টাইগারদের তবু অভিনন্দন

  • ৮-Jul-২০১৯ ০৯:২২ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

লন্ডনের ওভালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে শুভসূচনা করেছিল টাইগাররা। বাকি ম্যাচগুলোতে আশাবাদী ছিলাম আমরা। স্বপ্নটা ছিল সেমিফাইনালকে ছোঁয়ার। কিছু ভুল আর ব্যর্থতা স্বপ্নটা বাস্তবতায় রূপ না নিলেও অভিনন্দন টাইগারদের। তামিম-সৌম্যের স্লো পারফরম্যান্স ছাড়া গর্ব করার মতো বেশ কিছু অর্জন নিয়েই দেশের মাটিতে পা রেখেছেন তারা। অন্যান্য যেকোনো সময়ের তুলনায় দ্বাদশ ক্রিকেট বিশ্বকাপে দলগত বিবেচনায় ভালোই খেলেছেন বলা যেতে পারে। 

নিজেদের ইতিহাসে অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ সেরা দল নিয়েই খেলতে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক অতীতও কথা বলছিল বাংলাদেশের পক্ষে। বিশেষ করে ২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকে ক্রিকেটবিশ্ব দেখছিল নতুন এক বাংলাদেশকে। সবশেষ আয়ারল্যান্ড সিরিজ দিয়ে প্রথমবারের মতো ত্রিদেশীয় কোনো আসরের শিরোপা জেতার স্বাদও পেয়েছিল এই দলটি। ফলে আমাদের প্রত্যাশা বেশি থাকাটা অস্বাভাবিক ছিল না। কিন্তু সেমিতে খেলা স্বপ্নটা স্বপ্নই থেকে গেল। ফিরে এলো টাইগার টিম। তবে হতাশার মাঝেও প্রাপ্তি থাকে। টিম বাংলাদেশ বিশ্বকাপ আসরে ৯ ম্যাচে মাত্র ৩টিতে জয় পেয়েছে। পয়েন্ট ৭, কারণ শ্রীলংকার বিপক্ষে বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়া ম্যাচে ১ পয়েন্ট যোগ হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২ উইকেটে হার হজম করতে না হলে আজ প্রাপ্তির হিসাবটা অন্য রকম হতে পারত। তবে ক্রিকেট বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে টাইগাররা। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার ডিন জোনসের সাজানো ইংল্যান্ড-ওয়েলস বিশ্বকাপের সেরা দলে ঠাঁই পেয়েছেন চার বাংলাদেশি। দুই পা-ব সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে এ দলে জায়গা করে নিয়েছেন তরুণ সৈনিক মোস্তাফিজুর রহমান ও নতুন আবিষ্কার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

বিশ্বকাপের প্রথম পর্বে ৮ ম্যাচে ৫ ফিফটি আর ২ সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ৬০৬ রান, সর্বোচ্চ অপরাজিত ১২৪ রান করে সেরা রান সংগ্রহকারীর তালিকায় নাম লিখিয়েছেন সাকিব। আরেকটু এগোলেই ভেঙে যেতে পারত কিংবদন্তি সব্যসাচী শচিন টেন্ডুলকারের এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান ৬৭৩ করার রেকর্ড। আর কাটার মাস্টার মোস্তাফিজ পরপর দুই ম্যাচে ৫ উইকেট করে শিকার করে মোট ২০ উইকেটে শীর্ষ দ্বিতীয় বোলার এবারের বিশ্বকাপে। ৭ ম্যাচে ১৩টি উইকেট শিকার করে ঘরোয়া র‌্যাংকিংয়ে দ্বিতীয় এবং বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে ১৪তম পেসার হিসেবে স্থান করে নিয়েছেন সাইফউদ্দিন। কয়েকদিন আগে প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে, এবারের বিশ্বকাপে ইয়র্কার দেওয়ার ক্ষেত্রে সাইফউদ্দিন আছেন দ্বিতীয় অবস্থানে। বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিংয়েও যে তিনি বেশ কার্যকর, তা বুঝিয়েছেন ভারতের বিপক্ষে। এদিন প্রচণ্ড চাপের মধ্যেও বুক চিতিয়ে লড়াই করে গেছেন। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হাফসেঞ্চুরি তুলে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন এ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। 

তামিম-সৌম্যের পারফরম্যান্স (বিশেষ করে ভারতের বিপক্ষে) আরও একটু নির্ভরতার জায়গায় টিকে থাকলে, বৃষ্টিতে শ্রীলংকার বিরুদ্ধে ম্যাচটি পয়েন্ট ভাগাভাগি না হলে, কোচের ভুল তথ্যে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে হারতে না হলে সেমির সূর্য দেখে নিতে পারত বাংলাদেশ। যদিও দেশে ফিরেই টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি সব দায় নিজের কাঁধে নিয়ে নিয়েছেন। তবে তার খারাপ লেগেছে সাকিবের জন্য। তিনি বলেছেন, ‘ও যে টুর্নামেন্ট খেলেছে আরও ভালো অবস্থান বা সেমিফাইনালে যাওয়া আমাদের দরকার ছিল। একজন খেলোয়াড় যখন এমন দুর্দান্ত খেলে তখন তার দলের সেমিফাইনালে খেলার কথা।’ বোলিংয়ে ভালো শুরু করতে না পারার দায় নিজের কাঁধেই নিয়ে মাশরাফিকে বলতে শুনেছি, ‘পাকিস্তানের বিপক্ষে জিতলে পাঁচে থাকতে পারতাম। ভারতের সঙ্গে জিতলে এক ধরনের মোমেন্টাম নিয়ে আসা যেত।’
সে যাই হোক, আমরা আশা ছাড়িনি। এবারের ভুল-ত্রুটি মনে রেখে আগামীর জন্য প্রস্তুতি নেবে আমাদের টাইগাররা। সে-দলে এবারের অনেকেই থাকবেন না, নতুনরা গড়ে তুলবেন এক অপ্রতিরোধ্য টিম- টাইগার। গর্জে উঠলেই আতঙ্কেই পথ করে দেবেন বিপক্ষ শক্তি। আর মাশরাফির নেতৃত্বে এই জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে শ্রীলংকার বিরুদ্ধে ৩ দিনের ওয়ান ডের সিরিজ জয় এই বিশ্বকাপের জ¦লনকে কিছুটা হলেও প্রশমিত করবেÑ এটা আমাদের প্রত্যাশা। পরিশেষে ছেলেবেলা থেকে আজও স্মৃতিছোঁয়া সেই গানটির কথা মনে পড়ছে, ‘হার-জিত চিরদিন থাকবে, তবু এগিয়ে যেতে হবে...’।

Ads
Ads