বিতর্কিতদের কেন এত পছন্দ শোভন-রাব্বানীর: জবি ছাত্রলীগের সম্মেলন নিয়ে সংশয়!

  • ৮-Jul-২০১৯ ০১:৩১ অপরাহ্ন
Ads

উৎপল দাস

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজ হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সোনালী দুর্দিনের, রাজপথের লড়াকু, ত্যাগী এবং আদর্শিক ছাত্রলীগ এখন খুঁজে পাওয়া দায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে নিজেদের জাহির করার প্রবণতা এবং ভাইলীগই বেশি পছন্দ করেন বর্তমান  ছাত্রলীগের কথিত ত্যাগী নেতাকর্মীরা। মাঠে বিরোধীপক্ষের শক্তিশালী অবস্থানের অনুপস্থিতিতে সাংগঠনিক কাজেও ঠিকমতো মনোনিবেশ করতে পারছে না বর্তমান ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতা রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং গোলাম রাব্বানী। 

একাত্তরের সুমহান মুক্তিযুদ্ধের আগে জগন্নাগ কলেজ (বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে মিছিল না আসলে ঢাকার রাজপথ উত্তাল হতো না। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে জগন্নাথ কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের সময়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিরও পট পরিবর্তন, পরিমার্জন হয়েছে। ত্যাগীদের বাদ দিয়ে বিতর্কিতদের ঠাঁই দেয়াতে শুরু থেকেই বিতর্কিত শোভন-রাব্বানীর পূর্ণাঙ্গ কমিটি। এখনো সেই বিতর্কের চূড়ান্ত অবসান না ঘটিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট জবি ছাত্রলীগের কমিটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিলুপ্ত করে দেয়ার পর শোভন-রাব্বানী এখন আবার বিতর্কিতদের দিয়েই আগামী ২০ জুলাই সম্মেলন করার ঘোষণা দিয়েছেন সংগঠনের শীর্ষ দুই নেতা। 

যদিও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ পদমর্যাদার একজন শিক্ষক যিনি সরকারি দলের সহযোগী সংগঠনেরও হাইকমান্ডের প্রভাবশালী নেতা এবং ছাত্রলীগের পরিপূর্ণ গঠনতন্ত্র শেখ হাসিনার খুবই আস্থাভাজন তিনিই মনে করেন, শোভন-রাব্বানী মন চেয়েছে তাই নতুন সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করেছে। কিন্তু এই ঘোষণাই শেষ ঘোষণা নয়। বিতর্কিতদের নিয়েই পূর্ণাঙ্গ কমিটি করেছিলেন তারা। সেই সমস্যার সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এখন জবি ছাত্রলীগের সম্মেলন প্রস্তুতির নামে যে আহ্বায়ক কমিটি করেছেন সেখানেও ২১ জনের মধ্যে কয়েকজন বিতর্কিত। এদিক বিবেচনায় শোভন-রাব্বানী বিতর্কিতদেরই কেন এত পছন্দ করেন, সেই প্রশ্ন তাদের জন্যই ছুঁড়ে দিয়েছেন জবি প্রভাবশালী রাজনৈতিক মনস্ক শিক্ষক। তিনি সর্বশেষ একটা কথাই বলেন, এভাবে ছাত্রলীগ চলতে থাকলে খুব বেশি দিন লাগবে না; কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মেলনই হয়ে যাবে। তবে জবি ছাত্রলীগের ২০ জুলাইয়ের সম্মেলন নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। 

এদিকে, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে জবি ছাত্রলীগের পরবর্তী সম্মেলন করার জন্য যে ২১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে যে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী সেখানে ‌‌'আহ্বায়ক এবং যুগ্ম' দুটো বানানই ভুল করা হয়েছে। সংশোধনের কোনোরকম চেষ্টা না করে, ভুলকে নিয়েই এগিয়ে যাওয়ার অদম্য অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন শীর্ষ দুই নেতা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে কথা উঠলেও শীর্ষ দুই নেতার কোনো অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ বা অনাকাঙ্খিত ভুলের জন্য দুঃখপ্রকাশ করার মতো বিষয় চোখে পরেনি। 

