ইসলামি পর্যটনকে ‘বিশ্ব বাণিজ্য ব্র্যান্ড’ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

  • ১১-Jul-২০১৯ ০৩:৪২ অপরাহ্ন
Ads

ফাইল ছবি 

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

ইসলামি পর্যটনকে বিশ্ব বাণিজ্যের ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ও রোডম্যাপ প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) সকালে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ‘ঢাকা অ্যাজ দ্য ওআইসি সিটি অব ট্যুরিজম-২০১৯’ উদযাপন উপলক্ষে দু’দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ইসলামি পর্যটনকে ‘বিশ্ব বাণিজ্য ব্র্যান্ড’ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য রোডম্যাপ প্রণয়নের প্রয়োজন। এ বিষয়ে রোডম্যাপ তৈরি করতে তিনি ওআইসিভুক্ত রাষ্ট্রের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ইসলামি পর্যটনের আকার বিশাল। এটা বিপুল সম্ভাবনাময় একটি খাত। ওআইসির ২০১৮ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বে মুসলিম ট্যুরিস্টের সংখ্যা ১৫৬ মিলিয়ন; যা ২০২০ সালে বেড়ে দাঁড়াবে ১৮০ মিলিয়ন। একই বছর সারাবিশ্বের জনসংখ্যার ২৬ শতাংশ হবে মুসলিম।

তিনি আরও বলেন, ইসলামি পর্যটনের বিকাশে আন্তঃওআইসি পর্যটক প্রবাহ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে ভিসা সহজীকরণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্র্যান্ডিং ও মানোন্নয়নের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পর্যটন খাতের গুরুত্ব অনুধাবন করে জাতির পিতা বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন গঠন করেন। আমরাও এই পর্যটনের উন্নয়নে কাজ করছি। আমরা সারাদেশে অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, ওআইসি সদস্যভুক্ত রাষ্ট্রগুলো পর্যটন খাতের অবকাঠামো ও উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য তাদের বেসরকারি খাতকে একক ও যৌথভাবে অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহ প্রদান করবে। থমসন-রয়টার্সের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১৫ সালে ইসলামী পর্যটনের বাজার ছিল ১৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের, যার মধ্যে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর বাজার ছিল প্রায় ১০৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের। ইসলামী পর্যটনের বাজার বার্ষিক ৮ দশমিক ৩ শতাংশ হারে বেড়ে ২০২১ সাল নাগাদ ২৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়াবে।

বিকাশমান ইসলামী অর্থনীতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইসলামি অর্থনীতি’ বর্তমানে নবরূপে বিকাশ লাভ করছে। হালাল ফুডস, ইসলামী ফাইন্যান্স, হালাল ফার্মাসিউটিক্যালস এবং প্রসাধনী, হালাল পর্যটন ইত্যাদি ইসলামিক অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান খাত। এ খাতগুলো বিকাশের জন্য ওআইসি সদস্যভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব একান্ত প্রয়োজন।

ঢাকার বিভিন্ন ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকায় অনেক প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া যায়। শুধু মুসলিম উম্মাহর জন্য না, সারা বিশ্বের মানুষের জন্য আমরা ঢাকাকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে পারি। আমাদের এখানে বিশ্ব উজতেমা হয়। যা হজের পর মুসলিমদের সবচেয়ে বড় জমায়েত। ঢাকার তেহারি, বাখরখানি খাদ্য হিসেবে খুব আকর্ষণীয়। ঢাকার জামদানি, ঢাকার মসলিন এর সুনাম ছিলো দীর্ঘদিনের। এমন অনেক নিদর্শন আছে ঢাকায়।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে উন্নত করে দিচ্ছি আমরা। ওআইসিভুক্ত দেশ চাইলে আমরা আমাদের সমুদ্র সৈকতের একটা অংশ তাদের জন্য আলাদাভাবে উন্নত করে দিতে পারি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেসরকারি বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী। অন্যদের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, বেসরকারি বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওবায়দুল মুক্তাদির এবং ওআইসির সহকারি মহাসচিব মুসা ইলিকায়া বক্তব্য রাখেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহিবুল হক।

 

/কে 

Ads
Ads