দেশের শিক্ষিতরা চান সরকারি চাকরি, স্বল্পশিক্ষিতরা চান বিদেশ

  • ২৪-Jul-২০১৯ ০৭:২১ অপরাহ্ন
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

বাংলাদেশের শিক্ষিত যুবকদের বেশির ভাগই সরকারি চাকরি চান। অপরদিকে শিক্ষাবঞ্চিত বা স্বল্পশিক্ষিত অতিদরিদ্র আর নিম্নবিত্তরা জীবিকার তাগিদে চান বিদেশে পাড়ি জমাতে। তবে ধনী ও শিক্ষিতদের পরিবারের সদস্যরা মানসম্পন্ন শিক্ষা এবং তাদের নিজস্ব ব্যবসায় প্রতিষ্ঠা লাভ করতে। যুবসমাজের মাত্র এক-পঞ্চমাংশ বিশ্বাস করেন যে তাদের শিক্ষা চাকরি পেতে সহায়তা করবে।

বুধবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘জাতীয়ভাবে প্রতিনিধিত্বমূলক একটি ব্র্যাক যুব জরিপ-২০১৮’ শীর্ষক একটি জরিপের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। জরিপটি ব্র্যাক, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথভাবে জরিপটি পরিচালিত হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশের জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ হচ্ছে যুব। দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর (১৫ থেকে ৫৯ বছর বয়সী) সংখ্যা কর্মসক্ষমতাহীন ব্যক্তির (১৫ বছরের নিচে এবং ৬০ বছরের উপরে) সংখ্যার চেয়ে বেশি। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সমৃদ্ধ করতে এই যুবরা মূল চালিকাশক্তি হতে পারে। এই পরিপ্রেক্ষিতে যুবদের দৃষ্টিভঙ্গি জানতেই এই যুব-জরিপ পরিচালনা করা হয়।

এতে বলা হয় শিক্ষিত যুবদের মধ্যে ৫৭% নারী এবং ৪২% পুরুষ সরকারি চাকরি করতে চান। এইচএসসি অথবা এর নীচে শিক্ষাগত যোগ্যতার পুরুষদের মধ্যে প্রায় ৯০% উপার্জনমূলক কাজের সাথে যুক্ত। যাদের লেখাপড়া যত বেশি, তারা উপার্জনমূলক কাজের সঙ্গে বেশি দেরিতে যুক্ত হন। নারীদের ক্ষেত্রে পঞ্চম শ্রেণি থেকে এইচএসসি পর্যন্ত শিক্ষিতদের মাত্র ৫% উপর্জনমূলক কাজে যুক্ত। যারা লেখাপড়া করে না, উপার্জনমূলক কাজে যুক্ত নেই, এমনকি কোনো প্রশিক্ষণও (এনইইটি) গ্রহণ করছেন না, এদের প্রায় ৯০ ভাগই নারী। প্রায় ২০% অংশগ্রহণকারী বিদেশে কাজ করতে আগ্রহী হলেও তাদের মধ্যে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ এ ব্যাপারে সক্রিয়ভাবে পরিকল্পনা করছে।

পছন্দের স্বাধীনতা অনুযায়ী, পুরুষ যুবরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বন্ধু ও পেশা নির্বাাচন, স্বাধীনভাবে চলাফেরা ও এবং অর্থ ব্যয়ে অধিক স্বাধীনতা উপভোগ করছে। নারীরা বলছেন এই সকল ক্ষেত্রে স্বাধীনতার অভাব রয়েছে। মাত্র ৪০% নারী স্বাধীনভাবে চলাচলের সুযোগ পায়, যা পুরুষের অর্ধেক। তবে সবাই প্রধানত দুটি বিষয় নিয়ে উদ্বিগ্ন: লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা (যেমন বাল্যবিয়ে, যৌতুক, যৌন হয়রানি এবং ধর্ষণ) এবং মাদক সম্পর্কিত সমস্যা।

জরিপে আরও বলা হয় বিদেশে পাড়ি জমাতে চাওয়াদের আরো দুটি প্রধান লক্ষ্য হচ্ছেশিশুদের জন্য উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা এবং সম্পদের মালিক হওয়া। যুবসমাজের মাত্র এক-পঞ্চমাংশ বিশ্বাস করেন যে তাদের শিক্ষা চাকরি পেতে সহায়তা করবে।

 

/কে 

Ads
Ads