প্রেস বিজ্ঞপ্তি বিভ্রাটের পর যে বিষয়টি সবার আগে উঠে আসে সেটি হচ্ছে, যে ১৮ ফেব্রুয়ারি মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে জবি ছাত্রলীগের তরিকুল ইসলাম ও শেখ জয়নুল আবেদিন রাসেলের নেতৃত্বাধীন ৩৩ সদস্যের ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছিল, সেই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে অস্ত্র মামলার তিন নম্বর আসামীকেই ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ভুল বানানের আহ্বায়ক কমিটির প্রধান দায়িত্ব দিয়েছেন আশরাফুল ইসলাম টিটনকে। তিনি নিজেই ওই মামলার ৩ নম্বর আসামি। যদিও ব্যাচের নাম ভুল লেখা ছিল পুলিশের মামলার তথ্যে। কিন্তু এই টিটনই যে মামলার আসামি সে বিষয়টি পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।  এমনকি টিটন নিজেই তরিকুল-রাসেলের ৩৩ জনের কমিটি থেকে সহ-সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছিল। তখন সাইফুর রহমান সোহাগ এবং এস এম জাকির হোসেনের নেতৃত্বাধীন কমিটির কেন্দ্রীয় দপ্তর বিভাগ সেই পদত্যাগ পত্রটি গ্রহণ করেছিল। এদিকে টিটনের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসু জিএস গোলাম রাব্বানী। ভোরের পাতার সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, আশরাফুল ইসলাম টিটনের বিরুদ্ধে মামলা ঠিকই হয়েছে। সেটা ষড়যন্ত্রমূলক রাজনৈতিক মামলা। প্রতিপক্ষ তাকে ফাঁসানোর জন্য এ মামলায় ঢুকিয়ে দিয়েছিল। তিনি আরো বলেন, পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাকি আগেই জানিয়ে দিয়েছেন চূড়ান্ত প্রতিবেদনে টিটনের নাম থাকবে না। এক্ষেত্রে মামলার বাদী পুলিশ নিজে হয়ে কিভাবে এমনটা বলতে পারেন তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। কেননা, পুলিশের যে কর্মকর্তা মামলার বাদী হয়ে রজু করেছিলেন তখন কি তিনি রাজনৈতিক চিন্তা চেতনা থেকে টিটনের প্রতিপক্ষের কথায় মামলার তিন নম্বর আসামি করেছিলেন? স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নটি উঠে আসে, মামলার বাদী পুলিশ উদ্দেশ্যমূলকভাবে টিটনকে অভিযুক্ত করে আসামি করেছে। প্রকৃতপক্ষে মামলার চার্জশিট পাওয়ার পরই এসব প্রশ্নের জবাব সময় মতোই পাওয়া যাবে বলে জানা গেছে।

তবে ছাত্রলীগের মানবিক নেতা হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা গোলাম রাব্বানী আরো বলেন, যাদের নিয়ে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে তারা সবাই পরিশ্রমী এবং যোগ্য। কিন্তু ২১ জনের মধ্যে তিনজনের সঙ্গে এ প্রতিবেদকের কথা হয়েছে। তারা বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এবং জাসদ ছাত্রলীগের লগোর রঙের মধ্যে যে কালো-লালের পার্থক্য রয়েছে সেটাই জানেন না বলে স্বীকার করেছেন। তাদের মধ্যে গোলাম রাব্বানীর নিজ জেলা মাদারীপুরের ১ জন সুন্দরী রয়েছেন বলে জানা গেছে। গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে গা ঘেষে ছবি তুলতে পারলেই নিজেকে বড় নেত্রী ভাবেন তিনি। তার নাম ফৌজিয়া জাফরিন প্রিয়ন্তী। এই প্রিয়ন্তি ছাড়াও শেখ মেহেদী হাসান, আসাদুজ্জামান আসাদ এবং আক্তার হোসেন একই জেলার সদস্য।  এ বিষয়ে গোলাম রাব্বানী বলেন, মাদারীপুর থেকে বরাবরই ছাত্রলীগের নেতৃত্ব উঠে এসেছে। তবে অন্যান্য জেলাতেও ভালো ছেলে-মেয়ে পরিশ্রমী রয়েছে। তাদের ভবিষ্যতে বিবেচনায় নেয়া হবে। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,  শুধু মাদারীপুরে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের বাড়ি হওয়ায় তাদের চেয়ে অনেক যোগ্যদের বাদ দিয়ে এই কমিটিতে রাখা হয়েছে।

