শানাকাকে দ্বিতীয় শিকারে পরিণত করেন শফিউল। সাব্বির রহমান রুম্মনের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হয়ে সাজঘরে ফেরেন শানাকা।

দুর্দান্ত ব্যাটিং করে সেঞ্চুরির পথেই ছিলেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস। শতরানের মাইলফলক স্পর্শ করতে ইনিংসের শেষ ওভারে তার প্রয়োজন ছিল ১৩ রান। সৌম্য সরকার শেষ ওভারে বোলিংয়ে এসে শুরুতেই ওয়াইড দেন। পরের ডেলিভারিতে কাট করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে মুশফিকের হাতে ক্যাচ তুলে দেন ম্যাথিউস।

অসাধারণ ব্যাটিং করেও মাত্র ১৩ রানের জন্য শতরানের দেখা পাননি শ্রীলংকান সাবেক অধিনায়ক ম্যাথিউস। ফেরেন ৯০ বলে ৮৭ রানে। ঠিক পরের বলে আকিলা ধনাঞ্জয়ার উইকেট তুলে নেন সৌম্য। তবে শেষ দুই বলে ডি সিলভার ব্যাক টু ব্যাক বাউন্ডারিতে শ্রীলংকার স্কোর দাঁড়ায় ২৯৪।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
শ্রীলংকা: ৫০ ওভারে ২৯৪/৮ (ম্যাথিউস ৮৭, মেন্ডিস ৫৪, করুনারত্নে ৪৬, কুশল পেরেরা ৪২, শানাকা ৩০, শিহান জয়সুরিয়া ১৩, ডি সিলভা ১২*; সৌম্য ৩/৫৬, শফিউল ৩/৬৮, রুবেল ১/৫৫, তাইজুল ১/৩৪)।

বাংলাদেশ: ৩৬ ওভারে ১৭২/১০ (সৌম্য ৬৯, তাইজুল ১৮*, বিজয় ১৪, মুশফিক ১০, মাহমুদউল্লাহ ৯, মিরাজ ৮, সাব্বির ৭, মিঠুন ৪, তামিম ২, শফিউল ১; দাসুন শানাকা ৩/২৭, কুমারা ২/২৬)।

Ads
Ads