অবশেষে ফাঁস হলো ভাইরাল হওয়া ‘জমজ গাড়ি’র রহস্য!

  • ১১-Jul-২০১৯ ০২:৩৯ অপরাহ্ন
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

একই রঙের গাড়ি, মডেলও একই, এমনকি নম্বর প্লেটও হুবহু। রাজধানীর একটি সড়কে পাশাপাশি দুটি গাড়ির ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর পরেই অনুসন্ধানে নামে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। এটি সত্যিকার ছবি নাকি কারসাজি করা, এমন কথাও উঠে। এটা কীভাবে সম্ভব- সে প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে খেতেই কথিত ‘জমজ গাড়ি’র রহস্য উন্মোচন করে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ। গাড়ি দুটির নম্বর প্লেটেই লেখা- ঢাকা মেট্রো-গ ৪২-৪৬১৮। 

এ ঘটনায় ভুল স্বীকার করেছেন বিআরটিএ কর্মকর্তারা। প্রাথমিক তদন্তে গাড়ি দুটি কেনাবেচায় শুল্ক ফাঁকির প্রমাণ পাননি গোয়েন্দারা।

গাড়ি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান কার সিলেকশন বিডি ও বিআরটিএ-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, আলাদা ব্যক্তির কাছে গাড়ি দুটি বিক্রি হয় গত ৩ মার্চ। চার মাস পর ফেসবুকে ছবি ভাইরাল হলে টনক নড়ে বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের। এরপর বদলানো হয় নম্বরপ্লেট। 

জানা যায়, ভুল করে একটি গাড়ির দুই সেট দলিল বিআরটিএ থেকে উত্তোলন করে দুটি নম্বরপ্লেট তৈরি করে দুই মালিককে দিয়েছিল বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান। এ ঘটনায় ভুল স্বীকার করেছেন বিআরটিএ কর্মকর্তারা। প্রাথমিক তদন্তে গাড়ি দুটি কেনাবেচায় শুল্ক ফাঁকির প্রমাণ পাননি গোয়েন্দারা।

গাড়ি দুটি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান কার সিলেকশন বিডি'র বিক্রয় প্রতিনিধি মো. আসাদুল ব্রেকিংনিউজকে জানান, বিআরটিএ থেকে ভুল করে ঢাকা মেট্রো গ ৪২-৪৬১৮ নিবন্ধন নম্বরের বিপরীতে দুই সেট কাগজ তুলে দুই মালিককে দেয়া হয়। বিআরটিএ থেকে কাগজপত্র ও নম্বরপ্লেট ঠিক করে গাড়ি দুটির মালিককে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। 

ঢাকা মহানগর পুলিশের একজন কর্মকর্তা ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘একই মডেল ও একই রঙের গাড়ি দুটি হতেই পারে। কিন্তু নম্বরপ্লেট এক হওয়ার আইনত কোনো সুযোগ থাকার কথা না। এটি যদি হয়ে থাকে তাহলে বিআরটিএর নিবন্ধন প্রক্রিয়াতেই ঘাপলা থাকতে পারে। হয়ত এভাবে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। আবার গাড়ির মালিকদের জন্যও এটি একটি সতর্কবার্তা। হয়ত একই নম্বরপ্লেটের দুটি গাড়ির একটি ব্যবহার হচ্ছে অবৈধ কোনো কাজে। তার তাতে ফেঁসে যেতে পারেন নিরপরাধ অপরজন।’

ডিএমপির মহাখালী অঞ্চলের ট্রাফিক বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) আশরাফউল্লাহ বলেন, ‘গাড়ির নম্বর প্লেটের নম্বর এক হতে পারে। তবে সিরিজ আলাদা হয়। যেমন গ, ঘ এর পার্থক্য থাকতে পারে। অনেক সময় সিরিজের ভুল থাকে। কিন্তু এই নম্বর প্লেটে গাড়ির নম্বর এবং সিরিজ একই। তাই এখানে কোন গলদ থাকতে পারে।’

শুল্ক গোয়েন্তা কর্তৃপক্ষ বলছে, অনুসন্ধানে কর ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে এ ধরনের ভুলের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে ভুল স্বীকার করলেও কথা বলতে রাজি হননি বিআরটিএ কর্মকর্তারা।

Ads
Ads