রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীনকে পজিটিভ দেখছি

  • ৬-Jul-২০১৯ ১০:৩৫ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

২০১৭ সালের আগস্টের ২৫। এদিন থেকে কয়েক মাস সবিশ্ব জুড়ে খবরে খবরে ভেসেছিল রোহিঙ্গা ইস্যু। আলোচনা, সমালোচনা আর মন্তব্যের ঝড় উঠেছিলো সে সময় কী হবে এর শেষ পরিণতি, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর উপায় কী, আদৌ কি হবে প্রত্যাবাসন ইত্যাদি। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার এসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। মানবিক এই মুখগুলোর দিকে তাকিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই থেকে অদ্যাবধি রোহিঙ্গাদের থাকা, খাওয়া, অন্যান্য সুবিধা প্রদানসহ প্রত্যাবাসনের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। রোহিঙ্গা ইস্যু আন্তর্জাতিকীকরণের বিরোধী দেশ চীন সফর করে গতকাল শনিবার দুপুরে তিনি বাংলাদেশে ফিরেছেন। ৫ দিনব্যাপী এই সফরে সেদেশের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন যে, এটা একটি সাফল্য ধরে নেওয়া যেতে পারে। একমত পোষণ করতে গিয়ে ‘এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এটা (রোহিঙ্গা সমস্যা) বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সমস্যা’ বলার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে মিয়ানমারকে বোঝানোর বিষয়ে চীন আশ্বস্ত করেছে। তবে এটাই সব নয়। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আমার মতো একই মত পোষণ করবেন হয়তো অনেকেই। কারণ এবারও তারা কথার লেজ জুড়ে দিয়েছে। দুদেশকেই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান বের করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চীনা প্রধানমন্ত্রী। 

মিয়ানমার থেকে ২০১৭ সালের আগস্টে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রত্যাবাসনসংক্রান্ত ‘ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট’ নামে ৩০ দফার চুক্তির কথা এখনো স্মরণ করিয়ে দেয় মিয়ানমারের অবস্থান। ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারিতে মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে দুদেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তির দফাই প্রহসনমূলক ছিল। প্রতিদিন মাত্র ৩০০ রোহিঙ্গা ফেরত নিয়ে দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে দায়মুক্ত করতে চেয়েছিল তারা। প্রহসনমূলক এই চুক্তি অনুযায়ী যদি তারা প্রত্যাবাসনের কাজ শুরুও করত, তবে দুই বছরে ২ লাখ ২০ হাজারের মতো রোহিঙ্গা ফেরত পাঠানো সম্ভব হতো। তাহলে বাকি আরও ১৪ লাখের কাছাকাছি রোহিঙ্গা প্রশ্নে বাংলাদেশের অবস্থান কী দাঁড়াত? ভেবে দেখার বিষয়। যদিও তারা বলেছিল, এই সংখ্যা বাড়ানো হবে।

এদিকে ‘ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট’ চুক্তির আগে ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর সই হওয়া ‘অ্যারেঞ্জমেন্ট অন রিটার্ন অব ডিসপ্লেসড পার্সন্স ফ্রম রাখাইন স্টেট’ শীর্ষক চুক্তি অনুযায়ী ২৩ জানুয়ারির মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা ছিল। এভাবে মিয়ানমার বিশ্বের চোখে কালোপট্টি বেঁধে সমালোচনা, নিন্দার ঝড়কে থামিয়ে দিয়ে চাপমুক্ত হয়েছে বারবার। চীন সফরে সেদেশের প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস ওই কালোপট্টিকে খুলে দিতে পারে যদি বারবার চীনকে তার আশ্বাসের কথা মনে করে দিয়ে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যায়। 

Ads
Ads