বড়মাছুয়া-রায়েন্দা খেয়াঘাট অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, যাত্রীরা জিম্মি!

  • ২৫-Jul-২০১৯ ০৯:৫৮ অপরাহ্ন
Ads

:: বাগেরহাটে (শরণখোলা) প্রতিনিধি ::

পিরোজপুর মঠবাড়িয়ার বড়মাছুয়া ও বাগেরহাটের শরণখোলার রায়েন্দার সীমানায় বলেশ্বর নদীর আন্তঃবিভাগীয় খেয়াঘাটে যাত্রীদের জিম্মি করে নির্ধারিত টোলের চেয়ে ১০-১২গুণ ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। খেয়াঘাটের ইজাদার অবৈধভাবে সাব-লিজ দিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে।

অতিরিক্ত টাকা দিতে ব্যর্থ হলে সাব-লিজ গ্রহণকারী ও তাদের লোকজন যাত্রীদের ভয়ভীতি, নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি এবং অশালীন ব্যবহার করছে। এমনকি যাত্রীদের হাতে থাকা ব্যাগ বা মালামালের জন্যও জুলুম করে ৫০ থেকে ৭০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে অবৈধভাবে খেয়াঘাট ইজারাদার সাব-লিজ দিয়ে সরকার নির্ধারিত টোলের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করার ঘটনায় ওই খেয়ায় চলাচলকারী দুই জেলার যাত্রীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেও কোনো সাড়া তো মিলছেই না বরং অত্যাচারের মাত্রা বেড়েই চলছে। ফলে স্থানীয় ভুক্তভোগী যাত্রীরা সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছেন। জানা গেছে, খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় হতে বাংলা ১৪২৬ সালের জন্য বড়মাছুয়া আন্তঃবিভাগীয় খেয়া ঘাটটি ২৪ লাখ ৫৫ হাজার ৯৪৮ টাকায় সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে বড়মাছুয়া ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা কাইয়ূম হাওলাদার ইজারা বন্দোবস্ত পান। ওই ঘাট ইজারা নিয়েই ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙিয়ে ও স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার নির্দেশে বিধি বহির্ভূতভাবে ইজারাদার কাইয়ুম স্থানীয় একটি চক্রের কাছে অবৈধভাবে ঘাটটি ৬৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায় সাব-লিজ দেয়।

সম্প্রতি বড়মাছুয়া খেয়াঘাটে সরেজমিন গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, খেয়াঘাট পুনঃইজারা বা সাব-লিজ দেওয়ার নিয়ম না থাকলেও এ ঘাটটি স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসে কর্মরত ফায়ারম্যান সামসুল হক মৃধা, শরণখোলার তৌহিদুল ইসলাম (ডিলার), আবদুল কাদের ও বড়মাছুয়ার মৎস্য আড়তদার ফারুক তালুকদার ঘাট ইজারাদার ইউপি সদস্য কাইয়ূমের কাছ থেকে  ৬৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায় সাব-লিজ নেন। সরেজমিন ঘাটে যাত্রী সাধারণ, বিভিন্ন যানবাহন ও মালামাল পারাপারে সরকার অনুমোদিত টোল রেট চার্ট টানানোর বিধান থাকলে দুপাড়ের কোথাও দেখা যায়নি। 

এছাড়াও যাত্রী পারাপারের জন্য লিজ গ্রহণকারীদের নিজস্ব ঘাট থাকার বিধান থাকলেও তাদের চলাচলের ঘাট না থাকায় সরকারি টার্মিনাল ব্যবহার করতে হচ্ছে যাত্রীদের। যাত্রীদের জিম্মি করে সরকারি রেটের ৫ টাকার পরিবর্তে অতিরিক্ত ১০ থেকে ১২ গুণ বেশি টোল ও টার্মিনাল ভাড়া ৫ টাকা আদায় করছে। উদয়তারা

বুড়িরচর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মোজাম্মেল হক বলেন, তাকে টার্মিনাল ভাড়া ৫ টাকা ও খেয়া ভাড়া ৫০ টাকাসহ মোট ৫৫ টাকা দিতে হয়। এর কম দিতে চাইলে ওরা অশালীন ব্যবহার করে। শাখারিকাঠী গ্রামের বিকাশ চন্দ্র মন্ডলের মেয়ে ও মঠবাড়িয়া সরকারি কলেজের বিএ প্রথম বর্ষের ছাত্রী জয়া মন্ডল জানান,  টার্মিনাল-খেয়াভাড়া ৫৫ টাকার কম দিতে চাইলে টোল আদায়কারী ট্রলার থেকে নেমে যেতে বলেন।

এ ব্যাপারে সাব-লিজ গ্রহণকারী ফায়ারম্যান শামসুল হক সাব-লিজ নেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, আমি ইজারাদারের সঙ্গে শেয়ার আছি। ঘাট ইজারাদার আব্দুল কাইয়ুম তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শিগগিরই দুই পাড়ে যাত্রী ও পণ্য পারাপারের রেট চার্ট টানানো হবে।

Ads
Ads