যৌনপল্লী নয়, লিঙ্গহীন ধর্ষকপল্লী গড়তে চাই

  • ৮-Jul-২০১৯ ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: উৎপল দাস ::

আমি মোটেও এমন পোস্টার হাতে নেয়া নারীর সঙ্গে একমত নই। তার মানে ভাববেন না আমি ধর্ষকের পক্ষের লোক। আমি তো যৌনপল্লী গড়ার পক্ষে নই, আমি ধর্ষকপল্লী বানাতে চাই। যে ধর্ষকপল্লীতে শুধু তারাই থাকবে যারা মহামান্য আদালতের রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত ধর্ষক। শাস্তি হিসাবে ধর্ষকদের লিঙ্গ কর্তন করার পর সেখানে রাখা হবে। তখন কেউ ধর্ষণ করার আগে একবার চিন্তা করবে, যদি এই অপকর্মটি করে তাহলে তাদের জন্য রয়েছে ধর্ষকপল্লী। যেখানে কোনো পুরুষ থাকবে না, সব কয়টা লিঙ্গহীন নপুংশক থাকবে। এই ভয়ে যদি সমাজ থেকে ধর্ষণকামিতা কমে আসে।

‘প্রয়োজনটা খুব বেশি হলে যৌনপল্লীতে যান, তবুও বাচ্চাগুলোকে মাফ করুন।’ এই ছবিটি যে নারীর হাতে দেখলাম তাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। তাকে নিয়ে কথা বলারও কোনো ইচ্ছে নেই। তবে আপনার কাছে বিনয়ের সঙ্গে প্রশ্ন, সুন্দর পৃথিবীর আদিমতম প্রয়োজনটাকে মেটানোর জন্য কোনো পুরুষের যৌন পল্লীতে কেন যেতে হবে? এই শুদ্ধতম প্রয়োজনটার ফলাফল আপনি এবং আমি। তাই প্রয়োজনটা যারা ঘরে মিটাতে পারে তারাই পুরুষ। এখানে অন্যায়ের কিছু নেই। জৈবিক এই চাহিদা পূরণের জন্য কোনো মানুষ যৌনপল্লীতে যাওয়ার খুব বেশি প্রয়োজন নেই। তারপরও বলছি, কেউ যদি আদিম পেশায় গিয়ে আনন্দ পায়, সমঝোতার ভিত্তিতে টাকার বিনিময়ে উপভোগ করে সেটাতেও কোনো সমস্যা কারো থাকার কথা নয়।

প্রিয় পোস্টারওয়ালা ভয়ংকর জ্ঞানের অধিকারী সুন্দরী রমনী, আপনি কি জানেন না? যারা ধর্ষণ করে তারা বাচ্চা, বুড়ো, মা, মেয়ে কাউকেই ছাড় দেয় না। এখানে বাচ্চাদের শুধু একার কথা বলছেন কেন? ধর্ষক ধর্ষকই। তাদের কোনো পরিবার নেই, নেই কোনো পরিচয়। তাদের পরিচয় বিকৃত মানসিকতার ধর্ষক। তাদের মানসিকতা ঠিক করার দায়িত্ব আমার এবং আপনার। এমনকি শাস্তির বিধান হিসাবে মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে লিঙ্গ কর্তন করে ধর্ষকদের জন্য আলাদা পল্লী তৈরি করে দিলেই হবে। এটা জেলখানার ভিতরে বা বাইরেও হতে পারে। মানুষ টিকেট কেটে ধর্ষকদের সেই পল্লীতে দেখতে যাবে। প্রয়োজনে তাদের জন্য থুতু উৎসব করা যেতে পারে সেই ধর্ষকপল্লীর ভেতরে। কেননা, ধর্ষকপল্লীতে সকল বয়সের নারীই নিরাপদ। লিঙ্গহীন ধর্ষকদের প্রয়োজনটা তখন শেষ হয়ে গেছে। তখন তাদের মুখে থুতু দিয়ে আসবেন। দেখবেন ওই ধর্ষকের পরিণতি দেখে আর কেউ ধর্ষণে উৎসাহিত হবে না। তাই যৌন পল্লী নয়, ধর্ষকপল্লী গড়াটাই জরুরি।

আরেকটা বিষয়, দেখলাম অনেকের ওয়ালে এই ছবিটা ঘুরছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন অনেক সুন্দরী নায়িকা/ টেলিভিশন উপস্থাপিকা/ সংবাদ পাঠিকা; এমন কি নারী সাংবাদিক বড় আপুও রয়েছেন। তাদের অনেকেই একই মানসিকতার বলে হয়তো এই পোস্টারটি শেয়ার করেছেন। আমি খুব স্বাভাবিকভাবেই তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে বলছি, নারী আমার কাছে গঙ্গা, গীতা, স্বরসতীর মতোই পবিত্র নাম। কিন্তু আপনাদের অনেকেকেই আমি চিনি যারা কাপড় খুুলে কর্পোরেট সংস্কৃতিতে রাতারাতি প্রমোশন নিয়েছেন। আপনাদের মতো কর্পোরেট পতিতাদের মুখে ধর্ষকদের বিচার চাওয়া বড্ডা বেমানান। ও, আপনারা তো প্রয়োজনটা আপোসে মিটিয়ে নিচ্ছেন। এ কথা বলতে ভুলেই গিয়েছিলাম। বললে, অনেক কথাই বলা যায়, স্রোতের বিপরীতে উজানে চলা মানুষগুলোই টিকে থাকবে। আপনাদের মতো নীতিহীন কর্পোরেট পতিতারা তো চাইবেনই নতুন করে পতিতাপল্লী বাড়ুক। এতে করে শেষ বসয়ে এসে যদি কোথাও চাকরি না থাকে তখন সেখানে গিয়ে ব্যবসাটা চালিয়ে নিতে পারবেন। ব্যাপার না, কারণ পেশা হিসাবে পতিতাবৃত্তি আদি এবং সম্মানেরও। আমি অন্য সব পেশার মতোই এটাকে সম্মান করি। কেননা কাছ থেকে প্রকৃত পেটের দায়ে, পরিস্থিতির শিকার পতিতার সঙ্গে কথা বলার বহু সুযোগ হয়েছে। তাদের চোখে প্রেম, আনন্দ, ভালোবাসা কিনতে টাকা লাগে না, একটু সহানুভূতি লাগে। তাই আপনার ইচ্ছে হলে কর্পোরেট পতিতাবৃত্তি ছেড়ে রাস্তায় নামুন...দেখি আপনার সাহস কত। আর কথা বাড়াতে চাচ্ছি না। ভালো থাকুক এই নষ্ট সমাজ, ভালো থাকুন পতিতারা। কষ্ট কমুক, বৃষ্টি ঝড়ুক ভালোবাসার...ধর্ষকহীন মানবিক সমাজে সমঝোতায় প্রয়োজনীয়তা মিটানো হোক...ভালো থাকুক ওপারে ধর্ষিতারা, ক্ষমা করিস না আমাদের। কারণ আমরা ধর্ষকপল্লীতে তোদের নাম লিখে রাখবো আর সেগুলো লিঙ্গহীন ধর্ষকদের সামনে তুলে ধরবো...তখনই লিঙ্গহীন ধর্ষকরা বেঁচে থেকেও মৃত্যুর স্বাদ পাবে। 

লেখক: সিনিয়র প্রতিবেদক, ভোরের পাতা (ফেসবুক স্ট্যটাস থেকে)

Ads
Ads