নিজ দপ্তর ছেড়ে গোপনে কোথায় অফিস করছেন গণপূর্তের শীর্ষ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা উৎপল দে!

  • ১৮-Jul-২০১৯ ১২:২০ অপরাহ্ন
Ads

:: উৎপল দাস ::

গত ১ জুলাই দৈনিক ভোরের পাতা অনলাইন ভার্সনে ‘গণপূর্তের শীর্ষ ৬ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার তালিকা প্রস্তুত, মাঠে নেমেছে গোয়েন্দারা!’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশের পর থেকেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরটির অন্যতম শীর্ষ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা অতি. প্রধান প্রকৌশলী (ঢাকা মেট্রো) উৎপল কুমার দে সরকারিভাবে নিজের অফিস রেখে গোপনে অন্য কোথাও অফিস করছেন বলে জানা গেছে। এমনকি সুচতুর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের ভয়ে নিজ কার্যালয়ে না গিয়ে গণপূর্তের একই ভবনের অন্য একটি ফ্লোরে আফিস করেন গোপনে। সেখানেও কেউ কেউ তাকে দেখে ফেলায়, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা উৎপল কুমার দে গত কয়েক দিন ধরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় গোপন অফিস খুলে বসেছেন। ভোরের পাতার এ প্রতিবেদক বিশ্বস্ত সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। 

কেন তিনি নিজ কার্যালয়ে আসেন না এ বিষয়ে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে’র সঙ্গে কয়েকধাপে কথা বলার জন্য ফোনে ক্ষুদেবার্তা (মেসেজ) দেয়া হয়। তিনি দুইবার লিখেছেন, তিনি পরে কথা বলবেন। পরের বার আবার কল দেয়া হলে ওই নির্দিষ্ট সময় ফোনে অন্যকারো সাথে কথা বলছিলেন, তবে এ প্রতিবেদকের নিউজের বিষয়ে মন্তব্য করার জন্য কমেন্ট চেয়ে মেসেজ দেয়ার পরও ফোন ব্যাকও করেননি। প্রতিবেদক নিজেই খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছে, শুধু ভোরের পাতা নয়, একটি বেসরকারি টেলিভিশনে শীর্ষ  সরকারি দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা হিসাবে উৎপল কুমার দে’র বিরুদ্ধে সুনিদিষ্ট অভিযোগ রয়েছে সে বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রচারিত হয়েছে। এরপর মুলত কিছুটা চুপসে গেছেন তিনি। 

এদিকে, গণপূর্তের আরো কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা বলেছেন, উৎপল কুমার দে যদি দুর্নীতিবাজ না হন; তাহলে আমরা সবচে বেশি খুশি হবো। কেননা তিনি আমাদের সহকর্মী। সৎ সাহস থাকলে তিনি সাংবাদিকদের সামনে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করুক।  এখন তাকে নিয়মিত অফিসে পাওয়া যায় না। তার ব্যাক্তিগত কর্মকর্তার মাধ্যমেই কাজ করিয়ে নিচ্ছেন তিনি। তবে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় কেন অফিস করছেন, সে বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানান। 

উল্লেখ্য, কয়েকটি সুনিদির্ষ্ট অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত চলছে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে’র বিরুদ্ধে। মন্ত্রণালয়ে অনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি এই প্রতিবেদন ধামাচাপও দেয়ার অপচেষ্টায় মাঝে মাঝে সচিবালয়ে দৌঁড়ঝাপ করছেন বলেও নিশ্চিত হওয়া গেছে। 

উল্লেখ্য, টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সরকারি যে কয়েকটি খাতে বা বিভাগে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম গণপূর্ত অধিদপ্তর অন্যতম। সরকার প্রধান হিসাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এই অধিদপ্তরের দুর্নীতি রোধ করতে দৃঢ়তার পরিচয় দিয়ে অভিন্ন সুরে ঘোষণা দিয়েছেন, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যিনিই হবেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কেননা বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করে সুশাসন নিশ্চিত করতে কাজ করছে। ইতিমধ্যেই গণপূর্ত অধিদপ্তরের ৬ জন শীর্ষ দুনীতিবাজ কর্মকর্তার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। দুর্নীতির সুনিদিষ্ট তথ্য প্রমাণ, কিভাবে দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন, কোথায় কোথায় কি কি সম্পদ গড়েছেন, বিদেশে মুদ্রা পাচার, সন্তান পড়ানোর নামে কয়েকদিন পর পর বিদেশ গিয়ে টাকা পাচার, অথবা প্রতিবেশি দেশে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচার, যোগ্যতাহীন কোম্পানিকে অধিক কমিশনের আশায় অনৈতিকভাবে কোটি কোটি টাকার কাজ দিয়ে দেয়া এবং সময়মতো সেই কাজ করতে না পারার মতো অভিযোগ রয়েছে এই শীর্ষ ৬ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। 

দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের তালিকার শীর্ষেই রয়েছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতি. প্রধান প্রকৌশলী (ঢাকা মেট্রো) উৎপল কুমার দে। নিজেকে খুব ভালো মানুষ দাবি করা উৎপল কুমার দে’ সকল অপকর্মের সারথী হিসাবে তার ব্যাক্তিগত কর্মকর্তা ফখরুল হাসান বাবু নিজেও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের তালিকায় ঠাঁই করে নিয়েছেন। এছাড়া রয়েছেন, জাতীয় সংসদ ভবনের নির্বাহী প্রকৌশলী(সিভিল)ফজলুল হক মধু, গণপূর্ত অধিদপ্তরের ডিভিশন ১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত আলী, আজিমপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী ইলিয়াস হোসেন এবং সংসদ ভবনের ই/এম স্বর্ণেন্দু শেখর মণ্ডল।

Ads
Ads