এছাড়া যুগ্ম আহ্বায়ক হোসনে মোবারক রিসাতের বিরুদ্ধে জবি টিএসসিতে চাঁদবাজির অভিযোগ প্রমাণ হওয়ার পর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। আরেক যুগ্ম আহ্ববায়ক নাহিদ পারভেজ ৪ ক্যাম্পাস রাজনীতিতে অনুপস্থিত। এই নাহিদ পারভেজ ছাত্রলীগের বদিউজ্জামান সোহাগ এবং সিদ্দিকী নাজমুল আলম কমিটির একজন উপ সম্পাদকের মাই ম্যান (নিজস্ব লোক) হিসাবে এই প্রস্তুতি কমিটিতে এসেছেন। এমনকি নিজেকে ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির অদৃশ্য নিয়ন্ত্রক হিসাবে নিজেই ঘোষণা দেয়া সাবেক নেতা, যার বিরুদ্ধে একাধিক নারী কেলেংকারির অভিযোগ রয়েছে তার অনুসারী হিসাবে  আনিসুর রহমান, আদম সাইফুল্লাহ প্রস্তুতি কমিটিতে সদস্য হিসাবে ঠাঁই পেয়েছেন।  যে অদৃশ্য সিন্ডিকেটের মূল হোতার নাম বলা হচ্ছে তিনি সোহাগ-নাজমুল কমিটির উপ আইন সম্পাদক বিপ্লব হাসান পলাশ। তার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের নিয়ন্ত্রক হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ভোরের পাতার এ প্রতিবেদকের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় বলেছেন,  আমাকে ছাত্রলীগের সভাপতি বানিয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী ও আমাদের পরম আস্থার নাম শেখ হাসিনা। তার বাইরে গিয়ে আমাকে কেউ যদি নিয়ন্ত্রক করেন, এ কথা বলে থাকেন বা অভিযোগ উঠে তাহলে বুঝে নিবেন; লোকটি (পলাশ) নিজেই নিজের পায়ে কুড়াল মারছেন। ছাত্রলীগের সাবেক নেতা হিসাবে এবং এলাকার বড় ভাই হিসাবে সম্মান করি। তারমানে তার কথায় ছাত্রলীগ চলবে, এমনটা ভাবার কোনো সুযোগ নেই।  বিপ্লব হাসান পলাশ ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির কেউ নন। আর ছাত্রলীগের নেতা হওয়ার জন্য বিপ্লব হাসান পলাশের কাছে যাচ্ছেন তাদের প্রতিও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে শোভন বলেন, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কোনো সমস্যায় পড়লে আমার অথবা সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর কাছে আসবে। আমরা সমস্যা সমাধান করতে না পারলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে যাবে; কিন্তু সাবেক ছাত্রলীগের নেতার কাছে গিয়ে তো কোনো লাভ হবে না। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। কারণ ছাত্রলীগ থেকে সাবেক হওয়ার পর যারাই ছাত্রলীগ নিয়ে পরে থাকেন, তারা কোনোদিন মূল দলে কাজ করার সুযোগ পান না বলে মনে করেন ছাত্রলীগের সভাপতি শোভন। সাদাসিদে মানুষ হিসাবে শোভন আরো বলেন, বিপ্লব হাসান পলাশ যদি আমার কাজ করে দেন তাহলে তিনিই তো ছাত্রলীগের সভাপতির পদে থাকতেন। এরপর এমন কোনো অভিযোগ বা কারা তার কাছে গেছেন বিভিন্ন তদবির নিয়ে, সেটার তালিকা দিবেন; আমি (শোভন) ছাত্রলীগের তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব। 

ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বলেন, এখনো কেন্দ্রীয় কমিটির বিতর্কিতদের সমস্যার সমাধান হয়নি। এটা খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যেই হবে। এরই মধ্যে জবি ছাত্রলীগের সম্মেলন কমিটিতে কিভাবে এতজন বিতর্কিত আসলো তা নিয়েও ভাবা হচ্ছে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা আমাদের একটা দায়িত্ব দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে শুধু মানবিক কাজ নয়, সাংগঠনিক কাঠামো ঠিক রাখতে কাজ ইতিমধ্যে শুরু করেছি। কিন্তু পারিপার্শ্বিক অনেক কারণেই নানা সময় কাজগুলো সঠিকভাবে করা হয়ে উঠে না। আশা করছি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মেলনের দিনই আমরা নতুন কমিটি ঘোষণা করতে পারবো। এক্ষেত্রে সবার ঐকান্তিক সহায়তা প্রয়োজন।

এদিকে, জবি ছাত্রলীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক তারেক আজিজ প্রায় দুই বছর ধরে রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় ছিলেন।  এমনকি দেড় বছরেরও অধিক সময় ধরে ক্যাম্পাসের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন না। 

উল্লেখ্য, গত ৩ ফেব্রুয়ারি প্রেমকে কেন্দ্র করে তুচ্ছ ঘটনায় শাখা সভাপতি তরিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদিন রাসেলের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ জবি শাখা ছাত্রলীগের সকল সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করে। কেন্দ্রের নির্দেশ অমান্য করে বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং অন্যান্য পদধারী নেতারা নিজেদের অবস্থান জানিয়ে মহড়া দিতে থাকে।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আবারও ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দিনভর সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে সাংবাদিকসহ ৪০ জন আহত হয়। পরে ১৯ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক শাখা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে। একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের সকল সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করে।

Ads
Ads